লা লিগা
Published : 12 Apr 2026, 12:37 AM
সবচেয়ে কম বয়সে লা লিগায় শততম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়ার উপলক্ষ চমৎকার পারফরম্যান্সে রাঙালেন লামিনে ইয়ামাল। নিজে গোল করলেন, দুটি গোলে অবদান রাখলেন। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে আরও অনেকটা এগিয়ে গেল বার্সেলোনা।
কাম্প নউয়ে শনিবার লিগ ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন ফেররান তরেস। তার দুটি গোলেই ভূমিকা রাখা ইয়ামাল দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পান জালের দেখা। অন্য গোলটি করেন মার্কাস র্যাশফোর্ড।
স্কোরলাইন যত সহজ জয় বলছে, তত সহজ জয় পায়নি বার্সেলোনা। ব্যবধান কমানোর পর থেকে ৮৭তম মিনিট পর্যন্ত তাদের বেশ চাপেই রেখেছিল এস্পানিওল। তবে শেষে আরও দুটি গোল হজম করে বড় ব্যবধানেই হেরেছে তারা।
আগের দিন জিরোনার বিপক্ষে রেয়াল মাদ্রিদ ড্র করায় ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। এস্পানিওলকে হারিয়ে সেটাই কাজে লাগাল।
৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও এক ড্রয়ে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রেয়াল।
আক্রমণাত্মক ফুটবলে শুরু থেকেই এস্পানিওলকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। দশম মিনিটে ম্যাচের প্রথম কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ইয়ামালের বাঁকানো শটে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন তরেস।
১০ ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিট পর কিকে গার্সিয়ার আড়াআড়ি শট ঝাঁপিয়ে মাঝপথে ঠেকান বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।
খরা কাটানোর পর আরেকটি গোলের জন্য তরেসের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৫তম মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো শটে একটু দিক পাল্টে দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি।
মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে ইয়ামাল জালের দেখা পেতে পারতেন ৩১তম মিনিটে। ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি কিক একটুর জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
বয়স ১৯ পূর্ণ হওয়ার আগে স্পেনের শীর্ষ লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি করলেন ইয়ামাল। রাউল গন্সালেস ১০০ ম্যাচ খেলেন ১৯ বছর ২৮৪ দিন বয়সে। ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেলেন ১৮ বছর ২৭২ দিন বয়সে।
৪০তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে এরিক গার্সিয়ার গতিময় শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান এস্পানিওল গোলেরক্ষক। ফিরতি বলে ফের্মিন লোপেসের শটও ব্যর্থ করে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ পান ইয়ামাল। ৪৭তম মিনিটে পায়ের দারুণ কারিকুরিতে জায়গা করে নিয়ে শটও নেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। এস্পানিওলের একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টে কাছের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল।
৫৪তম মিনিটে জালে বল পাঠান তরেস। তবে তাকে বল দেওয়া এরিক গার্সিয়া অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল।
পরের মিনিটে ব্যবধান কমায় এস্পানিওল। ডি বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন অরক্ষিত পল লোসানো।
৬১তম মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন লোপেস। আরাউহোর ক্রসে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি তিনি। হেডেই কর্নারের বিনিময়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন এস্পনিওলের এক ডিফেন্ডার।
বদলি নামার কিছুক্ষণের মধ্যে গোলের দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন র্যাশফোর্ড। ৬৫তম মিনিটে এস্পানিওল ডিফেন্ডার বলে পা ছোঁয়াতে না পারায় গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান ইংলিশ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে দলকে হতাশ করেন তিনি।
৬৯তম মিনিটে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দূরের পোস্টে বল ঠেকিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক গার্সিয়া। কয়েক সেকেন্ড পর জোয়াও কান্সেলোর গতিময় শট ব্যর্থ করে দেন এস্পানিওল গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচ।
ব্যবধান কমানোর পর সমানে সমানে লড়াই করছিল এস্পানিওল। কিছুটা চাপেও পড়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা।
তবে ৮৭তম মিনিটে চমৎকার পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। অনেকটা এগিয়ে এসে জোরাল শটে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন দিমিত্রোভিচ। ইয়ামালের পায়ে লেগে উল্টো বল চলে যায় ডি বক্সের কাছে। ছুটে গিয়ে লিগে নিজের শততম ম্যাচ গোল করে রাঙান তরুণ তারকা।
দুই মিনিট পর আরেকটি প্রতি আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। বাইলাইনে বল পেয়েও শট নেননি ফ্রেংকি ডি ইয়ং। সতীর্থদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেন তিনি। পরে দেখেশুনে খুঁজে নেন র্যাশফোর্ডকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন এই তারকা।
৩ পয়েন্টের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।