Published : 08 Mar 2026, 04:03 PM
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কার মধ্যে বড় ধস দেখল ঢাকার পুঁজিবাজার।
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩১ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসা চালানো নিয়ে শঙ্কা থেকে বাজারে দর পতন শুরু হয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৯ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল। সে মাসেরই ১ তারিখে হারিয়েছিল ২৩৬ পয়েন্ট।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৩ মার্চ প্রথমবারের মত বড় পতন ঘটে পুঁজিবাজারে। সেদিন সূচক হারায় ২০৮ পয়েন্ট। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও ৮২ পয়েন্ট কমে যায় সূচক।
নতুন সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার দিনের শুরুতে সূচকে যে পতন শুরু হয়, তা চলতে থাকে শেষ বেলা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে ১০টা ও বেলা সাড়ে ১২টায় দুই দফায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হলেও বিক্রির চাপে তা স্থায়ী হয়নি।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় সারা বিশ্বেই পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অর্থনীতি তো ভালো নেই মধ্যপ্রাচ্যর সংকটের কারণে। যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধের খবর। জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে কোম্পানি ব্যবসা করবে কেমনে, তাই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে। কে কিনবে, এমনিতেই ভালো কোম্পানি নাই।”
পুঁজিবাজারের এ পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবও থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের পদ নিয়েও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নানা ধরনের বার্তা ছড়াচ্ছে।
রোববার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১০টির শেয়ারের। ৩৭১টি, বা ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। ৯টি কোম্পানির শেয়ার আগের দরে হাতবদল হয়েছে।
ডিএসইতে এদিন ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ৪৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার।
দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাটা সু ও হাওয়ায়েল টেক্সটাইলসের শেয়ারের।
অন্যদিকে দর হারানোর শীর্ষে ছিল আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, দুলামিয়া কটন ও এসএস স্টিল।