Published : 14 Feb 2026, 05:10 PM
দুই বছরের দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর অবশেষে অ্যাপল ভিশন প্রো’র জন্য নিজস্ব বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ইউটিউব।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাপলের এ হেডসেটটি প্রথম বাজারে আসার সময় আলাদা কোনো অ্যাপ তৈরি না করে ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থার দিকেই ঝুঁকেছিল ইউটিউব। ফলে দর্শকদের ‘সাফারি’ ব্রাউজার ব্যবহার করে ইউটিউব দেখতে হত।
এতদিন যারা এ হেডসেটে ইউটিউব দেখতে চেয়েছেন তারা ‘অফলাইন ডাউনলোড’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সুবিধা পাননি। ফলে ভ্রমণের সময় বা ইন্টারনেট ছাড়া ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল ছিল।
এ অভাব পূরণ করতে ‘জুনো’র মতো কিছু থার্ড-পার্টি অ্যাপ সাময়িকভাবে ‘ভিশনওএস’-এ এসেছিল। তবে ইউটিউবের নিয়মাবলি লঙ্ঘনের কারণে দ্রুতই সেগুলো সরানো হয়েছে।
আপডেট হচ্ছে, এখন নিজেদের প্রিয় সব কনটেন্ট, যার মধ্যে সাধারণ ভিডিও এবং ইউটিউব শর্টসও রয়েছে তা একটি বড় আকারের ভার্চুয়াল স্ক্রিনে সম্পূর্ণ নিমগ্ন পরিবেশে উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
এ অ্যাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, এর ‘স্পেশাল ট্যাব’, যা থ্রিডি, ভিআর-১৮০ ও ৩৬০-ডিগ্রি ফরম্যাটের স্পেশাল বিভিন্ন ভিডিও খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
যারা ‘এম৫’ চিপওয়ালা অ্যাপলের সর্বশেষ ভিশন প্রো ব্যবহার করছেন তাদের জন্য এ অ্যাপে ‘৮কে’ ভিডিও দেখার সুবিধা রয়েছে, যা বড় ধরনের আপডেট।
এ ছাড়া, হাতের ইশারার মাধ্যমে এ নতুন ভিশনওএস অ্যাপটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারী। যেমন উইন্ডোর আকার ছোট-বড় করা বা ভিডিও টেনে সামনে-পেছনে নেওয়া।
শুরুতে ভিশনওএসের জন্য আলাদা অ্যাপ তৈরিতে ইউটিউব দ্বিধায় পড়েছিল। সম্ভবত প্লাটফর্মটি দেখতে চেয়েছিল বাজারে কতটা জনপ্রিয়তা পায় হেডসেটটি। অথচ হেডসেটটি চালুর সময় থেকেই এতে যোগ ছিল ডিজনি প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, প্যারামাউন্ট ও পিকক-এর মতো বিভিন্ন বড় স্ট্রিমিং সেবা।
তবে ইউটিউব এমন সময়ে অ্যাপল ভিশন প্রো’তে নিজস্ব অ্যাপ আনল যখন হেডসেটটিকে ঘিরে শুরুতে যে ব্যাপক উত্তেজনা বা ‘হাইপ’ ছিল তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
প্রায় এক বছর আগে অ্যাপল ভিশন প্রোতে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ওয়ালা বিভিন্ন ফিচার যোগ করা হলেও হেডসেটটি ব্যবহারের প্রতি গ্রাহকদের আশানুরূপ আগ্রহ দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক কিছু তথ্য অনুসারে, এর বিক্রি নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে কেবল ৪৫ হাজারের মতো নতুন হেডসেট বাজারে সরবরাহ হয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, চাহিদা কম থাকার কারণে এর উৎপাদন বন্ধ এবং প্রধান বাজারগুলোতে এর প্রচারণাও অনেক কমিয়েছে অ্যাপল।
ইউটিউবের এ নতুন অ্যাপটি এখন পাওয়া যাচ্ছে ভিশনওএস অ্যাপ স্টোরে, যা ‘এম২’ ও ‘এম৫’ উভয় চিপচালিত মডেলের হেডসেটেই ব্যবহার করা যাবে।