২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানালেন সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড

নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও লিভারপুলের সাবেক এই তারকা আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ২০২১ সালে এক ব্যক্তির কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 12:31 PM

Updated : 25 Sep 2026, 12:33 PM

নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড অ্যান্ডি ক্যারল আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে, ২০২১ সালে তিনি এক ব্যক্তির দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের আত্মজীবনীর নাম ‘Owning It’। এই বইয়ে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

নিউক্যাসলে দ্বিতীয় দফায় খেলার সময় তার বাড়িতেই ঘটনাটি ঘটেছিল। অপরাধী ব্যক্তিটি ক্যারলের প্রাক্তন সঙ্গিনীর এক বন্ধু। সেই ব্যক্তি পরে তিন বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং ক্যারল আদালতে সাক্ষ্য দেন।

যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ায় ক্যারলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরিচয় গোপন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

দেড় যুগের বেশি ফুটবল ক্যারিয়ারে নিউক্যাসল ইউনাইটেড, লিভারপুল, ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন, রিডিংসহ বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন ক্যারল। ২০১১ সালে নিউক্যাসল থেকে ব্রিটিশ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন লিভারপুলে। সেখানে অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি সেভাবে।

নানা ক্লাব ঘুরে তিনি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও। শীর্ষ পর্যায়ে অবশ্য নয়। ন্যাশনাল লিগ সাউথ ক্লাব ড্যাগেনাম অ্যান্ড রেডব্রিজে খেলছেন তিনি, যে ক্লাবের কর্ণধারদের একজন তিনি।

যৌন হেনস্তার ঘটনার বিবরণে ক্যারল লিখেছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর তিনি লোকটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং যখন সে আবার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে, তখন তাকে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলেন।

তিনি লিখেছেন, “আমি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলাম, এই বলেই দিলাম। সত্যি বলতে, এটা নিয়ে ভাবতেও ভয় লাগে। এর আগে মাত্র কয়েকজনই এ ব্যাপারে জানত…।”

আত্মজীবনীতে এই ঘটনাটি উল্লেখ করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন ক্যারল। পরে বান্ধবী লু টিসডেলের সঙ্গে আলোচনা করে একেবারে শেষ মুহূর্তে বইতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।

“এই বইয়ে ঘটনাটি উল্লেখ করব কি না, তা নিয়ে আমি আর লু লম্বা সময় ধরে আলোচনা করেছি। এমনকি আমার প্রকাশককেও আমি এত দিন এড়িয়ে চলেছি যে, তারা সম্ভবত সন্দেহ করেছিল আমি শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছি।

এ নিয়ে কথা বলতে ভয় লাগে, কিন্তু জীবনের ভালো দিকগুলোর মতোই এই ঘটনাটিও আমাকে আজকের আমি হিসেবে গড়ে তুলেছে। আর আমার এই কথা বলা যদি একজনকেও সাহায্য করে, তবে সেটিই ভালো, আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে।”

ক্যারল বলেন, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়াটা ছিল তার জন্য “চরম অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং অত্যন্ত ভয়াবহ।” সেই হামলাকারীকে পরে যৌন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে যৌন অপরাধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ ইউরোতে খেলা এই ফরোয়ার্ড বললেন, ওই তার ঘটনা তার দৈনন্দিন জীবনকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং সেই মানসিক ধাক্কা কাটেনি এখনও।

“আমার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা আমার জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করেছি। প্রতিদিন এটা নিয়ে ভাবতাম, যে কারণে ফুটবলসহ অন্য কোনো কিছুতেই মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত...। আমার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেই মানসিক আঘাত এখনও কাটেনি।”