Published : 14 Jun 2026, 08:53 AM
ফুটবলে পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রেখে এগিয়ে চলেছেন নেদারল্যান্ডস ডিফেন্ডার ইয়ান পল ফন হেকে। এখন সফল পথচলাও এগিয়ে নিতে বিশ্বকাপে শেষ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে তার ও তার দলকে। তার মামা ইয়ান পোর্টফ্লিট যে খেলেছিলেন ১৯৭৮ আসরের ফাইনালে।
সেবার অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেছিল নেদারল্যান্ডস।
এবার ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলতে পারেন ফন-হেকে। ম্যাচের আগে বললেন, বিশ্বকাপ নিয়ে কতটা রোমাঞ্চিত তিনি।
“ভীষণ গর্বিত, এখানে থাকতে পারাটাই অসাধারণ ব্যাপার।”
চোটের জন্য আর্সেনালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউরিয়েন টিম্বার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় মূলত একাদশের দুয়ার খুলে যাচ্ছে ফন হেকের জন্য। সতীর্থর কষ্টটাও বুঝতে পারছেন তিনি।
“এটা আমার স্বপ্ন, কিন্তু এটা তারও স্বপ্ন ছিল। খুবই দুঃখজনক যে তার স্বপ্নটা ভেঙে গেছে।”
প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৭৮ সালে ডাচ দলে জায়গা পেয়েছিলেন তার মামা পোর্টফ্লিট। টুর্নামেন্টের দুই সপ্তাহ আগে দেশের হয়ে অভিষেক হয় তার, হুট করেই জায়গা পেয়ে যান বিশ্বকাপ দলে।
প্রথম পছন্দের লেফট-ব্যাক উগো উফেনকাম্প চোট পেলে একাদশেও জায়গা পেয়ে যান পোর্টফ্লিট। ডাচ টেলিভিশন চ্যানেল এনওএসকে সেই সময় নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “উগো জীবনের সেরা ছন্দে ছিলেন। তবে কখনও কখনও এমন কিছু ঘটে।”
পোর্টফ্লিট ওই আসরে ছয় ম্যাচে খেলেন। লেফট-ব্যাক, রাইট-ব্যাক ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সামর্থ্য দেখান তিনি।
পোর্টফ্লিটের বয়স এখন ৭০। অনেকগুলো ডাচ দলকে কোচিং করিয়েছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে ভাগ্নে ফন হেকের কোচ ছিলেন তিনি। এখন ব্রাইটন ও হোভ অ্যালবিয়নে খেলা ডিফেন্ডারকে নিয়ে বললেন সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা।
“এমনকি তখনও প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প ছিল তার। ইয়ান পল খুব স্থির, তাকে পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভব, সেটা যেমন ফুটবলে, তেমনি জীবনেও। তার অর্জনগুলো আকর্ষণীয়। হঠাৎ করে হয়তো একটা বাজে ম্যাচ খেলতে পারে, তবে এরপরও মনোযোগী থাকে।”
গত সপ্ততে ফন হেকে বলেছিলেন, জাপানের বিপক্ষে কঠিন লড়াই আশা করছেন তিনি।
“আমরা শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরু করব। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (জাপানের) ১-০ ব্যবধানের জয়ই ওদের সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেয়। আমার মতে, আমার (ক্লাব) সতীর্থ (কাউরু) মিতোমা ওদের সেরা খেলোয়াড়।”
“তার জন্য আমি খুবই দুঃখিত যে, চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে হয়েছে তাকে। তবে মিতোমাকে ছাড়াও জাপানের দল শক্তিশালী।”
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ২টায় ডালাসে শুরু হবে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ম্যাচ।