Published : 11 Oct 2025, 02:35 PM
পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ১০ লাখ বার ডাউনলোডের মাইলফলক ছুঁয়েছে এআই দিয়ে ভিডিও বানাতে সক্ষম ওপেনএআইয়ের নতুন অ্যাপ সোরা। এর মাধ্যমে ডাউনলোডের দিক থেকে চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে অ্যাপটি।
‘সোরা’ অ্যাপটি এআই দিয়ে ভিডিও বানাতে সাহায্য করে ও অনেকটাই টিকটকের মত কাজ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
সোরা প্রধান পিবলস বলেছেন, কেবল পাঁচ দিনেরও কম সময়ে ১০ লাখ বার ডাউনলোডের সীমা ছাড়িয়েছে অ্যাপটি, যা ‘চ্যাটজিপিটির থেকেও দ্রুত’।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, অ্যাপটি কেবল আমেরিকাতেই চালু হয়েছে এবং এটি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের বিশেষ আমন্ত্রণপত্র নিতে হয়। এরপরও এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে সোরা।
টিকটকের মতোই সোরা-তে ব্যবহারকারীরা একের পর এক উলম্বভাবে সাজানো ভিডিও দেখতে পারেন। তবে পার্থক্য হল, এখানকার বিভিন্ন ভিডিও ব্যবহারকারীরা আপলোড করেন না; বরং এগুলো এআই নিজে তৈরি করে।
ব্যহারকারীরা কেমন ভিডিও চান সে সম্পর্কে কেবল কয়েকটি শব্দ লিখে বা প্রম্পট দিলেই সেই লেখা থেকে ১০ সেকেন্ডের ভিডিও বানিয়ে দিতে পারে ওপেনএআইয়ের ‘সোরা ২’ মডেলটি।
এ ছাড়া, সোরা’র ‘কেমিও’ নামের বিশেষ এক ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজের মুখ বা অন্য কারও (যিনি অনুমতি দিয়েছেন) মুখ ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, যা দেখে মনে হবে যেন সেই ব্যক্তিই ভিডিওতে অভিনয় করছেন।
কোম্পানিটি সোরা’তে যে সীমিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেইল’ দিয়েছে এর ফলে এরইমধ্যে অ্যাপটি ব্যবহার করে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের ও আরও কিছু ব্যক্তির ভিডিও তৈরি হয়েছে, যা স্পষ্টভাবেই কপিরাইট লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
সোরা খুব সহজেই পরিচিত চরিত্র, যেমন পিকাচু’র মতো ভিডিও তৈরি করতে পারে। আর এমনটি দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ওপেনএআই ঠিক কী ধরনের ডেটা ব্যবহার করে এ মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বড় বড় বিভিন্ন বিনোদন কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ ও তীব্র সমালোচনা তৈরি করেছে।
সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় সোরাতে নতুন পরিবর্তন এনেছে ওপেনএআই, যেখানে ব্যবহারকারীরা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাদের চেহারা বা অবয়ব কোন ভিডিওতে ব্যবহার করা যাবে।
অল্টম্যান বলেছেন, ভবিষ্যতে কপিরাইটধারী বিভিন্ন কোম্পানিকেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেবে ওপেনএআই, যাতে তারা ‘নির্ধারণ করতে পারে তাদের তৈরি বিভিন্ন চরিত্র কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে বা আদৌ কেউ ব্যবহার করতে পারবে কি না’।
তবে সোরা চালুর সময় থেকেই এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়নি কেন তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে কোম্পানিটির নতুন এসব পরিবর্তনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন।