ইংলিশ ফুটবল
ম্যানচেস্টার সিটি কোচের চোখে, কেভিন ডে ব্রুইনে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন।
Published : 04 Apr 2025, 09:29 PM
ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে যেতে পারেন কেভিন ডে ব্রুইনে, এ বিষয়ে তেমন জোরাল কোনো গুঞ্জন ছিল না। তাই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডের হঠাৎ চলে যাওয়ার ঘোষণা নাড়িয়ে দিয়েছে অনেককে। দলটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার কাছে ডে ব্রুইনের বিদায় একটা কষ্টের দিন।
২০১৫ সালে সাড়ে পাঁচ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ভলফসবুর্ক থেকে সিটিতে পাড়ি জমান ডে ব্রুইনে। সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন দলটির মাঝমাঠের সেনানী, সাফল্যের নায়ক। এখানে সাফল্যে ভরা ১০ বছরে ১৬টি শিরোপা জিতে, চলতি মৌসুম শেষে চলে যাওয়ার ঘোষণা শুক্রবার দেন তিনি।
সিটির জার্সিতে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, ২০২৩ সালে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ এবং দুটি করে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতেছেন ডে ব্রুইনে।
দলের জন্য দারুণ কার্যকর এই প্লেমেকারের প্রশংসা পূর্বে অসংখ্যবার করেছেন গুয়ার্দিওলা। তবে এবারের উপলক্ষ তো ভিন্ন। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ডে ব্রুইনেকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন বলে অভিহিত করলেন এই স্প্যানিশ কোচ।
“এটা এক কষ্টের দিন…গত দশকে আমাদের সাফল্যে তার অবদানের কথা আমাকে বলতে হবে না-তাকে ছাড়া এতকিছু কল্পনা করাও অসম্ভব।”
“দিনটা দুঃখের, কারণ আমাদের একটা অংশ আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে। যখন ভিনসেন্ট কোম্পানি চলে গিয়েছিল অথবা সের্হিও আগুয়েরো কিংবা দাভিদ সিলভা গিয়েছিল-এই খেলোয়াড়রা যারা এখানে অনেক বড় অবদান রেখেছে-এই দিনটা কষ্টের।”
অবশ্য মৌসুমের এখনও বেশ খানিকটা সময় বাকি আছে। প্রিমিয়ার লিগেই দলটির ম্যাচ বাকি আছে আটটি। এছাড়া এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে উঠেছে তারা। বাকিটা সময় ডে ব্রুইনেকে নিয়ে উপভোগ করতে চান কোচ।
“আমাদের এখনও ১০ ম্যাচ বাকি আছে, আশা করি ১১টি হবে, এর মধ্যে ছয়টি ঘরের মাঠে, যেখানে আমরা আমাদের সমর্থকদের সঙ্গে উপভোগ করতে পারব। এবং আমি নিশ্চিত, এই ম্যাচগুলোয় সে তার প্রাপ্য ভালোবাসা ও সম্মান পাবে।”
“প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এবং এই ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়দের একজন সে, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্লাবে গত ২০-৩০ বছরে যারা খেলেছে, তাদের প্রতি সম্মান রেখে কাউকে সেরা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়; তবে সে যে সেরাদের একজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
ডে ব্রুইনের থেকে তিনি কী শিখেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে গুয়ার্দিওলা বলেন, “তার অ্যাসিস্ট, তার গোল। মাঠের শেষভাগে (প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ও তার আশেপাশে) তার যে দূরদর্শিতা, তার কোনো বিকল্প নেই। সবাই মাঠে নানারকম পারদর্শিতা দেখাতে পারে, অ্যাসিস্ট করতে পারে; কিন্তু সেটা কত বছর ধরে, কত ম্যাচে, সেগুলোই একজনকে অন্যন্য করে তোলে।”
ডে ব্রুইনের জন্য সিটির দরজা সবসময় খোলা থাকবে, বার্তা দিয়ে রাখলেন গুয়ার্দিওলা।
“এখানে খেলোয়াড়দের ভালো পারফর্ম করতে হয় এবং কোচদেরও ভালো পারফর্ম করতে হয়। আর গত এক দশকে তার পারফরম্যান্স নিয়ে যেই আলোচনা করুক, অসাধারণ বলতে হবে।”
“আমরা অনেক শিরোপা জিতেছি এবং প্রতিটিতে সে যুক্ত ছিল। সে এই ক্লাবের অংশ। বাকি জীবনে তার জন্য এই ক্লাবের দরজা সবসময় খোলা। এই ক্লাবের পরিবারের একজন সদস্য সে।”
বছর দুয়েক ধরে অবশ্য চোটে ভুগতে হচ্ছে ডে ব্রুইনেকে। গত মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলতে পারেন মাত্র ২৬টি ম্যাচ। আর চলতি মৌসুমে মাত্র ১৯টি ম্যাচে শুরুর একাদশে দেখা গেছে তাকে।
গত গীষ্মে তার সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। তখন তিনি যেকোনো কিছুই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর, গত সেপ্টেম্বরে ঊরুর চোট থেকে সেরে ওঠার সময় চুক্তি মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনায় বিরতি দেন তিনি।
এরপর, এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় ডে ব্রুইনে বলেন, মৌসুম শেষে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে বিদায় নেবেন তিনি।
আগামী জুন-জুলাইয়ে ৩২ দলের নতুন ফরম্যাটে মাঠে গড়াবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ওই আসরে খেলবেন কি-না, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু জানাননি ডে ব্রুইনে।