Published : 10 Jul 2026, 12:00 PM
শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় স্বাভাবিকভাবেই চরম হতাশার। তবে তাদের চেয়ে অনেক ভালো খেলা ফ্রান্সের বিপক্ষে পরাজয় মেনে নিয়েছেন মোহামেদ ওয়াহ্বি। আত্মসমালোচনা করে মরক্কোর কোচ বলেছেন, তাদের আরও উন্নতি করতে হবে।
বস্টনে শুক্রবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যায় মরক্কো। গত আসরে ঠিক একই ব্যবধানে সেমি-ফাইনালে ফরাসিদের বিপক্ষেই হেরেছিল তারা।
শেষ আটের এই ম্যাচে কখনোই সেভাবে প্রতিপক্ষকে ভাবাতে পারেনি মরক্কো। প্রথমার্ধে একেবারে খোলসে বন্দি ছিল দলটি। পুরো ম্যাচে গোলের জন্য স্রেফ পাঁচটি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আর সেখানে ফ্রান্সের ২২ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে।
বল দখলে আধিপত্য করে ফরাসিদের মনোযোগ নষ্ট করার, বিরক্ত করে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল মরক্কো। সেই পরিকল্পনায় কিছুটা সফল হয় তারা। ৫২ শতাংশ পজেশন ধরে রাখে আফ্রিকার দলটি। কিন্তু ফ্রান্সের রক্ষণে সেভাবে ভীতিই ছড়াতে পারেনি তারা।
লক্ষ্য পূরণের অনেক আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় খারাপ লাগলেও, দল নিয়ে গর্বিত ওয়াহ্বি। তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করে শুধরাতে হবে, সেটাও বলেন তিনি।
“আমার খেলোয়াড়দের বলেছি, তাদের মাথা উঁচু রাখতে কারণ আমরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, সেরাটা দিয়েছি। তবে, এগিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা অপরিহার্য।
“আমরা স্রেফ বলতে পারি না যে, নিজেদের পারফরম্যান্সে খুশি ও গর্বিত। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আর এটা করার জন্য বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য আত্ম-সমালোচনা করতে হবে।”
ম্যাচ জুড়ে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকা মরক্কোর অনেক ঘাটতির কথা তুলে ধরেন ওয়াহ্বির। সঙ্গে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসান গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সকে।
“আমরা হতাশ, তবে প্রথমার্ধ খুবই কঠিন ছিল, বল পায়ে দারুণ ছিল ফ্রান্স। বলের দখল তাদের কাছেই বেশি ছিল, দুই প্রান্ত ও মাঝমাঠ দিয়ে তারা আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছিল। যখনই বল পেয়েছি, আমাদের ট্রানজিশনগুলো একদমই ভালো হয়নি। আমাদের আরেকটু বেশি দৌড়াতে হতো। তারা (ফ্রান্স) এমন এক অবস্থায় ছিল, যেখানে খুব বেশি চাপ নিতে হয়নি।
“আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, তারা অসাধারণ দল। তাদের চমৎকার সব খেলোয়াড় আছে এবং গোলের সুযোগও তারা বেশি করেছে। যখন বল নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন আরও ভালো কিছু করার জন্য পরিকল্পনার ও সতেজতার অভাব ছিল আমাদের। এই পরাজয় আমাদের মেনে নিতেই হবে। ম্যাচ শেষের পরপরই কথা বলা কঠিন। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পর আক্ষেপ নিয়ে কথা বলাটাও কঠিন।”