Published : 12 Jan 2026, 03:59 PM
কোনো দেশের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান দেখা দিলে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের তৈরি হতে পারে। তবে সাধারণত এতে ভয়ের কিছু থাকে না। প্রায়শই বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের এসব যাতায়াত আসলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ারই অংশ, যা বিভিন্ন মিত্র দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো বৈশ্বিক সংঘাত বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বড় আকারের বিভিন্ন রণকৌশল বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই বিভিন্ন সামরিক বাহিনী একসঙ্গে প্লেন চালানো, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং একে অপরের যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহারে অভিজ্ঞতা পেতে পারে। এ কারণেই এসব দেশের মধ্যে প্রায়ই যৌথ সামরিক মহড়া হয়।
এক্ষেত্রে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানি যুদ্ধবিমান ও সামরিক কর্মীরা সাময়িকভাবে ইউরোপের ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনী ঘাঁটি ‘আরএএফ কনিংসবি’তে অবস্থান করেছিলেন।
জাপানি বাহিনী ‘আটলান্টিক ইগলস’ নামের এক মিশনের অংশ হিসেবে জার্মানি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও সফর করেছে, যা ছিল তাদের মিত্র দেশগুলোতে এক ধরনের ঝটিকা সফর।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব যুদ্ধবিমানের অভিযানকে ‘উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাপানের ‘এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স’। এ সফরের মূল উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া যে, অনেকগুলো দেশ মিলে এসব অঞ্চলে টহল দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও রয়েছে।
নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের কারণেই এ মিশনের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক কর্মী ও প্লেন নির্বাচন করেছিল জাপান। কারণ, প্লেনের সংখ্যার দিক থেকে জাপানের বিমান বাহিনী বিশ্বের অন্যতম বড় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযানের জন্য নির্বাচিত সামরিক কর্মী ও প্লেনের সংখ্যার বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাপানি বিমান বাহিনীর প্রায় ১৮০ জন সদস্য এই মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।
এ অভিযানে মোট আটটি প্লেন ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাহিনীর ১ম ও ৩য় ট্যাকটিক্যাল এয়ারলিফট উইং, ২য় ট্যাকটিক্যাল এয়ারলিফট গ্রুপ এবং ২য় এয়ার উইং থেকে নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে শেষটি ২য় এয়ার উইং থেকে চারটি ‘এফ-১৫’ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ব্রিটিশ রয়াল এয়ার ফোর্সের তথ্য অনুসারে, জাপানি বিমান বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল মোরিতা তাকেহিরো এ বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বলেছেন, “আমরা এই মিশনের নাম দিয়েছি আটলান্টিক ইগলস, যা আমাদের বিভিন্ন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে ডানা মেলার প্রতীক।”
তবে দেশটি একাই নিজেদের ডানা মেলেনি। এসব যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এ বহরে ছিল দুটি ‘সি-২’ বা কাওয়াসাকি নির্মিত এক দূরপাল্লার পরিবহন প্লেন, যা ২০১৭ সাল থেকে জাপানি বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সঙ্গে আরও ছিল জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনে দক্ষ বিশেষ বিমান মার্কিন প্লেন নির্মাতা বোয়িংয়ের শক্তিশালী ‘কেসি-৪৬এ’, যা পেগাসাস নামে পরিচিত এবং ‘কেসি-৭৬৭, যেটি জাপান ও ইতালির মতো মিত্র দেশগুলোর জন্য বোয়িং তৈরি করেছে।
‘আরএএফ কনিংসবি’ ছাড়াও আরও তিনটি স্থানে যৌথ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে, যা মধ্যে রয়েছে জার্মানির ‘ল্যাগ এয়ার বেইস’, কানাডার ‘সিএফবি গুজ বে’ ও আলাস্কার ‘আইয়েলসন এয়ার ফোর্স বেইস’।
১৯৫৪ সালে জাপানি বিমান বাহিনী একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এ মিশনের আগে কখনোই ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে বা কানাডায় নিজেদের বাহিনী মোতায়েন করেনি।