Published : 07 Jun 2026, 09:09 PM
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য আরও একবার দেখিয়েছেন এন্দ্রিক। মিশরের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে ব্রাজিলকে জিতিয়েছেন তিনি। জয়সূচক গোলটি করতে পেরে ভীষণ খুশি তরুণ ফরোয়ার্ড বলেছেন, দেশের জার্সি গায়ে জীবন দিতেও প্রস্তুত তিনি।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে রোববার মিশরকে ২-১ গোলে হারায় ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে সেলেসাওদের এগিয়ে নেন ব্রুনো গিমারেস। তিন মিনিট পরই সমতা টানেন মোস্তফা জিকো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাদশে ৯টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাতেও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের খেলায় কোনো বদল আসেনি। একের পর এক আক্রমণ করে যায় তারা। তাতে সাফল্যও দ্রুত ধরা দেয়। বদলি নামার সাত মিনিটের মাথায় ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক।
রাফিনিয়ার পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে মাতান এই ফুটবলার। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আনন্দের যেন শেষ নেই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার দুয়ারে থাকা এন্দ্রিক।
“এটা অসাধারণ ও অবর্ণনীয় এক অনুভূতি। আরও একটি গোল করতে পারায় সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। সৃষ্টিকর্তা আমার জীবনে অবিশ্বাস্য সব জিনিস উপহার দিয়েছেন, আজকে আমি জয়সূচক গোলটি করতে পেরেছি… গোলের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, এটা আমার স্ত্রী ও তার গর্ভে থাকা আমার পুত্রসন্তানকে উৎসর্গ করছি।”
গত এপ্রিলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে এক বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। ফেরার ম্যাচে একটি পেনাল্টি আদায় করে নেন তিনি। সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও করেন। বিশ্ব মঞ্চেও যে জ্বলে উঠতে প্রস্তুত তিনি, সেটার প্রমাণ দিলেন মিশরের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে।
জাতীয় দলের বাইরে থাকার সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আর হতে চান না এন্দ্রিক। দেশের জার্সিতে লড়ে যেতে চান সামনের দিনগুলোয়।
“আমি অনেক খুশি, কারণ যখন চোটে পড়েছিলাম, জাতীয় দলে আসতে পারিনি, আর একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের জন্য এর চেয়ে খারাপ লাগা আর হতে পারে না। আশা করি, সৃষ্টিকর্তা চাইলে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার সেই অনুভূতির মুখোমুখি আমাকে আর কখনো হতে হবে না। কারণ আমি এখানেই থাকতে চাই, নিজের ফুটবল সামর্থ্য দেখাতে চাই এবং দেশের জন্য জীবন দিতে চাই।”
আগামী রোববার মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।