Published : 09 Jun 2026, 06:09 PM
ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এক সময় সুইডেন ছিল বেশ সমীহ জাগানিয়া দল। মাঝে ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও তারা দারুণ পারফরম্যান্সে তৃতীয় হয়। তবে এরপর, খুব ভালো কিছু করতে পারেনি দেশটি। ২০২২ বিশ্বকাপে তো বাছাই উতরাতেই পারেনি ইউরোপের দলটি। আর এবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জায়গা পেয়েছে বিশ্বকাপে। এমন কঠিন যাত্রার পর, দলটিকে নিয়ে দারুণ কিছু আশা করার লোক খুঁজে পাওয়া দায়।
তবে দলটির তারকা ফরোয়ার্ড ভিক্তর ইয়োকেরেশের দাবি, ইতোমধ্যে তারা প্রমাণ করেছেন যে সুইডেন দারুণ এক দল।
এবারের বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্ব ভীষণ খারাপ কাটে সুইডেনেরে। ইউরোপ অঞ্চলের এই লড়াইয়ে ‘বি’ গ্রুপে ছয় ম্যাচের একাটিও জিততে পারেনি তারা। দুটি ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তলানিতে থেকে শেষ করে দলটি, তবে নেশন্স লিগের পারফরম্যান্সে বাছাইয়ের প্লে-অফ পর্বে জায়গা পায় তারা।
বাছাইয়ের ওই ছয় ম্যাচে মাত্র চারটি গোল করতে পারে তারা, যার একটিও ইয়োকেরেশের নয়। এরপরও, দলটির বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় তারকা এই ইয়োকেরেশ, সবচেয়ে সফল গোলদাতা!
২০২৪ সালে, উয়েফা নেশন্স লিগে দলের ছয় ম্যাচে ৯টি গোল করেন ইয়োকেরেশ, এর মধ্যে আজারবাইজানের বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয়ে একাই করেন চারটি। তার কাঁধে চড়েই লিগ ‘সি’ থেকে লিগ ‘বি’-এ উঠে আসে সুইডেন।
মূল বাছাইয়ে অমন বাজেভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরও, নেশন্স লিগের এই পারফরম্যান্সেই শেষ একটা সুযোগ পায় সুইডেন। বাছাইয়ের প্লে-অফে মোট ১৬ দলের চারটি আসে নেশন্স লিগ থেকে এবং তার একটি সুইডেন। এবং প্লে-অফে সুইডিশদের সফল অভিযানের নায়ক ইয়োকেরেশ।
দেশের হয়ে ৪৯২ দিনের গোল-খরা কাটিয়ে প্লে-অফের সেমি-ফাইনালে ইউক্রেইনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন আর্সেনাল তারকা এবং ম্যাচটি ৩-১ গোলে জেতে সুইডেন। ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৮৮তম মিনিটের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৩৮ নম্বর দলটি।
নিজের ও দলের ভীষণ ওই কঠিন সময়ে জ্বলে উঠতে পেরে এবং দেশকে পুনরায় সর্বোচ্চ মঞ্চে ফেরাতে পেরে যেন আনন্দের শেষ নেই ইয়োকেরেশের। পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে গর্বিত কণ্ঠে ফিফাকে সেই অনুভূতির কথা বলেন তিনি।
“এই অনুভূতি অবিশ্বাস্য, আমি গর্বিত। সবকিছু অনেক আবেগের। আমি কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে নিয়ে আমি সন্তুষ্ট, আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে উঠতে পারায় দলের জন্য আমি খুশি। আমি ক্যারিয়ারের যত গোল করেছি, তার মধ্যে এগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর মধ্যে, যদিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাও হয়ে থাকে।”
পেছনের সেই কঠিন সময়ে, ২০২৫ সালের মার্চে র্যাঙ্কিংয়ে তাদের চেয়ে ৬৫ ধাপ নিচে থাকা দল লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে হেরেছিল সুইডেন। এরপর টানা তিনটি প্রীতি ম্যাচ জিতলেও, বাছাইয়ে তো পুরোপুরি পথ হারিয়ে ফেলে তারা, টানা ছয়টি ম্যাচ থাকে জয়শূন্য। মাঠের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক না হলেও, নিজেদের প্রতি বিশ্বাস সবসময় ছিল ইয়োকেরেশের।
“আমরা সবসময় জানতাম যে দারুণ সব খেলোয়াড় নিয়ে আমাদের দলটি খুব ভালো। আমার মনে হয়, কিছু ম্যাচে ফলের বিচারে আমরা কিছুটা দুর্ভাগা ছিলাম। এরপর, গত কয়েক বছরে আমাদের দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক নতুন খেলোয়াড় দলে এসেছে। আর এক্ষেত্রে কখনও কখনও সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে সময় লাগে।”
“এখন যেহেতু আমরা কিছু ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছি, তাতে আমাদের মধ্যে সেই বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে বলে আমি মনে করি এবং মাঠে আমরা সেটাই করেছি। আমরা অবশ্যই দেখিয়েছি যে, আমরা দারুণ একটা দল।”
বিশ্বকাপের শেষ দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে, এই মাসের প্রথম দিন নরওয়ের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যায় সুইডেন। ওই ম্যাচে খেলেননি আর্সেনালের হয়ে এবার প্রিমিয়ার লিগ জয় করা ইয়োকেরেশ। ওই হারের তিন দিন পর, গ্রিসের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি এবং একটি গোলও করেন।
আগামী ১৫ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে সুইডেনের। ‘এফ’ গ্রুপের অন্য দুই দল নেদারল্যান্ডস ও জাপান।