তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আদিওস, মাই এডিটর
অপ্রত্যাশিত ফোনকল, গভীর রাতের আড্ডা আর জার্মানি থেকে আনানো ওষুধ। প্রিয় সম্পাদককে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সহকর্মীর প্রশ্ন—দুঃসময়ে সত্য ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে অটল থাকার এই সাহস কে দেখাবে আর?
সম্পাদকরা রাশভারী হন, তারা মেপে কথা বলেন। দূর থেকে তৌফিক ভাইও আমার কাছে তাই ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে দীর্ঘ সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করলেও সেভাবে সম্পাদকের সঙ্গে কথা হতো না। একেবারে শুরুর দিকে কোনো অনুবাদ বা সম্পাদনা ভালো হলে জাহিদ ভাই (জাহিদুল কবির, এখন বিডিনিউজের হেড অব নিউজ) মাঝে মাঝে বলতেন, সম্পাদক আপনাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন; এর বাইরে লিফটে ওঠানামার সময় দু-একবার টুকরো-টাকরা দেখা, ফ্যামিলি ডে বা পিকনিক-নৌবিহারে সালাম দেওয়া—এ ছাড়া আর কোনো বিনিময় আমাদের মধ্যে ছিল না।
তার জীবনসায়াহ্নে এসে ওই চক্রে ছেদ পড়ল। আমার সৌভাগ্য যে তিনিই কাছে টেনে নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দর্শন, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড কীভাবে দুনিয়াকে গিলে খাচ্ছে, চিকিৎসা নীতিতে রকফেলার ফাউন্ডেশনের দস্যুতা, যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শিক ও দৃশ্যমান পতন, আন্তর্জাতিক খবরের ক্ষেত্রে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো কেবলই যে অন্ধভাবে পশ্চিমা গণমাধ্যমকে অনুকরণ করে যাচ্ছে—এ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে মতের সাদৃশ্য এ মেলবন্ধনের কারণ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্কের সবার সঙ্গে আলাদা করে সম্পাদকের বসা তেমন হতো না। বছরে দু-একবার, তাও কালেভদ্রে। যদি কোনো কমন নির্দেশিকা থাকত, তাহলে সাধারণত সব ডেস্ককে নিয়ে একসঙ্গে বসতেন তিনি। নিউজের নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। উচ্চারণের বিষয়ে ব্যাপক নজরদারি ছিল তার। কোনো দেশে, তাদের ভাষায় কোনো শব্দের উচ্চারণ কেমন হয়, তা ভালো করে শুনে সেভাবে দিতে বারবার বলতেন তিনি। নিজেও অনেক শব্দের উচ্চারণ শুধরে দিতেন। সংঘাত, আন্তর্জাতিক রাজনীতি—এগুলো নিয়ে পলিসি কেমন হওয়া উচিত, সে কথাও থাকত। বৈঠকের বাইরে আন্তর্জাতিক ডেস্কের জন্য বিশেষ কিছু থাকলে হয় লাবণ্য দিদিকে (লাবণ্য কাবিলী, আন্তর্জাতিক ডেস্কের প্রধান) বলে দিতেন, বা জাহিদ ভাই আমাদের জানাতেন। এ বছরের শুরুর দিকে একেবারে আলাদা করে আন্তর্জাতিক ডেস্ককে মিটিংয়ে ডেকেছিলেন তিনি। ভুল-ত্রুটি নিয়ে তুমুল ঝাড়ি খাব—এ আশঙ্কা নিয়েই মিটিংয়ে গেলাম। এবার ঝাড়ির সঙ্গে যুযুধান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিষয়ে আমাদের সম্পাদকীয় নীতি কেমন হবে, তারও একটা বিস্তারিত ছক তিনি দিয়ে দিয়েছিলেন। ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধে মস্কোর অবস্থান কেন যুক্তিসঙ্গত, পশ্চিমারা কেন এ যুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ওয়াশিংটনের জয় যে ‘প্রায় অসম্ভব’, এবং ইরানের প্রতিরোধ জয়যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশের ক্ষমতাকাঠামোই যে বদলে যাবে; চীনের উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি সবই যে মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জের মুখে আছে—এগুলো নানা দিক থেকে বলছিলেন তিনি, মাঝে মাঝে একে ওকে কিছু জিজ্ঞেস করছিলেন। তার মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেহেদি হাসান, টাকার কার্লসন, জেফরি স্যাকস, নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন, আলেক্সান্ডার দুগিন নিয়ে এক-দুই বাক্যে তাদের অবস্থান, তার পেছনে কারণ, নিউজের পেছনের নিউজ, বিবিসির এডিটরিয়াল পলিসির সঙ্গে কোথায় আমাদের পার্থক্য থাকা উচিত—এগুলো নিয়ে টুকটাক কথা হয়।
