Published : 11 Jun 2026, 07:43 PM
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ইরাককে, দিতে হয়েছে ধৈর্য্যের পরীক্ষাও। দুই বছর ধরে ২১টি ম্যাচ খেলে, নানা চড়াই-উৎরাই পেরুনোর পরই তারা পেয়েছে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের টিকেট। আসরের ৪৮ দলের মধ্যে ইরাকই সহ্য করেছে দীর্ঘ বাছাই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম। তাতে যেন তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে কয়েক গুণ। দলটির মিডফিল্ডার আল আম্মারি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, এবার ইরাক দেখাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সামর্থ্য।
একটা সময়, বিশেষ করে, এশিয়ান ফুটবলে সাফল্যের চূড়াতেই ছিল ইরাক। ২০০৭ এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় শক্ত ভীতে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। বৈশ্বিক আঙিনায়ও তাদের পা পড়েনি ১৯৮৬ সালের পর থেকে। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে দলটি।
‘আই’ গ্রুপে পড়েছে ইরাক। তাদের সঙ্গে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়েকে নিয়ে এটা অনেকের চোখে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ। আগামী বুধবার ভোরে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হবে ইরাকের।
বিশ্বকাপ যাত্রায় ইরাক অনেক বেশি প্রত্যাশা নিয়েই তাকিয়ে থাকবে আম্মারির দিকে। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সাম্প্রতিক সময়ে দলের নির্ভরতা হয়ে উঠেছেন। খেলছেন পোল্যান্ডের ক্লাব ক্রাকোভিয়াতে। এখন তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর বিশ্বকাপে বিশ্বের বড় তারকাদের মুখোমুখি হওয়ার। একটু কী ভয় পাচ্ছেন আম্মার?
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে বছরের পর বছর চলা সংগ্রামী ইরাকিদের দৃঢ় মানসিকতাই ফুটে উঠল আম্মারের কণ্ঠে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা এই মিডফিল্ডার বললেন, মোটেও ভীত নন তিনি, দিনশেষে ফুটবল স্রেফ দুই দলের লড়াই। গ্রুপ পর্ব থেকে তিন দলের পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকায় দল নিয়ে আরও আশাবাদী তিনি।
“আমি মনে করি, আমরা সবাইকে আমাদের (দৃঢ়) মানসিকতার প্রমাণ দিতে পারব। কেবল মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও আমরা যত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাই, যেকোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে ইরাক সবসময় ঘুরে দাঁড়ায়, সেটা দেখিয়ে দেব। একজন ইরাকির কতটা সাহস ও শক্তি আছে, সেটা দেখানোর মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামব আমরা।”
“অবশ্যই (সুযোগ আছে পরের ধাপে যাওয়ার)। আমি মনে করি, একটি করে ম্যাচ ধরে খেলার মানসিকতা নিয়ে আমাদের এগুনো উচিত। চারপাশে যা ঘটছে, লড়াই কত কঠিন, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত নয়। এটা স্রেফ একটা ৯০ মিনিটের খেলা এবং আগেই যেটা বলেছি, এটা ১১ বনাম ১১ জনের লড়াই। তাই আমার কাছে বিষয়টা হলো, প্রতি ম্যাচ ধরে এগোনো। এরপর দেখা যাবে, কতদূর যেতে পারি আমরা। তবে, (এই মঞ্চে) শুধু মাঠে পা রাখতে পারার জন্যই গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের।”