লা লিগা
লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এই পরাজয়ে অনেকখানি পিছিয়ে পড়তে পারে কার্লো আনচেলত্তির দল।
Published : 05 Apr 2025, 10:21 PM
অদ্ভূত এক গেরো। লা লিগায় এক মৌসুমে ভালেন্সিয়াকে সহজে দুইবার হারাতে পারে না রেয়াল মাদ্রিদ! পারল না এবারও। শুরুতে পেনাল্টি মিস করা ভিনিসিউস জুনিয়র দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরালেন দলকে। কিন্তু এক সময়ে রেয়ালেই খেলা উগো দুরো শেষ মুহূর্তে গড়ে দিলেন ব্যবধান। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বড় এক ধাক্কা খেল কার্লো আনচেলত্তির দল।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় পেয়েছে ভালেন্সিয়া। দুই দলের প্রথম দেখায় একই ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
সবশেষ ১৩ মৌসুমে লিগে কেবল একবার দুই রাউন্ডেই ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে জিতেছিল রেয়াল। আনচেলত্তির কোচিংয়েই, ২০২১-২২ আসরে।
পুরো ম্যাচে গোলের জন্য ১০ শট নিয়ে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ভালেন্সিয়া, তাতেই বাজিমাত করল দলটি। আর প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ২১টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রেখেও মলিন মুখে মাঠ ছাড়েন এমবাপে-ভিনিসিউসরা।
আসরে পঞ্চম হারের পর ৩০ ম্যাচে ১৯ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে তারা। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে।
এদিনই পরের ম্যাচে রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে জিতলে, ৬ পয়েন্টে এগিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে বার্সেলোনা।
ঘরের মাঠে ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই দুটি তেতো স্বাদ পায় রেয়াল মাদ্রিদ। তাতে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারানোর পর, উল্টো পিছিয়ে পড়ে তারা।
দশম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তাকে ডিফেন্ডার তাররেগা ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় রেয়াল; কিন্তু ভিনিসিউসের দুর্বল স্পট কিক রুখে দেন জিওর্জি মামারদাশভিলি।
গত ১৩ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ভিনিসিউস। তিন সপ্তাহের মধ্যে আবারও একই অভিজ্ঞতা হলো ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
এর পাঁচ মিনিট পর স্বাগতিক শিবিরে যোগ হয় গোল হজমের হতাশা। কর্নারে উড়ে আসা বল দারুণ হেডে জালে পাঠান দিয়াখাবি। প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ও আন্দ্রি লুনিনের চোটে সুযোগ পাওয়া ফ্রান গন্সালেস জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি।
গোল করার আনন্দ দুই মিনিট পরই উবে যেতে পারতো সেনেগালের ডিফেন্ডার দিয়াখাবির, নিজেই যে জালে বল পাঠিয়েছিলেন তিনি। তবে তার শটের আগমুহূর্তে এমবাপে অফসাইডে থাকায় স্কোরলাইন বদলায়নি।
পজেশন রাখায় আধিপত্য করে প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে রেয়াল; কিন্তু এমবাপে-বেলিংহ্যামরা পারেননি জালে বল পাঠাতে।
শুরুর ভুলের ‘প্রায়শ্চিত্ত করে’ দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস। কর্নারে বেলিংহ্যামের মাথা ছুঁয়ে আসা বল গোলমুখ থেকে টোকায় আসরে নিজের ১১তম গোলটি করেন তিনি।
প্রতিপক্ষের চাপের মুখেই ৬৫তম মিনিটে আবার এগিয়ে যেতে পারতো ভালেন্সিয়া। তাররেগার সোজাসুজি হেড ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান গন্সালেস, তবে আর কোনো বিপদ ঘটেনি। দু্ই মিনিট পর ফ্রান গার্সিয়ার পাস পেয়ে এমবাপের জোরাল শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট শট হয়।
তিন মিনিট পর আবার প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় রেয়াল। এবার এমবাপের কাটব্যাক পেয়ে ফেদে ভালভের্দের শট কোনোমতে আটকান মামারদাশভিলি।
অনেকটা একপেশে লড়াইয়েই এগিয়ে যেতে থাকে ম্যাচ। বারবার সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশ হতে থাকে রেয়াল।
শেষ সময়ে তাদের সব ব্যর্থতা আরও বড় হয়ে ওঠে। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সতীর্থের ক্রস পেয়ে নিখুঁত হেডে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান দুরো, আর পুরোপুরি যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায় বের্নাবেউ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে আগামী মঙ্গলবার আর্সেনালের মাঠে খেলবে রেয়াল। গুরুত্বপূর্ণ ওই লড়াইয়ের আগে এই পরাজয়ে দলটির আত্মবিশ্বাসে চোট লাগতে পারে।