আনচেলত্তির মতো ‘নতুন শুরুর’ প্রয়োজন দেখছেন গিমারাইসও
চটজলদি যে সব সমস্যা মিটে গিয়ে সাফল্য ধরা দেবে না, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন এই মিডফিল্ডার।
টানা ব্যর্থতার কয়েক বছর এবং সবশেষ বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বিদায়ের পর, নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার এই দীর্ঘ পরিকল্পনায় পুরনো অনেকের জায়গা হয়নি, সুযোগ মিলেছে নতুনদের। যেন এক পালাবদলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পুনরায় শীর্ষে ফিরতে এর প্রয়োজনও দেখছেন ব্রুনো গিমারাইস।
২০০২ সালে নিজেদের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ ট্রফিটি জেতা ব্রাজিল সবশেষ কোনো শিরোপার স্বাদ পেয়েছে ২০১৯ সালে, কোপা আমেরিকায়। প্রতিযোগিতাটির দুই বছর পরের আসরে দেশের মাটিতে হয় রানার্সআপ এবং ২০২৪ আসরে বিদায় নেয় কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে। আর ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা দলটি গত জুন-জুলাইয়ের আসরের শেষ ষোলো থেকেই ছিটকে পড়ে।
ব্যর্থতার এই বৃত্ত থেকে বের হওয়ার অভিযানের প্রথম ধাপে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ও ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচের জন্য তারুণ্যনির্ভর দল ঘোষণা করেছেন আনচেলত্তি। অনেকের চোখে এটা যেন নতুন শুরু।
ব্রিজবেনে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই যুগের সূচনালগ্নে দারুণ ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা বললেন গিমারাইস। তবে সেজন্য সময় লাগবে, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
“আমার মনে হয়, নতুন করে শুরু করাটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই রাতারাতি কোনোকিছুই পরিবর্তন করা যাবে না, অতীতে দলে অনেক গ্রেট খেলোয়াড় ছিলেন, অন্যান্য দুর্দান্ত খেলোয়াড়রা আসছে। এই শুরুর ধাপে, কোচের জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ- আরও বেশি বিকল্প পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে, অন্যান্য খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাই করতে, তাদের অনুশীলন দেখতে, প্রতিদিন তারা কেমন করে সবকিছু দেখতে।”
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে কেবল ৯ জনকে রেখে গত ১০ সেপ্টেম্বর দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। এমন আট জন ডাক পেয়েছেন, যারা আগে কখনও জাতীয় দলে খেলেননি। গিমারাইসের মতে, সাফল্য পেতে এই তরুণদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলাটা খুব জরুরি। এর গুরুত্ব বোঝাতে নিজের জাতীয় দলের শুরুর সময়ের কথা বললেন তিনি।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যারা দলে প্রথমবার আসছে সেইসব তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেওয়া। ২০২০ সালে আমি প্রথম (জাতীয় দলে) ডাক পেয়েছিলাম, এবং সেই থেকে আমার জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে।
“আমার মনে হয়, ওই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা ছিল তা হলো তখন দলে থাকা সব অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন, যেন আমি আমার ফুটবল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এখন আমার দায়িত্ব তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, তাতে যেন তারা তাদের সেরাটা দিতে পারে।”
এবারের বিশ্বকাপে দলের পাঁচ ম্যাচের সবগুলোসহ এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৪৮টি ম্যাচ খেলেছেন গিমারাইস। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতেই ম্যাচের ‘ফিফটি’ ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামী শুক্রবার প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। পরেরটি আগামী মঙ্গলবার। এরপর ৩ অক্টোবরে কলকাতায় তারা মুখোমুখি হবে ভারতের।
