উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 30 May 2026, 06:15 PM
অনুশীলনে বরাবরই সবার আগে বা এক-দুই জনের পরে মাঠে আসেন ঋতুপর্ণা চাকমা। শনিবার সকালেও এর ব্যতিক্রম হলো না। গা গরমের পর তিনি ছুটলেন শুটিং ও উইং ধরে লম্বা পাস বাড়ানোর অনুশীলনে। মালদ্বীপের বিপক্ষে শুটিং ও ক্রসে যে খুঁত ধরা পড়ে, চেষ্টা করলেন তা নিখুঁত করার। কখনও সফল হলেন, কখনও ব্যর্থ।
ভারতের বিপক্ষে আসছে ম্যাচে দল যে তার দিকে মোক্ষম পাস বা ফিনিশিংয়ের জন্য তাকিয়ে থাকবে, এবং সেটা যে তিনি অনুভব করছেন, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল তার অনুশীলনের ধরনে।
তার প্রতি দলের চাওয়া ও আস্থা কতটা, সেটা আরও স্পষ্ট হলো কোচ পিটার জেমস বাটলারের কথায়। উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কাভার করতে ভারতের গোয়ায় আসা বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন ঋতুপর্ণার। কোচের দৃষ্টিতে ঋতুপর্ণা হলেন, তার দলের দুঃসময়ের ত্রাতা, ক্লান্তিকর ও ভোগান্তির সময়ে ইতিবাচকতা নিয়ে আসার উদ্দীপনা।
বাটলারের এমনটা মনে হওয়ার আছে নানা কারণ। ঋতুপর্ণা বাইরে কেবল প্রাণোচ্ছল, প্রাণবন্ত নন, মাঠের ভেতরেও তেমনি। বল পায়ে দারুণ কার্যকরীও।
২০২৪ সালে নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে ৮১তম মিনিটে দূরপাল্লার দৃষ্টিনন্দন শটে জয়সূচক গোলটি যেমন করেছিলেন রাঙ্গামাটি থেকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে উঠে আসা ঋতুপর্ণাই। ২-১ ব্যবধানের জয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে মুকুট ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ।
এবার আরব সাগরের পাড়ে বাংলাদেশ এসেছে সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমি-ফাইনাল খেলাও নিশ্চিত করেছে দল। যদিও গ্রুপের সবচেয়ে ‘দুর্বল’ মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪-২ গোলে জেতা ম্যাচে জালের দেখা পাননি ঋতুপর্ণা।
ওই ম্যাচেই ১১ সেকেন্ডে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পর, দূরপাল্লার শটে ঋতুপর্ণা চেষ্টা করেন একাধিকবার, কিন্তু গোল পাননি তিনি। তবে, জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে রোববার ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে দল যে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে, তা কোচের কথাতেই পরিষ্কার।
মালদ্বীপ ম্যাচে ঋতুপর্ণা গোল না পাওয়ায় হতাশ বাটলারও। তবে, ভারত ম্যাচের আগে এই উইঙ্গারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বাংলাদেশ কোচ যেন বার্তা দিতে চাইলেন, দলের দুঃসময়ে ঋতুপর্ণাকে ঠিকই পাওয়া যাবে।
“মালদ্বীপের বিপক্ষে ঋতুর দিনটি ভালো যায়নি। আপনারা জানেন, আরও কয়েকজনের দিনটি ভালো যায়নি। তবে এমন দিন আসতেই পারে। এগুলো সবই শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। আপনারা জানেন, আমার কাছে ঋতু সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার। তার অনেক সম্ভাবনা আছে, সে তরুণ এবং তার দারুণ দক্ষতা আছে।”
“তবে মাঝে মাঝে, মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই আসল কথা। তাকে দেওয়ার মতো অনেক সময় আমার হাতে আছে, আমি তার সাথে কাজ করা উপভোগ করি, সে যেন দলের কঠিন সময়ে ইতিবাচক উদ্দীপনা নিয়ে আসা এক খেলোয়াড়।”