‘জাদেজা চোট পেলে কী হবে’, সুতারকে বাদ দেওয়া নিয়ে অশ্বিন
সাবেক এই স্পিনারের মতে, অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে মানাভ সুতারকে নিউ জিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে রাখা উচিত ছিল ভারতের।
স্রেফ তিন টেস্ট খেলেই ২৩টি উইকেট নিয়েছেন মানাভ সুতার। তবু নিউ জিল্যান্ড সফরে ভারতের টেস্ট দলে জায়গা হয়নি বাঁহাতি এই স্পিনারের। রাভিচান্দ্রান অশ্বিনের মতে, না খেলালেও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সুতারকে দলে রাখা উচিত ছিল। বিশেষ করে, অভিজ্ঞ রাভিন্দ্রা জাদেজার কাভার হিসেবে তাকে রাখা যেত বলে মনে করছেন দেশটির সাবেক এই স্পিনার।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে ভারত। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ সিরিজটির জন্য শুক্রবার দল ঘোষণা করে বিসিসিআই।
গত জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন সুতার। ভারতের সবশেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেন ২৪ বছর বয়সি ক্রিকেটার। যেখানে ১৬ উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।
৩ টেস্টে ১৭.৩৪ গড়ে ২৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুইবার পেয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ, ম্যাচে ১০ উইকেট একবার।
বল হাতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সুতারকে নিউ জিল্যান্ড সফরের দলে না দেখে হতাশ অশ্বিন। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা কী, সেটাও অবশ্য বুঝতে পারছেন তিনি। তবে তার মনে হচ্ছে, সুতারকে দলে না রেখে একরকম ভুল করেছে ভারত।
“আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার যে, একাদশে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার সুযোগ পাবে না। এর মানে, বিশেষজ্ঞ স্পিনারের ভূমিকায় কাউকে দেখা যাবে না। টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, ওয়াশিংটন সুন্দার ও রাভিন্দ্রা জাদেজা দুজনই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পারে। জাদেজা ও ওয়াশিংটন যদি কিছুটা স্পিন বোলিং করতে পারে, তাহলে তৃতীয় স্পিনারের প্রয়োজন নেই। আর যদি উইকেটে অনেক টার্ন থাকে, তাহলে কুলদিপ ইয়াদাভকে খেলাব। মানাভ সুতারের কোনো প্রয়োজন নেই।
“আমি মনে করি, পরিস্থিতিটা বেশ জটিল, কারণ মানাভ সুতার আক্রমণাত্মক স্পিনার, যে কিনা ভারতের প্রধান স্পিনারের ভূমিকা পালন করতে পারত। তাকে দলে দেখলে আমার ভালো লাগত।”
সুতার এই সফরে যাওয়ার যোগ্য ছিল বলে মনে করছেন অশ্বিন।
“খেলানোর পরিকল্পনা না থাকলেও তাকে দলে দেখতে চাইতাম আমি। কারণ, এটা ধারাবাহিকতার বিষয়, আর এই সফরে সে অনেক কিছু শিখতে পারত। বলছি না, দলে থাকার যোগ্য না হলেও কাউকে শুধু শেখার সুযোগ দেওয়ার জন্য সফরে নেওয়া উচিত। কিন্তু সে ভালো পারফর্ম করেছে এবং সফরে যাওয়ার যোগ্যতাও রাখে। তাই বিষয়টি কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক।
“সে ব্যাটও করতে পারে। সফরের শেষ দিকে, অনুশীলনের সময় জাদেজা চোটে পড়লে কী হবে? তখন দলে এমন কোনো বাঁহাতি স্পিনার থাকবে না, যে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারে।”
ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট শুরু ১৯ নভেম্বর, ওয়েলিংটনে। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্ট ২৭ নভেম্বর থেকে।
