Published : 10 Jun 2026, 09:23 AM
আর্জেন্টিনা তখনও এগিয়ে। আক্রমণের পর আক্রমণও চলছিল। কিন্তু ৮৮ হাজার দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামের অপেক্ষা ও কৌতূহল ছিল একজনকে ঘিরেই। কখন নামবেন লিওনেল মেসি! অবশেষে ৬৯তম মিনিটে এলো সেই মুহূর্তটি। গ্যালারি ভরা দর্শকের তুমুল উল্লাসের মধ্যে মাঠে নামলেন জাদুকর। তার ছোঁয়া থেকেই একটু পর পেনাল্টি পেল দল। তিনি তো আর এমন সুযোগ হাতছাড়া করবেন না! যথারীতি বল পাঠালেন জালে।
সেটি ছিল দলের দ্বিতীয় গোল। শেষ দিকে গোল হলো আরও একটি। সেখানেও মিশে থাকল মেসির নাম। কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়ার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরুর দিকে ভালেন্তিন বার্কো দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৭২তম মিনিটে গোল করেন মেসি। ৮৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান থিয়াগো আলমাদা।
হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারানোর পর আইসল্যান্ডের সঙ্গে এই জয়ে বিশ্বকাপের জন্য ম্যাচ-প্রস্তুতি শেষ করল চ্যাম্পিয়নরা। অপেক্ষা এখন শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করার।
এই জয় স্বস্তির তো বটেই। তবে আর্জেন্টিনার জন্য আরও বড় স্বস্তির খবর হয়তো মেসির ফেরা। গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে পেশির অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তা। কোচ লিওনেল স্কালোনি যদিও বলেছিলেন, চোট বড় কিছু নয়, তার পরও মাঠে না নামার আগে অস্বস্তির আনাগোনা তো থাকেই। সেসব এবার দূর হলো।
আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে শুরুতেই বিপদে পড়েছিলে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটে পাল্টা আক্রমণে আইসল্যান্ড একেবারে কাছ থেকে একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে। ফাঁকা পোস্ট পেয়েও ঠিকমতো ডান পা ব্যবহার করতে না পারায় অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে দেন এলার্টসন।
আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় অষ্টম মিনিটেই। নিজেদের বক্সে আইসল্যান্ড পারেনি বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে। জটলার ভেতর বল বারবার ঘোরাঘুরি করে এক পর্যায়ে চলে যায় বক্সের একটু বাইরে বার্কোর দিকে। বল না ধরেই বাঁ পায়ের দারুণ শটে তিনি পরাস্ত করেন গোলকিপারকে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে চার ম্যাচেই দুটি গোল করে ফেললেন ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

মিনিট তিনেক পর আরেকটি সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। এবার হোসে লোপেসের শট আইসল্যান্ডের গোলকিপার ডাইভ দিয়ে ফেরালেও ফিরতি বল কাজে লাগানোর মতো কেউ সেখানে ছিলেন না।
এরপর আইসল্যান্ড কিছু আক্রমণের চেষ্টা করলেও খুব গোছানো ছিল না। ৩৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর সুয্গে পেয়েছিলেন জুলিয়ানো সিমেওনে। কিন্তু তার দুর্বল শট ধরতে কোনো সমস্যাই হয়নি আইসল্যান্ডের গোলকিপারের। পরের মিনিটেই খুব কাছ থেকে নিকো পাসের ভলি দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন আইসল্যান্ডের কিপার।
মাঝবিরতির পরপর মেসি গা গরম করতে দেখে গ্যালারিতে গর্জন ওঠে। যদিও তাদেরকে অপেক্ষায় থাকতে হয় আরও কিছুটা সময়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫ পরিবর্তন নিয়েও দাপট ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ৫৩ মিনিটে বাঁ ফ্লাঙ্ক দিয়ে ভেতরে ঢুকে একজন কাটিয়ে শট নেন সিমিওনে। কিন্তু এবার পা বাড়িয়ে তা আটকে দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ আসে তাদের মিনিট তিনেক পর। পাল্টা আক্রমণে দারুণ গতিতে ছুটে নিকো পাস বল বাড়ান বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকা লাউতারো মার্তিনেসের দিকে। বলে স্রেফ পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতে পারত। কিন্তু মার্তিনেস একটু দেরি করে ফেলেন।
মার্তিনেস দারুণ সুযোগ পান একটু পর আবার। এবার তিনি গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারলেও বল লাগে বারে।
৬৯তম মিনিটে দর্শকদের গর্জনের মধ্যে মাঠে নামেন মেসি। মিনিট দুয়েক পরই মাঝমাঠের একটু ওপরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের তিনজনের মধ্য দিয়ে দারুণ এক পাস বাড়ান তিনি মার্তিনেসের দিকে। তাকে থামানোর চেষ্টায় ফেলে দেন আগুয়ান গোলকিপার। আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। মেসির শটে ঠিক দিকেই ডাইভ দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। কিন্তু শট ঠেকাতে পারেননি।
পরের গোলেও আছে মেসির ছোঁয়া। আরেকটি পাল্টা আক্রমণ থেকে মেসি বক্সের ভেতর বল দেন রদ্রিগো দে পলকে। তিনি বল বাড়ান মাঝখানে আলমাদার দিকে। আলতো শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করতে সমস্যা হয়নি তার।
প্রস্তুতিপর্ব শেষে এবার মূল অভিযানের পালা। ঠিক এক সপ্তাহ পর আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মেসিদের টানা দ্বিতীয় ট্রফির লড়াই।