Published : 06 Jul 2026, 03:28 PM
দুর্দান্ত সব ফুটবলার দিয়ে ঠাসা মাঝমাঠ। ক্লাবের হয়ে পারফরম্যান্সে তাদেরকে রাখা হয় বিশ্বসেরাদের কাতারে। বিশ্বকাপে যদিও এখনও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি সেই মাঝমাঠ, তবু শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে পর্তুগালের মাঝমাঠকেই বিশ্বের সেরা মনে করেন অনেকে। রদ্রি অবশ্য এখানে একমত নন। পর্তুগিজদের প্রতি সমীহের কমতি নেই তার। তবে স্পেন অধিনায়ক সেরা মনে করেন নিজেদেরই।
ইউরোপের সৃষ্টিশীল মাঝমাঠের এই দুই দলের একটিই কেবল পৌঁছতে পারবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও স্পেন।
সেই লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে মাঝমাঠের পারফরম্যান্সে। রদ্রি ছাড়ার স্পেন মাঝমাঠে আছেন পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, অ্যালেক্স বায়েনা, ফাবিয়ান রুইসরা। পর্তুগালের মাঝমাঠে আছে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভ্স, ব্রুনো ফের্নান্দ্স, হুবে নেভ্স, বের্নার্দো সিলভার মতো তারকারা।
ম্যাচের আগের দিন ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষকে যথেষ্টই সম্মান দেখালেন রদ্রি। তবে স্পেন অধিনায়ক এগিয়ে রাখলেন নিজেদেরই।
“তারা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা আমাদেরকে ভালোভাবে চেনে, আমরাও তাদেরকে চিনি। আমার মতে, তাদের দলে তাদের সর্বকালের সেরাগুলোর একটি বা সেরা প্রজন্মই রয়েছে। আমরা জানি যে পরের পর্বে যেতে হলে আমাদের সেরাটা দিতে হবে।”
“আমার মতে সেরা দল, সেরা মাঝমাঠ আমাদেরই। তাদের দল অসাধারণ, তারকায় পরিপূর্ণ, শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়ে ভরা এবং আমরা জানি যে, তারা সম্মিলিতভাবেও খুব ভালো খেলে। তাদের প্রায় সবকিছুই আছে। তবে আমরা দেখাতে চাই যে আমাদের দল আরও ভালো।”
এই দুই দেশ সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল গত বছর উয়েফা নেশন্স কাপের ফাইনালে। ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পর্তুগাল।
তবে এবারের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা এগিয়ে থেকেই নামবে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত কোনো গোল ঢোকেনি তাদের জালে এবং অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে তারা এসেছে এই ধাপে। পর্তুগালের পারফরম্যান্স ছিল অধারাবাহিক এবং সবশেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর জিততে পারে তারা কোনোরকমে।
রদ্রি অবশ্য বললেন, আরও ভালো কিছু তারা করতে পারেন এবং স্পেনের সেরাটা দেখা যাবে সামনে।
“আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারি। এই টুর্নামেন্টগুলোতে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা জানি কখন আমাদের সেরাটা দিতে হবে, সেটা হলো এই মুহূর্তগুলোতে। গ্রুপ পর্বে কিছু একটা গড়ে তুলতে হয়, ফলাফল অর্জন করতে হয় এবং সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এখন নকআউট পর্বে আমরা স্পেনের সেরাটা দেখেছি... এখন বড় কিছু আসছে।”
রদ্রির কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠেও। তিনিও এগিয়ে রাখছেন নিজের দলকে।
“রবের্তো (মার্তিনেস, পর্তুগালের প্রধান কোচ] তার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমার মতোই ভাববেন। আমি জানি প্রতিপক্ষরা অসাধারণ, কিন্তু নিজে এটা ভাবি যে, আমার দলই বিশ্বের সেরা।”
“এই ম্যাচে খেলবে এমন দুটি দল, যাদের বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই কাছাকাছি। রক্ষণে আমরা দুদলই দ্রুত বল কেড়ে নিই এবং আমরা দলই বল পায়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। দেখা যাক, কে ম্যাচের মোড় নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। মাঠে এত বেশি ভালো ফুটবলার থাকবে যে, খুঁটিনাটি অনেক বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমরা সেই সমস্ত খুঁটিনাটি সম্পর্কে সচেতন থাকার চেষ্টা করব।”
রদ্রি নিজে অবশ্য এখন নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। ২০২৪ সালে ব্যালন দ’অর জয়ের পর থেকে চোটের কারণে বেশ কঠিন সময় পার করেছেন তিন এবং এখনও নিজের সেই আগের রূপে ফিরতে পারেননি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যোম সমালোচনারও সম্মুখীন হযতে হয়েছে তাতে। কিন্তু তার নিজের ধারণা, সেরা ফর্মের কাছাকাছি চলে এসেছেন তিনি।
“আমি পুরোপুরি ফিট আছি। উন্নতি করছি, ৯০ মিনিট খেলছি, এবং জানি যে এখন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো আসছে... তবে, এটা স্পষ্ট যে আমি আরও উন্নতি করতে পারি। এটাই স্বাভাবিক, টুর্নামেন্ট চলাকালীন আমরা উন্নতি করি, যখন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো আসে। পর্তুগালের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা দিতে হবে।”