Published : 10 Aug 2025, 03:02 PM
ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে এত তথ্য জানে যে অনেক সময় তা ব্যবহারকারীর বন্ধুদের থেকেও বেশি মনে হয়। অনলাইনে কোনো ব্যক্তি যখন প্যারিসে ভ্রমণের খোঁজ করেন তখন কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক ফিডে ফ্রান্সের হোটেল, টুরিস্ট স্পট আর বেড়ানোর প্যাকেজের বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ব্রাউজারের ইনকগনিটো বা প্রাইভেট মোড ব্যবহার করার কথা ভাবেন। তবে এই মোডেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’।
ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্টাফ টেকনোলজিস্ট সেথ শোয়েন বলেন, প্রাইভেট ব্রাউজিং প্রথম চালু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত ছিলেন এটি কি শেয়ার করা ডিভাইসের তথ্য অন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে, ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে নাকি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে অনলাইন কার্যকলাপ আড়াল করে?
তার মতে প্রাইভেট ব্রাউজিং মোড শেয়ার করা ডিভাইসের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে কিছুটা সুরক্ষা দেয় আর ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীর ক্ষেত্রে একেবারেই কোনো প্রভাব ফেলে না। ব্রাউজার ডেভেলপাররা বিষয়টি ব্যবহারকারীর কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলেই সম্পূর্ণ গোপন হওয়া যায় না। এটি অনলাইনে অদৃশ্য হওয়ার কোনো বিশেষ ক্ষমতা নয়।
এই মোড, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীকে অনলাইন কার্যকলাপ দেখা থেকে আটকাতে পারে না। পরিদর্শন করা ওয়েবসাইটগুলোর কাছ থেকেও অবস্থান গোপন থাকে না। গুগল অ্যাকাউন্টে লগডইন করা অবস্থায় ইনকগনিটো মোডে সার্চ করলে, গুগল তখনও সেই সার্চের তথ্য সংরক্ষণ করে।
২০১৮ সালের এক গবেষণায় উঠে আসে, প্রাইভেট ব্রাউজিং নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেছিলেন প্রাইভেট মোডে সার্চ করলে তা সংরক্ষিত হয় না যদিও তারা গুগল অ্যাকাউন্টে লগডইন ছিলেন। ৪০ শতাংশ মনে করেছিলেন, অবস্থান গোপন থাকে। আরও ২৭ শতাংশের ধারণা ছিল, প্রাইভেট মোড ম্যালওয়্যার ও ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। আসলে এর কোনোটিই সত্য নয়।
তবে প্রাইভেট মোডের কিছু কার্যকর দিক রয়েছে যেমন, সার্চ হিস্ট্রি অন্য কেউ দেখতে পারে না। কিছু ক্ষেত্রে এটি এমন সীমাবদ্ধতা এড়াতে সহায়ক হয়, যেগুলো কেবল সদস্যদের জন্য কনটেন্ট পড়ার সুযোগ দেয়।
প্রাইভেট ব্রাউজিং অ্যালগরিদমের প্রভাবও কিছুটা কমায়, যাতে সার্চ ফলাফল আগের ব্যবহারভিত্তিক ধারণায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের বিরক্তিকর ট্র্যাকিং থেকেও কিছুটা মুক্তি দেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বন্ধু যদি দ্রুত নিজের ফেইসবুক চেক করতে চায়, তবে ইনকগনিটো মোডে লগইন করে নিতে পারে, পূর্বের সেশন থেকে লগআউট না করেই।
অনলাইনে আরও ভালোভাবে গোপন থাকার উপায়
সত্যিকার অর্থে অনলাইনে গোপন থাকতে চাইলে শুধু প্রাইভেট মোড ব্যবহার করলেই হবে না। শোয়েনের মতে, সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন এবং টর। এগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যোগাযোগকে মধ্যবর্তী সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে, যাতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী অনলাইনে ঠিক কী করা হচ্ছে তা কম জানতে পারে এবং ব্যবহারকারী যেসব ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, সে সাইটগুলো ব্যবহারকারীকে ততটা শনাক্ত করতে পারে না।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এগুলো কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, যা ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞাতপরিচয় করে ফেলবে।
“এই দুই সমাধান নিয়েও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যদিও কারা কী দেখতে পায়, তার প্রযুক্তিগত বিশদ প্রাইভেট ব্রাউজিং মোডের থেকে আলাদা, তবুও এই বিশদ তথ্যগুলো থাকে, আর ব্যবহারকারীদের উচিত এগুলোর ওপর নির্ভর করার আগে এর সম্পর্কে জানাশোনা রাখা।”
তবে সামান্য কিছু গবেষণা করলেই অনলাইনে আরও ভালো গোপনীয়তা জোরদার করা সম্ভব। এতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আরও সুরক্ষিত রাখা যাবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিতে ভরা নেটওয়ার্কে কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।