Published : 02 Jul 2026, 06:17 PM
গোলবারে লিওনেল এমপাসির দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন শেষ পর্যন্ত হয়েছে। ডিআর কঙ্গোর প্রবল প্রতিরোধ ভেঙে জয় আদায় করা গেছে। কিন্তু পরের ম্যাচে আরও কঠিন এক পরীক্ষা অপেক্ষা, বলছেন টমাস টুখেল নিজেই। কঠিন প্রতিপক্ষ ও গোটা গ্যালারির চাপ সামলানোর ব্যাপার তো আছেই, আরেকটি চ্যালেঞ্জও তাদের অপেক্ষায়। ইংল্যান্ড কোচ অকপটেই বলছে, এত বেশি উচ্চতার শহরে এত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৭৫ মিনিট পর্যন্তও পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত জিতেছে ২-১ গোলে। এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে তাদের বাধা মেক্সিকো।
এবারের বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক দেশটি দুর্দান্ত ফর্মে আছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়েছে তারা একুয়েডরকে।
এই চার ম্যাচের তিনটিই খেলছে তারা মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে, ঐতিহাসিকভাবে যেটি পরিচিত আসকেতা স্টেডিয়াম নামে। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এটির উচ্চতা ৭ হাজার ২২০ ফুট।
ইংল্যান্ড দল ঘাঁড়ি গড়েছে এবার ক্যানসাস সিটিতে। সেখান থেকে বিভিন্ন ভেন্যুতে গিয়ে খেলছে তারা। আটলান্টায় একুয়েডরের সঙ্গে খেলে ক্যানসাসে ফিরে গেছে তারা। মেক্সিকো সিটিতে যাবে শুক্রবার বিকেলে।
স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলাটা বাড়তি চ্যালেঞ্জের সবসময়ই। আসতেকা স্টেডিয়ামে আগের ম্যাচ তিনটিতে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের গর্জন ঘরের দলকে যেমন উজ্জীবিত করেছে, তেমনি প্রতিপক্ষকে ফেলেছে চাপে।
একুয়েডরের সঙ্গে ম্যাচের পর টুখেল বললেন, বাধা অনেক কিছুই থাকবে, তবে উচ্চতাই সবচেয়ে বড় বাধা।
“মাত্রই ম্যাচ শেষ হলো। এখনও জয়টি উপভোগ করার চেষ্টা করছি। তবে এটি সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দর এবং উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোর মধ্যে একটি।”
“আসতেকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলতে হবে। সেখানে আমাদের জন্য অনেক, অনেক, অনেক বাধা অপেক্ষা করবে। উচ্চতার কথা তো বলাই বাহুল্য। এটি অবশ্যই বড় অসুবিধা হবে, কারণ আমরা চার দিনে শারীরিকভাবে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব না। এটা প্রায় অসম্ভব এবং হয়তো আরও বাধা আসবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দলবল নিয়ে বেশ আগেই বিশ্বকাপের দেশে চলে এসেছিলেন টুখেল। কিন্তু মেক্সিকো সিটির উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কোনো পথ তিনি দেখছেন না।
“আমরা এখানে বেশ আগেভাগে এসেছিলাম এবং আমাদের শরীরকে গরমে অভ্যস্ত করে তুলতে অনুশীলন করেছিলাম। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, যাতে ফুটবলারের শরীরে আগে থেকেই প্রচুর গরমের আঁচ থাকে। এটা ওদের সাহায্য করবে। তাই আমি মনে করি, গরম এবং আর্দ্রতা আমাদের জন্য সমস্যা হবে না। আমরা এতে অভ্যস্ত। গেছি।”
“আমি যতটা বুঝি, আমরা উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে পারব না এত দ্রুত। এটায় অনেক বেশি সময় লাগে। মেক্সিকোর জন্য এটা বিশাল সুবিধা হবে। ম্যাচের মাঝে আমরা মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছি। বেশ উঁচু এই উচ্চতার সাথে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব বলেই জয় পাওয়া সম্ভব নয়, এটাও বিশ্বাস করেন না টুখেল। এটিকে স্রেফ একটি বাধা হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ড কোচ, যা উতরে যেতে তিনি দলকে প্রস্তুত বলেই মনে করেন।
“আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। হয়তো এমন কিছুই আমাদের প্রয়োজন। আমরা এখন এমন একটি আদর্শ মঞ্চে আছি, যেখান থেকে আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করতে পারি যে, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং যখন পরিস্থিতি কঠিন হবে, আমরা সমাধান খুজে বের করব।”
“আমরা এটা আগে থেকেই জানতাম। এটা একটা সমস্যা মাত্র, যা আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। আমি মনে করি, আমরা যে মনোভাব দেখিয়েছি, তাতে আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং সেখান থেকেই আমরা এগিয়ে যাব।”
মেক্সিকো সিটির উচ্চতা ও গ্যালারির সমর্থনের বাইরেও কিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে ইংলিশদের। একুয়েডর দল যেমন ফিফা কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে, ম্যাচের আগের রাতে তাদের হোটেলের পাশে আতশবাজি ফুটিয়েছে মেক্সিকোর সমর্থকেরা। একুয়েডরের ফুটবলাররা তাই ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি। ইংলিশদের জন্যও মেক্সিকোর সমর্থকদের ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ থাকতে পারে!
সেই চ্যালেঞ্জকেও আলিঙ্গন করে নিচ্ছেন টুখেল।
“আমি নিশ্চিত নই যে, এই পথচলা মসৃণ হবে কি না, ঘুমটা আরামদায়ক হবে কিনা, বা হোটেলের বাইরে কোনো কোলাহল থাকবে কিনা। তবে সমস্যা নেই, করুক না!
“উত্তেজনাপূর্ণ ও চমৎকার ম্যাচ হবে। অনেক বাধা আসবে, কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল প্রস্তুত থাকবে।"
মেক্সিকো এবং ইংল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে পাবে ব্রাজিল বা নরওয়েকে।