Published : 10 Jun 2026, 11:52 AM
বয়স হয়ে গেছে ৪১ বছর। খেলার অপেক্ষায় রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আর কতদিন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, অনেকের মনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে এই প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা কি ভাবছেন এই তারকা? পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস বলেছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু রোনালদো নয়, তার দলেই কেউই এই মুহূর্তে চিন্তা করছে না।
আন্তর্জাতিক কিংবা পেশাদার ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন, এনিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত দেননি রোনালদো। তবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় আসরটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, এটা একরকম নিশ্চিত। পরের বৈশ্বিক আসরের সময় রোনালদোর বয়স হবে ৪৫। ফুটবল ইতিহাসে ওই বয়সে বিশ্বকাপ খেলেছেন কেবল একজন, মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি।
২০০৩ সালে দেশের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এই পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ২২৭ ম্যাচ ও ১৪৩টি গোল করেছেন তিনি। দুটিই বিশ্বরেকর্ড।
বিশ্বকাপের মূল অভিযান শুরু করার আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বুধবার নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ম্যাচটি তারা খেলবে নিজেদের আঙিনা লেইরিয়াতে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের দর্শকদের সামনে জাতীয় দলের হয়ে এটাই হতে পারে রোনালদোর শেষ ম্যাচ।
এখনও বিশ্ব জয়ের স্বাদ না পাওয়া রোনালদো আসছে ম্যাচকে সেভাবে দেখছেন, বলে মনে করছেন না মার্তিনেস। তার মতে, এখন কেবল বিশ্বকাপে দলকে সহায়তা করার ভাবনা ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্তুগিজ গ্রেটের মাথায়।
“আমাদের অধিনায়ক তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করে। জাতীয় দলকে সাহায্য করার জন্য দিনের ২৪ ঘন্টাই নিজেকে উজাড় করে দেয়। আমাদের অধিনায়ক ও দলের অন্যরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে না। ভবিষ্যতে কি হবে আমরা জানি না, কারণ তারা চোটে পড়তে পারে, আর কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে যা তাদের হাতে নেই।”
“মূল মনোযোগ এখন অনুশীলনে, সেরাটা দেওয়ায়, পরিকল্পনাগুলো অনুশীলনে প্রয়োগ করায় এবং এই জার্সি গায়ে নিজেদের গর্ব ফুটিয়ে তোলায়। সে এই উদাহরণটাই তৈরি করছে। ভবিষ্যতের উন্নতিতে এগুলোকে কাজে লাগানোই তার একমাত্র লক্ষ্য।”
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটিতে দলের সবাইকে সুযোগ দিতে চান পর্তুগাল কোচ মার্তিনেস।
“পরিকল্পনা হলো, শুরুর একাদশের ১১ জনকেই বদলি করা এবং সবাইকে খেলার কিছুটা সময় দেওয়া। পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়দের এটা প্রথম ম্যাচ হবে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত প্রস্তুতি এবং যাদের প্রয়োজন তাদের খেলার সুযোগ দেওয়া। আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে সবাইকে বিমানে ওঠানো।”
“সবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধতাই পর্তুগালের শক্তি। আমাদের কাজ হলো, দলকে সাহায্য করার জন্য খেলোয়াড়দের তৈরি করা। জেতার জন্য তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগানো।”
নবাগত ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামী বুধবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। ‘কে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।