০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেন ৯-০ পর্তুগাল এবং আরও স্মরণীয় পাঁচ লড়াই

ডালাসে নিজেদের ইতিহাসে ৪২তম বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

স্পেন ৯-০ পর্তুগাল এবং আরও স্মরণীয় পাঁচ লড়াই
১৯৩৪ সালের এই ম্যাচে ৯-০ গোলে পর্তুগালকে হারিয়েছিল স্পেন। ছবি: ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 05:06 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

দুই প্রতিবেশী দেশ পর্তুগাল ও স্পেন প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর কেটে গেছে শত বছরের বেশি সময়। ডালাসে ৪২তম বারের মতো খেলতে যাচ্ছে ইউরোপের এই দুই পরাশক্তি। 

১৯২১ সালে মাদ্রিদে প্রথম লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল স্পেন। এখন পর্যন্ত ৪১ ম‍্যাচের ১২টি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে। 

এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের সাবেক ও বর্তমান চ‍্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ম‍্যাচ শুরু ১টায় (এএম)।

নকআউট পর্বের আকর্ষণীয় এই ম‍্যাচের আগে ফিফা ডুব দিয়েছে অতীতে। স্মৃতির অলিগলি খুঁজে বের করে এনেছে সেরা লড়াইয়ে ছয়টি।

পর্তুগাল ২-২ স্পেন

(টাইব্রেকার ৫-৩ ব‍্যবধানে জয়ী পর্তুগাল)

নেশন্স লিগ ফাইনাল, ৮ জুলাই ২০২৫

মিউনিখ, জার্মানি

মার্তিন সুবিমেন্দির গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। পরে সমতা ফেরান নুনো মেন্দ্‌স।

প্রথমার্ধেই মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে ফের এগিয়ে যায় স্পেন। বিরতির পর সমতা ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। 

বল দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন। কিন্তু দারুণ দৃঢ়তা নিয়ে রক্ষণ সামাল দিয়ে যাচ্ছিল পর্তুগাল। নির্ধারিত সময় কিংবা অতিরিক্ত সময়ে জালের দেখা পায়নি কোনো দলই। ম‍্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

প্রথমে শট নেয় পর্তুগাল। গসালো রামোস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফের্নান্দ্‌স, নুনো মেন্দ্‌স ও হুবেন নেভ্স নিজেদের শটে জাল খুঁজে নেন। শেষ শটে গোল করতে পারেননি স্পেনের বদলি খেলোয়াড় আলভারো মোরাতা। নাটকীয়ভাবে নেশন্স লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।

স্পেন ৩-৩ পর্তুগাল

বিশ্বকাপ, ১৫ জুন ২০১৮

সোচি, রাশিয়া

চার বছর আগে, ২০১৪ সালে, গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দুই দল স্পেন ও পর্তুগালের জন‍্য এই আসর ছিল কক্ষপথে ফেরার লড়াই। দুই দলকে নিয়েই ছিল বিপুল প্রত‍্যাশা। ‘বি’ গ্রুপে তাদের প্রথম ম‍্যাচ হতাশ করেনি ভক্তদের।

সফল স্পট কিকে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন রোনালদো। রেয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ নাচোর ফাউলে ডি বক্সে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। দিয়েগো কস্তা দলকে সমতায় ফেরান। 

বিরতির আগে আবার পর্তুগালকে এগিয়ে নেন রোনালদো। পরে নিজেদের দ্বিতীয় গোলে ফের সমতা ফেরান কস্তা। 

টুর্নামেন্টের সেরা গোলের একটি উপহার দিয়ে স্পেনকে এগিয়ে নেন নাচো। ডি বক্সের মাথা থেকে তার চমৎকার হাফ-ভলি ফেরাতে পারেননি গোলরক্ষক। 

নাটকীয়তা শেষ হয়নি তখনও। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে রোনালদোকে ফাউল করেন জেরার্দ পিকে। চমৎকার ফ্রি কিকে হ‍্যাটট্রিক করেন রোনালদো, ম‍্যাচে ফেরে সমতা। 

সেবার শেষ ষোলোতেই থামে দুই দলের যাত্রা। স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারে স্পেন। আর ম‍্যাচের বেশিরভাগ সময় দাপট দেখালেও উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারে পর্তুগাল। 

স্পেন ০-০ পর্তুগাল

(টাইব্রেকার ৪-২ ব‍্যবধানে জয়ী স্পেন)

