Published : 04 Jul 2025, 02:36 PM
বৈষম্য, যৌন হয়রানি ও প্রতিশোধপরায়ণতার অভিযোগে স্পেসএক্স ও এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কোম্পানিটির এক সাবেক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক।
২০২২ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর সিনিয়র কনট্র্যাক্টর প্রোগ্রাম সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পান জেনা শামওয়ে। শামওয়ে অভিযোগ করছেন, কোম্পানির জ্যেষ্ঠ কর্মী ড্যানিয়েল কলিন্স বেশকিছু নীতিমালার লঙ্ঘন করেছেন এবং পরবর্তীতে এ তথ্য সরকারের কাছে গোপন করেছেন। কলিন্স কোম্পানিটির সরকারি প্রকল্পে সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স পরিচালনার জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন।
২০২৪ এর ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, স্পেসএক্স নিরাপত্তা প্রটোকলে ত্রুটির জন্য ফেডারেল পর্যালোচনার মধ্যে ছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, কলিন্স ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ লঙ্ঘন বিষয়ে কোম্পানিতে রিপোর্ট করাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এবং যথাযথ ছাড়পত্র নেই এমন ব্যক্তিদের নির্বাহীদের গোপন মিটিংয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এই অভিযোগ ও আরও কিছু বিষয়ে অন্তত তিনটি ফেডারেল তদন্ত শুরু হয় কোম্পানিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
শামওয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যে পরিচালক পদে আগ্রহী ছিলেন সে পদে তাকে আবেদন করার সুযোগই দেওয়া হয়নি। আর ওই পদে নিয়োগ পান কলিন্স। ২০২৪ সালের বসন্তে কলিন্স ওই উর্ধ্বতন পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তার কর্ম পরিবেশই বদলে যায়।
শামওয়ের দাবি, কলিন্স তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক আরচণ শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল তার কাজের আওতা ক্রমশ কমিয়ে আনা। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কলিন্স অন্যান্য নারী কর্মীদের ওপরও হয়রানি চালিয়ে যান। তার এ ধরনের কাজের মধ্যে ছিল নারী কর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা যেন তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভঙ্গের ফাঁদে ফেলা যায়। মিটিং চলাকালীন তাদের বুকের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং অধস্তন এক নারী কর্মীকে ‘মদ্যপানের পর শারীরিক ঘনিষ্টতার' প্রস্তাব দেওয়া।
মামলায় বলা হয়, শামওয়েসহ অন্যান্য নারী কর্মীরা কলিন্সের বিষয়ে স্পেসএক্সের মানবসম্পদ বিভাগে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছিলেন। কোম্পানি ওই অভিযোগগুলো এড়িয়ে গিয়েছে এবং তাদের কলিন্সের সঙ্গে একা না থাকার পরামর্শ দেওয়া ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগে এই প্রথম যে স্পেসএক্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এমন নয়। এর আগের মামলাগুলোতেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও নেতিবাচক কর্মপরিবেশের অভিযোগ উঠেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চ।
একই ধরনের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার সিভিল রাইটস ডিপার্টমেন্ট ও ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডের সঙ্গে লড়াই করছে স্পেসএক্স।
শামওয়ে, কলিন্স ও স্পেসএক্সের আইনজীবীরা মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।