ওই বৈঠকের পরপরই শারীরিক কারণে আমি দীর্ঘ ছুটিতে চলে যাই। তার মাঝে শুনি, তিনি জাহিদ ভাইয়ের কাছে আমার খোঁজ করেছেন। অন্তু ভাই (গোলাম মর্তুজা অন্তু, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) একদিন মোহাম্মদপুরে সন্ধ্যার আড্ডায় এসে জানায়—সম্পাদক নাকি রিপোর্টার্স মিটিংয়ে আমার প্রশংসা করেছেন। তৌফিক ভাইয়ের প্রশংসা পাওয়া যে ‘রেয়ার’ সেটা আমরা জানতাম। এমন না যে তিনি এ ব্যাপারে কৃপণ ছিলেন। আমার ধারণা, তার সঙ্গে কাজ করা প্রায় সবার প্রশংসাই তিনি কখনো না কখনো করেছেন, তবে সেটা অবশ্যই এমন কিছুর জন্য যা তার দৃষ্টিতে ছিল ‘স্ট্যান্ডার্ড বা এবোভ স্ট্যান্ডার্ড’। মুখের ওপর সমালোচনা করতেও ছাড়তেন না, বিশেষ করে নিউজের ব্যাপারে তো অবশ্যই। অবশ্য আমাদের করা অনেক ভুলের ঝাড়ি জাহিদ ভাই, লাবণ্য দি বা সিনিয়রদের ওপর দিয়েই যেত। সেসব ঝাড়ির খবরই বুকে ঘণ্টাধ্বনির মতো বাজত।
২.
এই তৌফিক ভাই জুলাই-অগাস্ট মাসের এক রাতে আমাকে ফোন দিয়ে বসলেন। আমি তার নাম্বার জানতাম না। তার সঙ্গে থাকা আকিব জাভেদই (বিডিনিউজের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান) প্রথম আমাকে নক দেন; এক-দুই কথার পর বলেন ‘স্যার আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।’ রাত তখন অনেক, সেসময় প্রধান সম্পাদক আমার সঙ্গে কথা বলবেন, ধাতস্থ হতেই কিছুটা সময় লাগল। তারপর আমরা সে রাতে ফোনেই ঘণ্টা দেড়েক কথা বলেছি। তিনি তখন চিকিৎসার জন্য ভারতে, সেখান থেকেই আমার অসুস্থতা-চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন করেছেন। রেগুলার মেডিসিন, অল্টারনেটিভ মেডিসিন, ট্রিটমেন্ট কত কিছু নিয়ে যে তিনি খোঁজ নিচ্ছিলেন, নিজেও বলছিলেন। আমার মতও শুনছিলেন। এত দ্রুত তিনি আমাকে আপন করে নিচ্ছিলেন, স্পেস দিচ্ছিলেন; সে রাতে আমি প্রথম টের পেলাম আমার সিনিয়ররা (যাদের কাছে আমার সম্পাদনার হাতেখড়ি, তেমন দুই সাংবাদিক, আমার শিক্ষকও) কেন তৌফিক ভাই বলতে ‘অজ্ঞান’। এ এক অদ্ভুত গুণ, আপনি অল্প সময়ের কথাতেই অন্যকে কাছে টেনে নিতে পারছেন, তার কাছ থেকে শ্রদ্ধা-সম্মান অর্জন করে নিতে পারছেন—এ সময়ে এটা অকল্পনীয়। এ কারণেই হয়তো তিনি বিডিনিউজে বাংলাদেশের সেরা সাংবাদিক আর মেধাদের একত্র করতে পেরেছেন। এটা হলফ করেই বলা যায়, তার তৈরি করা সিস্টেম, কাজের পরিবেশ আর সাংবাদিকতার দর্শন শত প্রতিকূলতা, টানাটানি আর কিম্ভুতকিমাকার সব প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও বিডিনিউজকে ‘সাংবাদিকতাটাই করতে’ উদ্বুদ্ধ করেছে, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তৌফিক ভাই দেশে আসার পর সামনাসামনি আরও দুই দিন টানা কয়েক ঘণ্টা একান্ত আড্ডা হয়েছিল; একদিন অফিসে তার রুমে। রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত। আরেকদিন, এই তো গত মাসের শুরুর দিকে, তার বাসায়। সেটাও কয়েক ঘণ্টার।
কী নিয়ে কথা হয়নি এ অল্প সময়ে! বিডিনিউজ তো বটেই, দেশীয় রাজনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন। সেসব আড্ডায় দ্বিমত করেছি, তর্ক করেছি, তিনি তার অনেক স্বপ্নের সুলুকও আমাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। কেন, কীভাবে সেগুলো হতে পারে, দিয়েছেন তার ধারণা।
