Published : 19 Mar 2026, 10:35 AM
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিস্ময়কর কিছু উন্নত প্রযুক্তির প্লেন তৈরির উৎস হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডারপা। তাদের নতুন উদ্ভাবনটি সেই ধারাকেই অব্যাহত রেখেছে।
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ডারপা যৌথভাবে নিয়ে আসছে ‘ভবিষ্যতের প্লেন’। এ প্রযুক্তি একইসঙ্গে হেলিকপ্টারের মতো যেকোনো জায়গায় নামতে ও জেট প্লেনের মতো প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে পারবে।
শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্প্রিন্ট এক্স-৭৬’ উন্মোচন করেছে ডারপা। এ প্রযুক্তি সামরিক বিভিন্ন প্লেনকে রানওয়ের ওপর নির্ভর না করেই উচ্চগতিতে ওড়ার সক্ষমতা দেবে।
ডারপা এই ধারণাটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল যুদ্ধক্ষেত্রের এক কঠিন সমস্যা সমাধানের কথা ভেবে যে, কীভাবে এক ‘উচ্চগতির প্লেনের প্রয়োজনীয়তা ও ধীরগতির হেলিকপ্টারের যেকোনো জায়গায় অবতরণের নমনীয়তাকে’ একসঙ্গে মেলানো যায়।
স্প্রিন্ট-এর পূর্ণরূপ ‘স্পিড অ্যান্ড রানওয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট টেকনোলজিস’। যার মূল লক্ষ্য, এমন এক নতুন ধরনের প্লেন তৈরি করা, যা জেট প্লেনের মতো প্রচণ্ড গতিতে উড়তে, আবার হেলিকপ্টারের মতো যেকোনো ছোট জায়গায় নামতে বা সেখান থেকে উড্ডয়ন করতে পারবে।
এক্স-৭৬ দেখতে কেমন হবে বর্তমানে তার কিছু নমুনা ছবি প্রকাশ করেছে ডারপা। তবে প্লেনটি তৈরির কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। বিখ্যাত কোম্পানি ‘বেল টেক্সট্রন ইনকর্পোরেটেড’ এ প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক প্লেনটি তৈরির কাজ শুরু করেছে।
এ কোম্পানিটিই বোয়িংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে বিখ্যাত ‘ভি-২২ অস্প্রে’ ও বেশ কিছু সামরিক হেলিকপ্টার তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্লেনটির নকশা সফলভাবে যাচাইয়ের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক্স-এয়ারক্রাফট’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্প্রিন্ট হচ্ছে ডারপা ও মার্কিন ‘স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড’-এর এক যৌথ কর্মসূচি। এর লক্ষ্য, সামরিক প্লেন চালনার সেই পুরানো সীমাবদ্ধতা ভেঙে ফেলা, যেখানে সাধারণত উচ্চগতির প্লেনের জন্য বড় রানওয়ে লাগে আর হেলিকপ্টারের মতো ছোট জায়গায় নামার জন্য গতি বিসর্জন দিতে হয়।
বিষয়টিকে এভিয়েশন বা প্লেন প্রযুক্তির ‘সবচেয়ে পুরানো অমীমাংসিত সমস্যা’ বলে বর্ণনা করেছে ডারপা। বর্তমানে হেলিকপ্টার বা ‘ভি-২২ অস্প্রে’র মতো কিছু যান রয়েছে, যা রানওয়ে ছাড়াই ওঠা নামা করতে পারে।
তবে এক্স ৭৬-এর লক্ষ্য, আগের সব প্রযুক্তির সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া, যা সামরিক প্লেন বাহিনীকে এমন এক ভবিষ্যতে নিয়ে যাবে, যেখানে গতি ও নমনীয়তা উভয়ই থাকবে সমান তালে।
‘স্প্রিন্ট এক্স-৭৬’ সম্পর্কে যা জানা গেছে
বর্তমানে এক্স-৭৬ ডেমোনস্ট্রেটর বা পরীক্ষামূলক প্লেনটি তৈরি ও মাটিতে এর প্রাথমিক পরীক্ষা চালানোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বেল কোম্পানি। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্লেনটি যদি নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে তবে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ তা কিনে নেবে। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ও অর্থের প্রয়োজন। ফলে এক্স-৭৬ কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের এই দীর্ঘসূত্রিতার বাইরে থেকে চিন্তা করলে ডারপা ও বেল এ পর্যন্ত এক্স-৭৬ সম্পর্কে যা কিছু প্রকাশ করেছে তার থেকে ইঙ্গিত মেলে, প্লেনটি কেবল দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, বরং তা ‘স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড’-এর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্লেনটির কাছ থেকে যেসব সক্ষমতা আশা করা হচ্ছে তা হল, এটি ঘণ্টায় ৭৪০ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি গতিতে ছুটবে, দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে স্থিরভাবে ভেসে থাকবে এবং কোনো প্রস্তুত রানওয়ে ছাড়াই এবড়োখেবড়ো জায়গা থেকে কার্যক্রম চালাতে পারবে।
তুলনায় বলা যায়, বর্তমানের বেশ ব্যয়বহুল ‘বেল বোয়িং ভি-২২ অস্প্রে’ প্লেনের গতি ঘণ্টায় ৪৪৪ কিলোমিটার। ফলে এক্স-৭৬-এর লক্ষ্য প্রচলিত রোটরচালিত বা পাখাওয়ালা বিভিন্ন প্লেনের চেয়ে গতির ব্যবধান অনেকখানি বাড়িয়ে দেওয়া।
ডারপা এর স্প্রিন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার কমান্ডার ইয়ান হিগিন্স এক্স-৭৬ সম্পর্কে বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে আমাদের জন্য একইসঙ্গে শক্তির উৎস ও গলার কাঁটা হয়ে ছিল, যা গতি দিলেও আমাদের জন্য এক বিশাল দুর্বলতা তৈরি করেছে। স্প্রিন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কেবল এক্স-প্লেন বা পরীক্ষামূলক প্লেনই তৈরি করছি না, বরং নতুন নতুন পথ বা বিকল্প তৈরি করছি।
“আমরা চেষ্টা করছি বিশ্বজুড়ে এমন সক্ষমতা তৈরি করতে, যাতে কোনো রানওয়ে ছাড়াই আচমকা আক্রমণ, দ্রুত অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো ও জীবন রক্ষাকারী গতি সবই নিশ্চিত করা যায়।”
২০২৮ সালের শুরুর দিকে এ প্লেনেরর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু হবে, যা বেল কোম্পানির দীর্ঘদিনের সফল ‘এক্স-এয়ারক্রাফট’ প্রোগ্রামগুলোর ঐতিহ্যের ধারা অনুসরণ করতে পারে।