ইউরো, ২৭ জুন ২০১২

দোনেস্ক, ইউক্রেইন

ইউরো শিরোপা ধরে রাখার পথে সেমি-ফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্পেন। ধ্রুপদী লড়াই নয় সেবার হয়েছিল যেন ভয়ানক এক যুদ্ধ। 

বল দখলে রেখে পর্তুগালের রক্ষণের কঠিন পরীক্ষা নেয় স্পেন। পর্তুগালের একটা ফ্রি কিকের পর গতিময় প্রতি-আক্রমণ থেকে ক্রসবারের উপর দিয়ে মারেন আলভারো আরবেলোয়া। পরে একই কাজ করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি রোনালদো। ম‍্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানেও ‘ডেডলক’ ভাঙতে পারেনি কোনো দল। টাইব্রেকারে পর্তুগালের শেষ শট নেওয়ার কথা ছিল রোনালদোর। কিন্তু সেই সুযোগই পাননি তিনি। জোয়াও মতিনিয়ো ও ব্রুনো আলভেস নিজেদের শটে গোল করতে না পারায়। ৪-২ গোলে জিতে এগিয়ে যায় স্পেন। 

ফাইনালে ইতালিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ধরে রাখে স্পেন। 

স্পেন ১-০ পর্তুগাল

বিশ্বকাপ, ২৯ জুন ২০১০

কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা

দারুণ ছন্দে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে আসেন রোনালদো। রেয়াল মাদ্রিদে নিজের প্রথম মৌসুমে ৩৩ গোল ও ১০ অ‍্যাসিস্ট করেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম শিরোপা জিততে এই তারকার দলকে পেরিয়ে যেতে হয় স্পেনের। 

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বল দখলে এগিয়ে থাকে স্পেন। ফিটনেস নিয়ে সে সময়ে সমস‍্যার মধ‍্যে থাকা রোনালদো পাননি খুব বেশি সুযোগ। ফের্নান্দো তরেসের জায়গা ফের্নান্দো ইয়োরেন্তে নামার পর গতি পায় স্পেনের আক্রমণ। 

খেলা ঘণ্টা গড়ানোর একটু পর শাভি খুঁজে নেন দাভিদ ভিয়াকে। তারকা ফরোয়ার্ডের প্রথম শট ঠেকান পর্তুগাল গোলরক্ষক কিন্তু ফিরতি শট তাকে এড়িয়ে জড়ায় জালে। স্পেন পৌঁছে যায় কোয়ার্টার-ফাইনালে।

পর্তুগাল ১-০ স্পেন

ইউরো, ২০ জুন ২০০৪

লিসবন, পর্তুগাল

সেবার ইউরো আয়োজন করে পর্তুগাল। প্রথম ম‍্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে হেরে গেলেও লুইস ফিগো, দেকো, তরুণ রোনালদোর উপস্থিতিতে পর্তুগাল দলের উপর প্রত‍্যাশা ছিল বিপুল। 

ওই হারের ধাক্কা সামাল দিয়ে রাশিয়াকে সহজেই হারায় পর্তুগাল। গ্রিসের সঙ্গে ড্র করে ও রাশিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয় স্পেন। নকআউট পর্বে যেতে দুই দলেরই প্রয়োজন ছিল জয়, শেষ হাসি হাসে পর্তুগাল।

কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা নিনো গোমেস গড়ে দেন ব‍্যবধান। প্রতিযোগিতামূলক ম‍্যাচে স্পেনের বিপক্ষে দেশকে এনে দেন প্রথম জয়। প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় স্পেন। 

স্পেন ৯-০ পর্তুগাল

বিশ্বকাপ বাছাই, ১১ মার্চ, ১৯৩৪

মাদ্রিদ স্পেন

শুরুর দিকের লড়াইয়ের একটি। যে মাঠ এখন সান্তিয়াগো বের্নাবেউ নামে পরিচিত, সেখানে ৫০ হাজার দর্শকের সামনে গোল উৎসব করে স্পেন। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হারের একটির বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হয় পর্তুগালের। 

তৃতীয় মিনিটে এদুয়ার্দো হন্সালেস স্পেনকে এগিয়ে নেন। পরে দুই মিনিটের মধ‍্যে দুই গোল করেন ইসিদ্রো লানগারা। 

তিন গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। 

দ্বিতীয়ার্ধে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে হ‍্যাটট্রিক করেন লানগারা। মোট পাঁচ গোল করেন তিনি। অন‍্য তিনটি গোল করেন লুইম রেগেইরো ও মার্তিন ভেন্তোলরা। 

পরের সপ্তাহে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হয় দুই দল। লিসবেনে ওই ম‍্যাচ ২-১ ব‍্যবধানে জেতে স্পেন।