Published : 07 Mar 2026, 04:35 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিককে সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে পেন্টাগন। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে এমন তকমা দিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে এবার পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে এআই কোম্পানিটি।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রপিককে সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় তা নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
মার্কিন সামরিক সদরদপ্তরটি প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন কোম্পানিকেই সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করল, যার মানে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করছে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ নয় অ্যানথ্রপিক।
গণ-নজরদারি ও অটোনমাস অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের আশঙ্কায় অ্যানথ্রপিক বিভিন্ন মার্কিন সংস্থাকে তাদের এআই টুল ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেছিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই কোম্পানিটি এখন সরকারের সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার দিকে এগোচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই বলেছেন, “সরকারের এই পদক্ষেপকে আইনসম্মত মনে করার কোনো কারণ নেই। ফলে, আদালতে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।”
বৃহস্পতিবার সকালেই এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, অ্যানথ্রপিকের সরবরাহ শৃঙ্খলের এ ঝুঁকির বিষয়টি ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে।
কোম্পানিটির প্রধান দারিও অ্যামোদেই বলেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অ্যানথ্রপিককে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তবে, ওই ঝুঁকি সীমিত বলে উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।
অ্যামোদেই বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষার লক্ষ্য পূরণে আইনে সবচেয়ে কম সীমাবদ্ধতামূলক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। তাই প্রয়োজনের বাইরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
“যুদ্ধ বিভাগের ঠিকাদারদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ক্লড ব্যবহার বা অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ককে সীমিত করতে পারে না (এবং পারবেও না), যদি সেগুলো তাদের নির্দিষ্ট যুদ্ধ বিভাগীয় চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়।”
গত কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধ বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় ছিল এআই নির্মাতা কোম্পানিটি।
অ্যানথ্রপিকের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। এর আংশিক কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যদের জনসমক্ষে কোম্পানিটির প্রতি তীব্র সমালোচনা।
সপ্তাহব্যাপী নানা আলোচনার পর গত সপ্তাহেও অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমান ছিল, দুই পক্ষ একটি সমাধানে পৌঁছাবে।
তবে এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে সব ধরনের ফেডারেল সংস্থাকে অ্যানথ্রপিকের এআই টুল ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
শুক্রবার এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আমাদের অ্যানথ্রপিকের প্রয়োজন নেই, আমরা এদের এআই মডেল চাই না এবং তাদের সঙ্গে আর কোনো ব্যবসা করব না আমরা।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, অ্যানথ্রপিককে ‘অবিলম্বে’ সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ফলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা যে কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে ‘অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম’ও নিষিদ্ধ হবে।
অ্যানথ্রোপিক বলেছে, হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এ ধরনের বিবৃতির বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
আলোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির মতে, অ্যানথ্রপিকের ভেতরে ধারণা তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ তাদের অপছন্দ করেন।
এর কারণ হতে পারে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী সেইসব প্রযুক্তি নেতাদের মধ্যে নেই যারা ট্রাম্পকে মোটা অংকের অনুদান দিয়েছেন বা প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট বলেছে, গ্রাহকদের জন্য নিজেদের বিভিন্ন পণ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার চালিয়ে যাবে তারা। তবে কেবল মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের ক্ষেত্রে এমনটি প্রযোজ্য হবে না।
এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট বলেছে, “আমাদের আইনজীবীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন এবং এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আমাদের গ্রাহকদের জন্য ক্লড’সহ অ্যানথ্রপিকের অন্যান্য পণ্য ব্যবহারের ধারা অব্যাহত থাকবে।
“আমরা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কাজ করা চালিয়ে যাব।”
‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ বা যুদ্ধ বিভাগ হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নতুন নাম, যা ট্রাম্প দিয়েছেন।