Published : 01 Apr 2026, 05:35 PM
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ আরও কঠোর করতে এবার ভিপিএনের ওপর চড়াও হচ্ছে পুতিন প্রশাসন। ইউক্রেইন যুদ্ধের আবহে তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ওয়েবসাইটের নাগাল বন্ধে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে রাশিয়া।
দেশটির ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়া এবার ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের ওপর কড়াকড়ি আরও বাড়াতে চলেছে।
রাশিয়ার লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে ইন্টারনেটে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপ এড়াতে এ টুলটি ব্যবহার করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, কূটনীতিকরা রাশিয়ার এ পদক্ষেপকে ‘মহা দমনপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যার আওতায় কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে বারবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও জনপ্রিয় বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের সেবা ব্যাহত করেছে।
পাশাপাশি, গণযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপক সক্ষমতাও এখন রাশিয়া কর্তৃপক্ষের হাতে।
সোমবার দেশটির ডিজিটাল মন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভ বলেছেন, “মূল লক্ষ্য ভিপিএনের ব্যবহার কমিয়ে আনা।”
তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর খুব বেশি প্রভাব না ফেলে এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকরের চেষ্টা করছে না তার মন্ত্রণালয়। নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে সেগুলোর নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
২০২২ সালে ইউক্রেইনে হামলার পর থেকে রাশিয়া সোভিয়েত আমলের মতো কঠোর সব আইন চালু করেছে। এর ফলে ইন্টারনেটে কড়া সেন্সরশিপ আরোপ ও রাশিয়ার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি, যা সাবেক কেজিবি’র উত্তরসূরি তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া এসব পদক্ষেপ আরও জোরদার করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক, টেলিগ্রামের গতি কমিয়ে দেওয়া এবং মস্কোসহ অন্যান্য শহর ও অঞ্চলে বারবার মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করেছে দেশটি।
ক্রেমলিনের দাবি, বিদেশি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রাশিয়ার আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউক্রেইনের ড্রোন হামলা ঠেকানোর জন্যই মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর এ বিধিনিষেধ প্রয়োজন।
রাশিয়ার ‘কোমারসান্ত’ পত্রিকার তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত রাশিয়া চারশরও বেশি ভিপিএন ব্লক করেছে, যা গত বছরের শেষদিকের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।
তবে, বিষয়টি অনেকটা ইঁদুর-বেড়াল খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছে, কর্তৃপক্ষ যখনই ভিপিএন বন্ধ করে দিচ্ছে তখনই আরেকটি নতুন ভিপিএন সামনে চলে আসছে। রাশিয়ার অনেক তরুণ নাগরিক এখন প্রতিদিন তাদের ভিপিএন পরিবর্তন করে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
মার্চের শুরুতে কেন্দ্রীয় মস্কোর মোবাইল ফোনগুলোতে অনেক বিদেশি ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয়। এ বিধিনিষেধের কবলে পড়ে রাশিয়ার রাজধানী এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অচল হয়ে ছিল, যা লাখ লাখ বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে এবং মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ব্যবসাকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেইনীয় ড্রোন হামলা ঠেকানোর জন্য এসব বিধিনিষেধ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
তবে অনেক শিল্প বিশেষজ্ঞের ধারণা, ক্রেমলিন যদি ভবিষ্যতে রাশিয়ানদের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট বা গ্লোবাল ওয়েব পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপ আসলে সে লক্ষেরই প্রস্তুতি পর্ব।