ডে ব্রুইনের ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়ের শেষ হচ্ছে
পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করে ঠিকানা বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন বেলজিয়ান তারকা।
ম্যানচেস্টার সিটিতে কেভিন ডে ব্রুইনের দ্যুতিময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। বেলজিয়ান তারকা মিডফিল্ডার জানিয়ে দিলেন, আগামী মৌসুমে তাকে আর এই জার্সিতে দেখা যাবে না।
চলতি মৌসুমে দলের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। চোটের ছোবল আর ছন্দহীনতায় মৌসুম জুড়ে ভুগতে দেখা গেছে ডে ব্রুইনেকেও। পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করে শুক্রবার সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষে ঠিকানা বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন তিনি।
“সব গল্পের একটা শেষ আছে, তবে নিশ্চিতভাবেই এটা এর সেরা অধ্যায়। ফুটবল আমাকে আপনাদের কাছে এনেছে-এবং এই শহরে এনেছে। আমি আমার স্বপ্নকে তাড়া করেছি, এই অধ্যায় আমার জীবন বদলে দেবে, সেটা না জেনেই। (আর এটা করেছে) এই ক্লাব, এই শহর।”
“এই মানুষগুলো আমাকে সবকিছু দিয়েছে। বিনিময়ে তাদেরকে আমার সবকিছু দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এতে ভাবুন কী হলো-আমরা সবকিছু জিতলাম।”
ম্যানচেস্টার সিটির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা এবং ভুরি ভুরি সাফল্য অর্জনের পেছনে যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান, তাদের একজন ডে ব্রুইনে।
২০১৫ সালে ভলফসবুর্ক থেকে সিটিতে যোগ দিয়ে নিজেকে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে একদমই সময় নেননি ডে ব্রুইনে। পরের বছর পেপ গুয়ার্দিওলা দায়িত্ব নেওয়ার পর, তার কোচিংয়ে দলের মাঝমাঠের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন তিনি।
ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির জার্সিতে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও ২০২৩ সালে অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১৬টি শিরোপা জিতেছেন ডে ব্রুইনে। ‘প্রিয় ঠিকানায়’ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১৩ ম্যাচ খেলে ১০৬টি গোল করেছেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা।
গত চার মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে রেকর্ড গড়ে গুয়ার্দিওলার দল। সেই তারাই চলতি মৌসুমে ভীষণ ভুগছে। কোনোকিছুই যেন ঠিকঠাক হচ্ছে না তাদের। এর পেছনের বড় কারণ অবশ্য ডে ব্রুইনের চোট।
বছর দুয়েক ধরেই চোটে ভুগতে হচ্ছে তাকে। গত মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলতে পারেন মাত্র ২৬টি ম্যাচ। আর চলতি মৌসুমে মাত্র ১৯টি ম্যাচে শুরুর একাদশে দেখা গেছে তাকে।
গত গীষ্মে ডে ব্রুইনের সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। তখন তিনি যেকোনো কিছুই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর, গত সেপ্টেম্বরে ঊরুর চোট থেকে সেরে ওঠার সময় চুক্তি মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনায় বিরতি দেন তিনি।
এবার আর কোনো বিরতি নয়, শেষের বার্তাই দিয়ে দিলেন ডে ব্রুইনে। তবে বললেন, ক্যারিয়ারের তাগিদে ঠিকানা বদল হলেও এই ক্লাবের প্রতি তার ভালোবাসার কমতি কখনও হওয়ার নয়।
“আমাদের ভালো না লাগলেও, এখন সময় হয়েছে বিদায় বলার। (ডে ব্রুইনের তিন সন্তান) সুরি, রোম, ম্যাসন, (ডে ব্রুইনের স্ত্রী) মিশেল ও আমি এই ক্লাবের কাছে কৃতজ্ঞ, আমাদের কাছে এখানকার গুরুত্ব অনেক। ম্যানচেস্টার সবসময় আমার বাচ্চাদের পাসপোর্টে থাকবে-এবং এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের হৃদয়ে থাকবে।”
“এটাই সবসময় আমাদের ঠিকানা থাকবে। এই ১০ বছরের পথচলার জন্য এই শহর, ক্লাব, এখানকার স্টাফ, সতীর্থ, বন্ধুদের আমরা যতই ধন্যবাদ জানাই না কেন, তা যথেষ্ট নয়।”
