Published : 11 Jan 2026, 12:54 AM
রাজধানীর গুলশানে প্রধান কার্যালয়ের লাগায়ো একটি প্লট উচ্চ মূল্যে কিনছে দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি; যেখানে ২৮ তলা বহুতল ভবন বানানোর পরিকল্পনা তাদের। জমি কেনাসহ এজন্য এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরেছে বেসরকারি ব্যাংকটি।
দরদাম শেষে ব্যাংকটি ২০ কাঠা জমির ওই প্লট ৩৪৫ কোটি টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি।
আর নতুন ভবন নির্মাণে ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ব্যাংকটি।
নতুন প্লট ও বর্তমান ভবন থাকা ২০ কাঠার প্লট মিলিয়ে ৪০ কাঠার ওপর ব্যাংকের ব্যবহারের জন্য ওই ২৮ তলার ভবনটি করার কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
উচ্চ মূ্ল্যের জমি কেনার বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, বাজার যাচাই, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে জমিটি কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে গড়ে প্রতি কাঠা জমির দাম ১৬-১৮ কোটি টাকা।
জমি কেনার আগে প্রস্তাবিত দর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরেজমিনে যাচাই করা হয় বলেও দাবি তার।
রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সিইএন (সি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে আট তলা ভবনে ২০০৯ সাল থেকে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
গুলশান-১ এর চেয়ে গুলশান-২ এলাকায় জমির দাম তুলনামূলক বেশি দাবি করে এমডি মাসুরুর আরেফিন বলেন, আরো কয়েকজন ক্রেতা চেয়েছিলেন জমিটি নিতে। ব্যাংকের নিজস্ব জমির পাশেই হওয়ায় অবস্থানগত কারণে উক্ত জমিটির গুরুত্ব অত্যন্ত বিশেষ, যা অন্যকোনো স্থানে হলে একইভাবে প্রযোজ্য হত না।
“আমাদের হেড অফিসের সঙ্গে হওয়ায় জমিটি কেনা হয় দর কষাকষি করে। জমির দর যাচাই করে কেনা ও দৃষ্টি নন্দন হওয়ায় ভবন নির্মাণের ব্যয়টি পর্যালোচনা করেছে পরিচালক পর্ষদ।’’
ঢাকা স্টক একচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ঘোষণায় ব্যাংকটি বলেছে, গত ৬ জানুয়ারি নতুন প্লট কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পেয়েছে ব্যাংকটি। অপরদিকে ভবন নির্মাণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি পাওয়ার পর অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার কথা বলেছে ব্যাংকটি।
সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, জমির দাম যাচাই করতে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেয় ব্যাংকটি। এর মধ্যে সিটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশন কোম্পানির মূল্যয়নে প্রতি কাঠা জমির দাম সাড়ে ১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়। এতে জমি কেনার খরচ দাঁড়াত ৩৫০ কোটি টাকা।
অন্য আরেক প্রতিষ্ঠান নান্দনিক বাংলাদেশের মূল্যায়নে প্রতি কাঠার দাম ধরা হয় ১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট জমির দাম প্রতিষ্ঠানটি দেখায় ৩৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সিটি ব্যাংক প্রতি কাঠা ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কিনছে। এর বাইরে ১৫ কোটি টাকা খরচ ধরা হয় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।
এর আগে অতিরিক্ত ব্যয়ে ভবন কেনা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিল বেসরকারি আরেক ব্যাংক ডাচ্-বাংলা। মতিঝিলে যেভবন ভাড়া করে কার্যক্রম চালাচ্ছিল ডাচ্-বাংলা, সেটির পুরোটা ১০১৬ কোটি টাকায় কিনতে ব্যাংকটির আবেদন বাতিল করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে ৪৭ নম্বর প্লটে সাড়ে ২১ তলার ভবনের বেশ কয়েকটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ব্যাংকটি।
২ লাখ ৭ হাজার ৩৪০ বর্গফুট আয়তনের ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ বর্গফুট মেঝের জায়গা এবং ৩১ হাজার ৪০ বর্গফুট বেইজমেন্ট।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে এমন পরিকল্পনার কথা জানানোর পর অতিরিক্ত ব্যয়ে ভবন কেনা নিয়ে সমালোচনায় পড়ে ব্যাংকটি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ভবন কেনায় আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।
সেই আপত্তির পর ওই প্রস্তাব বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক।