Published : 10 Jul 2026, 11:58 AM
কোচের মনের ভেতরের পরিবেশটা অনেক সময় ফুটে ওঠে তার শরীরী ভাষায়। অস্থির পায়চারি, চিৎকার, ছুটোছুটি, কত কিছুই তো করতে দেখা যায় তাদের। দিদিয়ে দেশোঁকে দেখে অবশ্য বোঝার উপায় ছিল না। কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি যখন আটকে গেল, খুব একটা বিচলিত মনে হলো না ফ্রান্সের কোচকে। ম্যাচের পর তার দাবি, তিনি নিশ্চিত ছিলেন, তার দলই জিতবে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ২৫তম মিনিটে ওই পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। এমবাপে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফেলে দেন নুসায়ের মাজরাউই। রেফারি যদিও বাঁশি বাজান সঙ্গে সঙ্গেই, তবে ভিএআর পরীক্ষাসহ অজানা কিছু কারণে সেখানে দেরি হয় ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড!
লম্বা অপেক্ষার পর এমবাপের দুর্বল শট ধরে ফেলেন গোলকিপার ইয়াসিন বোনু। ওই পেনাল্টি ছাড়াও প্রথমার্ধে বেশ কবার কাছাকাছি গিয়েও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স।
৬০তম মিনিটে সেই এমবাপের দারুণ গোলই এগিয়ে দেয় দলকে। ছয় মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে। প্রত্যাশিত জয়ে টানা তৃতীয়বার সেমি-ফাইনালের ঠিকানা পায় ফরাসিরা।
ম্যাচের পর দেশোঁর প্রত্যয়ী উচ্চারণ, ফ্রান্সের জয় আর এমবাপের সামর্থ্য, কোনোটি নিয়েই তার মনের ভেতর সংশয়ের মেঘ জমেনি সামান্যও।
“আমাদের কার্যকারিতার অভাব ছিল এবং প্রথমার্ধে আমাদের একটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বেশ কয়েকটি সুযোগও কাজে লাগাতে পারিনি। তবে আমার মনে কোনো সংশয় ছিল না (জয় নিয়ে), বিশেষ করে কিলিয়ানকে নিয়ে তো নয়ই।”
“তাদেরকে চেপে ধরার জন্য আমরা সবকিছুই ঠিকঠাক করেছি। আমরা তাদের প্রায় দমবন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং ছুটে বেড়াতে বাধ্য করেছি। এরপর এক পর্যায়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।”
ফ্রান্সের এই জয় এবং আরও একবার বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া, কোনোটিই বিস্ময়কর নয়। বরং তারা ব্যর্থ হলেও সেটা হতো অবাক হওয়ার মতো। দলটির শক্তি-সামর্থ্যের গভীরতাই তো এমন!
সেই বাস্তবতা মেনেই মাঠে নেমে কাজটা ভালোভাবে করতে পারায় স্বস্তি পাচ্ছেন দেশোঁ।
“টানা তিনটি (সেমি-ফাইনাল) — এটা দারুণ। যদিও আমাদের জন্য এটিকে স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত মনে হয়, তবে মাঠে নেমে কাজটা তো শেষ পর্যন্ত করতেই হয়।”
“আমরা এখন ঠিক সেখানেই আছি, যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম। আজ আমরা আরও এক ধাপ এগিয়েছি, আবারও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছি। এটা প্রমাণ করে যে আমরা লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে আছি।”