বিশ্বকাপ বাছাই
Published : 05 Sep 2025, 02:39 AM
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মাঝে ব্যবধান যতটা, মাঠের ফুটবলে ততটাই পার্থক্য ফুটে উঠল। ছোট ছোট পাসের সঙ্গে আচমকা গতির মিশ্রণ মিলিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা স্পেনের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারল না বুলগেরিয়া।
বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ৩-০ গোলের অনায়াস জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে সফরকারীরা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্ক কুকুরেইয়া। প্রথমার্ধেই শেষ গোলটি করেন মিকেল মেরিনো।
মাঠের লড়াই আসলে কতটা একপেশে ছিল, তা ম্যাচের ফলে ঠিক স্পষ্ট হচ্ছে না।
‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটিতে ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৪টি শট নিয়ে ১২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্পেন। সেখানে পুরোটা সময় রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত র্যাঙ্কিংয়ে ৮৪ নম্বর দল নিতে পারে মোটে তিনটি শট, কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না।
নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পরে খেলতে নেমে শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন ওইয়ারসাবাল। ডান দিক থেকে মার্তিন জুবিমেন্দির বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন রেয়াল সোসিয়েদাদ ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের হয়ে এই নিয়ে সবশেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ গোল করলেন ওইয়ারসাবাল।
ধীরে ধীরে পজেশন রাখায় স্পেনের আধিপত্য বাড়তে থাকে। প্রতিপক্ষকে আক্রমণে ওঠার তেমন সুযোগই দিচ্ছিল না তারা।
দ্বাদশ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন স্পেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট হতে পারত জুবিমেন্দির। কিন্তু ডি-বক্সে তার হেড পাস পেয়ে আগুয়ান গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নিয়ে হতাশ করেন ওইয়ারসাবাল।
২০তম মিনিটে প্রথমবার উল্লেখযোগ্য আক্রমণ শাণাতে পারে বুলগেরিয়া। গোলও পেতে পারতে দলটি, কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঁধ সাধে। বাঁ দিক দিয়ে রাদোস্লাভ কিরিলভ ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শট নেন, বল স্লাইডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর পায়ে লেগে দূরের পোস্ট ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়।
৩০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্বাগতিকরা। ডি-বক্সে হেডে বল ফেরাতে গিয়ে ডান পাশে অরক্ষিত কুকুরেইয়ার পায়ে তুলে দেন দিমিত্রভ। আর ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে জোরাল কোনাকুনি শটে জাতীয় দলে ১৭ ম্যাচে প্রথম গোল করেন চেলসির ডিফেন্ডার কুকুরেইয়া।
আট মিনিট পর আরেক গোল করে ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় স্পেন। লামিনে ইয়ামালের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেরিনো।
দ্বিতীয় গোল হজমের পর আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে বুলগেরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে তাদেরকে আরও চেপে ধরে ইউরোর শিরোপাধারীরা।
৫৩তম মিনিটে আরেকটি দারুণ গোল হতে পারত মেরিনোর। তবে দুর্দান্ত সেভ করে তাকে হতাশ করেন গোলরক্ষক ভুতসভ। ডি-বক্সের মুখ থেকে মেরিনোর জোরাল শট গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে বাধা পায়।
৬২তম মিনিটে রদ্রি ও দানি কার্ভাহালকে বদলি নামান কোচ দে লা ফুয়েন্তে। এসিএল চোটে গত মৌসুমে দীর্ঘদিন বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই দুই খেলোয়াড় প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাঠে নামলেন।
বাকি সময়ের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় বুলগেরিয়ার অর্ধে। তবে অনেক সম্ভাবনা তৈরি করেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, এজন্য বুলগেরিয়ার রক্ষণের কৃতিত্ব দিতে হবে।
এই বছরের প্রথম চারটিসহ টানা ছয় ম্যাচে জাল অক্ষত রাখতে পারেনি স্পেন। এই ম্যাচগুলোয় তারা ১৭ গোল করার বিপরীতে হজম করে ১৪টি। অবশেষে এবার গোল হজম না করেই মাঠ ছাড়তে পারল গত জুনে নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া দলটি।
পরের ম্যাচে আগামী রোববার তুরস্কের মাঠে খেলবে স্পেন। দিনের আরেক ম্যাচে জর্জিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করেছে তুর্কিরা।
আরও পড়ুন: