Published : 06 Jan 2026, 11:02 AM
২০২৫ সালে তাইওয়ানের বিভিন্ন অবকাঠামোতে চীনা সাইবার আক্রমণ প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ ছিল বলে উঠে এসেছে দেশটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি বুরো বলেছে, ২০২৫ সালে হাসপাতাল থেকে শুরু করে ব্যাংক পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোয় চীনা সাইবার হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ ৩০ হাজার হামলা চলছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, দ্বীপরাষ্ট্রটিকে অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘হাইব্রিড হুমকি’ হিসেবে কিছু সাইবার হামলা সরাসরি সামরিক মহড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছিল।
রয়টার্স লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ বা বহুমুখী যুদ্ধের বিষয়ে অভিযোগ করে আসছে তাইওয়ান। যার মধ্যে রয়েছে তাইওয়ানের কাছাকাছি প্রতিদিনের সামরিক মহড়া থেকে শুরু করে ভুল তথ্য ছড়ানো ও সাইবার হামলা।
বেইজিং মূলত তাইওয়ানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েই চলেছে, যাতে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটি চীনের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়।
রোববার তাইওয়ানের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি বুরো’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদন উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে দৈনিক সাইবার হামলার গড় সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাত, জরুরি উদ্ধার সেবা ও হাসপাতালগুলোতে গত এক বছরে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সাইবার হামলার হার বেড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রথম এসব তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছে বুরোটি।
এ ধরনের প্রবণতা থেকে ইঙ্গিত মেলে, পরিকল্পিতভাবে তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অচল করার চেষ্টা করছে চীন। দেশটির মূল উদ্দেশ্য তাইওয়ান সরকার ও সামাজিক কার্যকলাপে বিঘ্ন ঘটানো বা সেগুলোকে অচল করে দেওয়া।
বুরো বলেছে, নিজেদের বিভিন্ন সাইবার হামলাকে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করছে চীনের ‘সাইবার বাহিনী’। চীন যখন তাইওয়ানের কাছাকাছি যুদ্ধবিমান ও জাহাজ পাঠিয়ে ৪০ বার ‘যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল’ চালিয়েছিল তখনও ২৩ বারই দেখা গেছে, এ সময়ে দেশটিতে সাইবার হামলার সংখ্যাও বহুগুণ বেড়েছে।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিভিন্ন মুহূর্ততেও তাইওয়ানের হ্যাকিং কার্যক্রম জোরদার করেছে চীন। গেল বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট লাই চিংয়ের দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ভাষণের সময় এবং নভেম্বরে ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বি-খিম ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্যের সময়ও দেশটিতে সাইবার হামলা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
বুরো বলেছে, “চীনের এসব পদক্ষেপ তাদের কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল উদ্দেশ্য যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন উভয় অবস্থাতেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে হাইব্রিড হুমকি বা বহুমুখী যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করা।”
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর। এদিকে, তাইওয়ানে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে চীন।
বুরোর প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, চীনের এসব সাইবার হামলার মধ্যে ছিল ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল-অফ-সার্ভিস’ আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য তাইওয়ানের জনজীবন বিপর্যস্ত করা। এ ছাড়া তথ্য চুরি ও দেশটির টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের জন্য ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ সাইবার আক্রমণও চালিয়েছে সাইবার অপরাধীরা।