Published : 07 Feb 2026, 03:37 PM
স্মৃতি ধরে রাখতে আর প্রফেশনাল ক্যামেরার ওপর নির্ভর করতে হবে না নভোচারীদের। শুনতে অবাক লাগলেও কয়েক দশকের পুরোনো প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো মহাকাশে নভোচারীদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন সঙ্গে রাখার অনুমতি দিচ্ছে নাসা।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ লিখেছে, আসন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ক্রু-১২ মিশন ও বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস ২ মিশনে দেখা যাবে আধুনিক প্রযুক্তির এ নতুন ঝলক, যেখানে পৃথিবী থেকে লাখো মাইল দূরে দাঁড়িয়ে নভোচারীরা নিজেদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন মহাকাশের রোমাঞ্চকর সব মুহূর্ত।
ক্রু-১২ আগামী সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। অন্যদিকে, বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস ২ মিশন, যা ১৯৬০-এর দশকের পর এ প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে নিয়ে যাবে তার সময় পিছিয়ে এ বছরের মার্চে নির্ধারণ করেছে নাসা।
নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমাদের কর্মীদের আমরা এমন কিছু সরঞ্জাম দিচ্ছি যাতে তারা তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে এবং গোটা বিশ্বের সঙ্গে অনুপ্রেরণামূলক ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে পারেন।”
হাতে থাকা একদম নতুন মডেলের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে নভোচারীরা এখন আরও দ্রুত ছবি ও ভিডিও করতে পারবেন। এর মানে, যারা পৃথিবীতে আছেন তাদের জন্য নাসার এই আসন্ন মহাকাশ যাত্রাগুলো হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ বা ধারণ করা ভ্রমণের একটি।
নভোচারীরা যদি শূন্য মাধ্যাকর্ষণে টিকটক স্টার বা মহাকাশযানের ভেতরে আল্ট্রা-ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল সেলফি তোলেন তবে বিষয়টি দারুণ ও অসাধারণ হবে!
এদিকে, যারা সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মাঝে কাজ করেন তাদের কাছেও বিষয়টি সমানভাবে রোমাঞ্চকর। কারণ বেশ দ্রুততার সঙ্গেই এ নিয়মের পরিবর্তন অনুমোদন করেছে নাসা।
আইজ্যাকম্যান আরও লিখেছেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা পুরানো ধ্যান-ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছি এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আধুনিক বিভিন্ন হার্ডওয়্যারকে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য উপযোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি। আমাদের এ কাজের দ্রুততা নাসাকে ভবিষ্যতে পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের পৃষ্ঠে বিজ্ঞান ও গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে দারুণভাবে সাহায্য করবে।”
মহাকাশে নতুন কোনো প্রযুক্তি পাঠানোর অনুমতি মেলা কঠিন হবে এমনটিই স্বাভাবিক। কারণ সামান্য ছোট জিনিসের গোলমালের কারণেও মহাকাশ যাত্রা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
‘আর্স টেকনিকা’র তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত এসব মিশনে যেসব আধুনিক ক্যামেরা পাঠানোর কথা ছিল সেগুলো মূলত এক দশক পুরানো ‘নিকন ডিএসএলআর’ ও ‘গোপ্রো’। এগুলো খুব পুরানো প্রযুক্তি না হলেও স্মার্টফোন ব্যবহারের মধ্যে এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা ও মজার ব্যাপার রয়েছে, যা অন্য কিছুতে মেলে না।
তবে স্মার্টফোন মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এবারই প্রথমবার নয়। এর আগে, ব্যক্তিগত বিভিন্ন মিশনে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স।