Published : 29 Jun 2026, 08:48 PM
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষার্থীরা যাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য সরকার সুযোগ করে দেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্র্রী বলেন, “তোমরা ‘কনফিডেন্ট’ থাকলে আমি ‘কনফিডেন্ট’ হয়ে যাব, আমার জোর বেড়ে যাবে তখন।
“তার বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমি একটা জিনিস চাইছি। দেবে আমাকে?...খুব সিম্পল, জিনিসটা হচ্ছে তোমাদের সবাইকে প্রত্যেক বছর একটা করে গাছ লাগাতে হবে, একটা করে গাছ রোপণ করতে হবে।”
সোমবার বিকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে আমি বাইরে একটা বৃক্ষরোপণ করেছি। আমার সাথে সারা বাংলাদেশে অনলাইনে ২৯ হাজার ৬০০ বিভিন্ন জায়গায় ‘কানেকটেড’ ছিল। প্রত্যেকটি জায়গায় আজকে প্রত্যেকে তিনটা করে গাছ লাগিয়েছে…মোট ৯০ হাজার মতো গাছের চারা একদিনে লাগানো হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তুমি যেখানে থাকো, তুমি যেখানে মাঠে খেল, তুমি যে বাসায় থাকো অথবা যেখানে থাকো, যেই স্কুলে পড়, যেই কলেজে পড়, ওখানে কোনো এক জায়গায় প্রত্যেকে একটা করে, প্রতিবছর একটা করে গাছের চারা রোপণ করবে।”

এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে এই কাজটি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে গ্যালারিতে বসা শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেয়।
কেন বৃক্ষ রোপণ করতে হবে তা ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, “এই দেশে তো আমাদের সবাইকে থাকতে হবে…তাই না। এই দেশে যদি আমরা সবাই থাকি তাহলে আমাদেরকে শ্বাস বুক ভরে নিতে হবে। দেখ, তোমরা তো বিভিন্ন রকম ‘আর্টিকেলস’ পড়, এই ‘আর্টিকেলস’ এর মধ্যে তোমরা নিশ্চয়ই পড়েছ যে, আমাদের বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে, গাড়ি-ঘোড়া সবকিছু বেড়ে যাওয়াতে গাছপালা অনেক কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে আমাদের বাতাস কিন্তু অনেক ‘পলিউটেড’ হয়ে গিয়েছে।
“আমরা যদি এখন এই মুহূর্তে এটার ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিই তাহলে আমরা একসময় পরিষ্কার বাতাস, বিশুদ্ধ বাতাস শ্বাস হিসেবে নিতে পারব না। সেইজন্য আজকের এই অনুষ্ঠানকে যদি সত্যিকারভাবে ফলপ্রসু করতে চাই তাহলে আজকে এই অনুরোধটা আমি তোমাদের কাছে করছি এবং তুমি তোমার নিজের জন্য একটা করে গাছ রোপণ করবে।”
তিনি বলেন, ‘‘ তুমিও বড় হবে, গাছটাও বড় হবে। দেখবে গাছটা তোমার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে দেখা দিবে একসময়। ওই গাছের সাথে তুমি কথা বলতে পারবে। তোমরা কথা বলো গাছের সাথে?”

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশের পর বিএনসিসির চৌকশ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন এবং তাদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে যান প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল ও কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পটুয়াখালীর গলাচিপার আলিম মাদ্রাসার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ তুলে দেন।
এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়।
আয়োজকদের তরফে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকেও স্মারক ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।

‘আশেপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ। কারণ তোমাদের মতো ভবিষ্যৎ যেই দেশে থাকে সেই দেশকে এত ‘টেনশন’ করতে না, সেই দেশকে এত চিন্তা করতে না। শুধু দরকার শৃঙ্খলা। আমি বলতে চাই, তোমাদের সকলকে কিন্তু ‘ডিসিপ্লিন’ হতে হবে। নিশ্চয়ই সোশাল মিডিয়া বা পত্রপত্রিকা, টিভিতে দেখেছ, আমি নিজে অনেকবার বলেছি…এখানে বিএনসিসি তোমরা যারা আছো তোমাদের সবার কাছে আরেকটি ‘হেল্প’ চাই আমি। সেই হেল্পটা হচ্ছে, আমরা যেই জায়গায় থাকি, আমরা যেই পরিবেশে থাকি, তা পরিষ্কার রাখতে হবে।”
তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে রাস্তাঘাট, বাগান যে খুব পরিষ্কার থাকে, সে উদাহরণ টানেন।
“আমরা চলো যাই দেখ, আমাদের বাইরের রাস্তাগুলো অনেক ময়লা। এটা তো বাইরে থেকে এসে কেউ ময়লা করছে না। আমরা তো নিজেরাই ময়লা করছি, তাই না? আমরা নিজেরাই ময়লা করছি। আমরা কি সবাই মিলে পরিষ্কার রাখতে পারি না আমাদের দেশটাকে? সবাই মিলে কি আমরা আমাদের রাস্তাঘাট বিভিন্ন ‘পাবলিক প্লেস’ যেগুলো আছে আমরা পরিষ্কার রাখতে পারি না? পারি। তোমরা কি এই হেল্পটা আমাকে করবে?”
শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে সরকারপ্রধান বলেন, “তাহলে আমরা এখন থেকে সবাই মিলে একটা কাজ করার চেষ্টা করব। আমাদের আশেপাশে কেউ যদি কোনো ‘পাবলিক প্লেসে’ ময়লা ফেলে, জায়গাটা ময়লা হয় আমরা পরিষ্কার করব ওটা, যতটুকু সম্ভব।
“যে ময়লা ফেলছে তাকে আমরা বলব, এই কাজটা করা অন্যায়। তাকে আমরা লজ্জা দেব যে এই ‘পাবলিক প্লেসে’ ময়লা ফেলতে হয় না। সেটা কাগজ হোক, খাবার দাবার হোক যেটাই হোক, আমরা তাকে লজ্জা দেব-এইখানে ময়লা ফেলে যায় না, ময়লা ফেলতে হয় না। আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর বাংলাদেশ চাই। কিন্তু আমরা যদি চেষ্টাই না করি কেমন করে বাংলাদেশ সুন্দর হবে?”
নিজের বয়স ৬০ বছর হয়ে গেছে, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সময় এখন তোমাদের। সামনে ভবিষ্যৎ তোমাদের। দেশটা গড়ে তুলতে হবে তোমাদেরকে। আমরা হয়ত চেষ্টা করতে পারি, শুরু করে দিয়ে যেতে পারি কিন্তু এটাকে চালিয়ে নিতে হবে তোমাদের।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।