দেশের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ তো ছিলেনই, তবে আশাও ছিল প্রবল। আমার হতাশার প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধকেই এ জাতির সেরা অর্জন মনে করে, তাহলে তাকে নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না; বড়জোর ধাক্কা খাবে, কিন্তু ঠিক শিখে নেবে।
ওই বনানী ডিওএইচএসের বাসাতেই শেষ দেখা। এরপর কয়েক দফা হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছে, আমার জন্য জার্মানি থেকে আনা ওষুধ পাঠিয়েছেন, সেগুলো কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে টুকটাক বার্তা বিনিময়। তিনি যে আবার দেশের বাইরে যাচ্ছেন সেটা জানতাম, ফিরে অক্টোবরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তারপর নভেম্বরে ভারতে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসকের সঙ্গে আমার দেখা করিয়ে দেবেন, এমনটাই ছিল কথা। ভারত যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তুতিও নিতে বলেছিলেন।
তার মাঝেই আচমকা বিনামেঘে বজ্রপাত। ২ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় পল্টনে চায়ের দোকানে আমাদের সময়ের জাসদ ছাত্রলীগের একগুচ্ছ নেতার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে শেষ করতে পারিনি, তখনই রিয়াজ ভাই (রিয়াজ বাহাদুর, সাংবাদিক, বাংলাদেশ প্রতিদিন) তার মোবাইলে তৌফিক ভাইয়ের চলে যাওয়ার খবরটা দিলেন। বুকের মধ্যে একসঙ্গে অনেকগুলো হাতুড়ি বেজে উঠল। তৌফিক ভাই! এ সময়ে! দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে! সাংবাদিক-সংবাদ অন্তঃপ্রাণ মানুষ, প্রতিষ্ঠান বলে তো এখন আর তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না; টিমটিম করে যা জ্বলছিল, সেই সলতেও নিভে যাবে! সত্যি কথা বলতে কী—ঠিক ওই মুহূর্তে আমি এমন হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম; এতটা হতাশ, এতটা অসহায় ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় শেষ কবে পড়েছি, মনে করতে পারছি না।
৩.
অনেক অনুষ্ঠান ও টক-শোতেই তৌফিক ভাই গর্ব করে বলেছেন, ১-১১-র সেনা-তত্ত্বাবধায়ক আমলে তিনি তখনকার ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ মেনে ধামাধরা কপি-পেস্ট সাংবাদিকতা করেননি, বিডিনিউজ করেনি। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক-বর্তমান সব সহকর্মীই হয়তো এ কথাটা গর্ব করে বলতে পারবেন যে, বিডিনিউজকে কখনোই তার সম্পাদকীয় নীতি থেকে টলানো যায়নি। ক্ষমতাসীন কোনো পক্ষ, কোনো ক্ষমতাধর সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান—কেউই আমাদের পদানত করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের নীতিতে, স্বচ্ছ-সঠিক-আপসহীন-বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের নীতিতে আমরা কখনো ছাড় দিইনি। টুকটাক ভুল থাকতে পারে, কিন্তু সংবাদের সঙ্গে আমরা কোনো দরকষাকষিতে যাইনি। তাতে বিজ্ঞাপন হাতছাড়া হয়েছে, সম্পাদককে মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় হয়রানি করা হয়েছে, সাইট বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বিডিনিউজকে দমানো যায়নি। এ কারণেই বিডিনিউজ পাঠকদের কাছে অনন্যসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিশ্বাসযোগ্যতায় হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। এই কৃতিত্বেরও সবচেয়ে বড় অংশীদার তৌফিক ভাই। ঝড়ের সবচেয়ে বড় ঝাপটা তো গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালের ওপর দিয়েই যায়। সেসব ঝড়ের অনেক কিছুরই সাক্ষী পাঠকরা, অনেকে লিখছেনও, নতুন করে বলে এ লেখার কলেবর বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তার শখ ছিল জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে নিয়ে আসার। নিজেই বলছিলেন—তাকে কি আর আসতে দেবে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো ছোট দেশের সরকারের সাহসই হবে না। আচ্ছা ফিজিকালি না আনি, তার কাছ থেকে বার্তা নিয়ে আসি। অডিও, তা না পারলে লিখিত বার্তা। কাকে কাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, লেখা নেওয়া যাবে কার কার, এমনকী কী কী খাওয়ানো হবে—সবকিছুতেই ছিল নজর তার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে এমনই মেতে ছিলেন তিনি। অথচ কী নির্মম, এবার বিডিনিউজের কর্মীদের জন্য সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিশ্চিতভাবেই হবে বিষাদময়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এরপরও একের পর এক আসবে, কিন্তু তৌফিক ভাই আর সেখানে থাকবেন না, মিষ্টি হেসে কথা বলবেন না, সাবেক-বর্তমান কর্মী ও তার পরিবারের সবার খোঁজ নেবেন না, খুনসুটি হবে না, কেক কাটবেন না—না, এটা কীভাবে মেনে নেব!
৪.
নাজিম হিকমতের সেই বিখ্যাত লাইন মনে পড়ছে, ‘বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর।’ ওই কালও পেরিয়ে গেছে। ব্যক্তি তৌফিক ইমরোজ খালিদীর শোক হয়তো আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে, কিন্তু এদেশের সাংবাদিকতার যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা কীভাবে কাটবে? কে দুঃসময়েও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অটল-অবিচল থাকবে? আদৌ কি আর কেউ থাকবে? জানের ভয়, মানের ভয় নিয়ে দেশের শীর্ষ অনেক সংবাদপত্র আর সাংবাদিকদের দৌড় তো আর কম দেখছি না। তাদের অনেকের সাহসের অধঃপতন তো আমাদের অর্থনীতির চেয়েও নিম্নগামী। তারা কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নতুনরা কি আদৌ তৌফিক ভাই বা তার মতো কাণ্ডারিদের কাছ থেকে শিখবে? জানি না; যদি না শেখে, যদি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের জন্য না হয়ে কর্পোরেট দৌরাত্ম্য আর ক্ষমতার তল্পিবাহক হয়, তাহলে তৌফিক ভাইদের আমরা ট্রিবিউট জানাব কীভাবে?
আমরা নিশ্চয়ই তৌফিক ভাইকে নিয়ে কেবলই শোক করব না; তার দায়িত্ববোধ, তার সাহস নিয়ে গর্বও করব। সেটা যদি না পারি, তাহলে এই দেশ আমরা বাঁচাতে পারব না।
তৌফিক ভাই, আমাদের অনেকের জীবনে জোর ধাক্কা দিয়ে আপনি চলে গেলেন। সঙ্গে নিয়ে গেলেন শত সহস্র মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা। ব্যক্তি হিসেবে, পেশাদার সাংবাদিক হতে চাওয়া একজনের জন্য এটা কি কম পাওনা। তাও এই সময়ে! এ কারণেও যদি অনেকে আপনাকে হিংসা করে, তাহলে এই দেশ, সমাজ বেঁচে যায়। কে জানে, হয়তো তরী সেদিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল অলক্ষ্যে আপনার লক্ষ্য।
আপনাকে অফুরন্ত শ্রদ্ধা, ভালোবাসা তৌফিক ভাই। অনেক অনেক ধন্যবাদও। বিডিনিউজের কোনো সংবাদ, কোনো কর্মী, কিংবা দেশের যেখানেই কোনো সাংবাদিক যখন সত্য, সুন্দরের পক্ষে দাঁড়াবে, লড়াই করবে, তখন আপনিও দূর থেকে সে লড়াইয়ে থাকবেন। আমি, আমরা আপনাকে মনে রাখব। আদিওস মিস্টার এডিটর, মাই এডিটর।
মীর মোশাররফ হোসেন: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কর্মী।
