Published : 18 Jul 2026, 07:56 PM
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিদায় নিলেও ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের ওপর আস্থা হারাননি ওয়েইন রুনি। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের মতে, জার্মান কোচকেই দায়িত্বে রাখা উচিত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)। তবে পেপ গুয়ার্দিওলাকে পাওয়া গেলেই কেবল সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেছেন তিনি।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৮৪তম মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় ইংল্যান্ড। সাত মিনিটে তাদের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে, ২-১ ব্যবধানের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে টুখেলের কৌশল নিয়ে হয় প্রবল সমালোচনা। বদলি খেলোয়াড় নামানো নিয়েও কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়েও সমালোচনার শিকার হন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর, ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত দায়িত্ব থাকতে চাওয়ার কথা বলেছেন টুখেল। তার ওপর এখন পর্যন্ত আস্থা রেখেছে ইংল্যান্ডও। রুনিও আরও লম্বা সময় দায়িত্বে দেখতে চান টুখেলকে।
তবে রুনি মনে করেন, ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ গুয়ার্দিওলাকে যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার পেছনে ছোটা উচিত এফএ-র।
“এই মুহূর্তে আমি আর কাউকে (বিকল্প) দেখছি না, যদি না পেপ গুয়ার্দিওলাকে আনতে পারে। পেপকে পাওয়া গেলে, তাহলে অবশ্যই তাকে আনার চেষ্টা করা উচিত। তিনি (টুখেল) বিশ্বমানের কোচ। আর সেরা কোচরা নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং আরও উন্নতি করে।
“তাকে ছাঁটাই করলে কাকে দায়িত্ব দেব? গুয়ার্দিওলা ছাড়া টমাস টুখেলের সমমানের কাউকে আমি দেখছি না। আমার কাছে বড় বিষয়টা হলো, বিশ্বকাপে তার অভিজ্ঞতা ছিল না। ফাবিও কাপেলোর ক্ষেত্রেও আমরা একই জিনিস দেখেছি। বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মঞ্চ, সেই পরিবেশটা অনুভব করতে হবে; আর টুখেল এখন সেটা টের পেয়েছেন।”
টুখেলকে নিয়োগ দেওয়ার আগে গুয়ার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এফএ, এমন খবর চউর হয়। গণমাধ্যমে খবর অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একটি মৌখিক চুক্তিও নাকি হয়েছিল।
কিন্তু পরে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টুখেলকে ১৮ মাসের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় ইংল্যান্ড। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই বছরের জন্য তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। বিশ্বকাপের আগেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো কিছুটা অস্বাভাবিক লাগছে সাবেক ফরোয়ার্ড রুনির কাছে।
“আমার মনে হয়, এফএ আমাদের বলেছিল টমাস টুখেলকে আনা হয়েছে বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য এবং দলকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
“যদি বিশ্বকাপ জেতাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই তাকে দুই বছরের নতুন চুক্তি দেওয়া একটু অদ্ভুত। বিষয়টা কিছুটা অস্বাভাবিক।”