Published : 01 Dec 2022, 08:43 PM
উরুগুয়ে ম্যাচে চোট পেয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন নুনো মেন্দেস, তার চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ। তখনই কিছুটা অনুমান করা যাচ্ছিল, গুরুতর ব্যথা পেয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই চোটই কাল হলো তার জন্য। কাতার বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন না পর্তুগালের এই ডিফেন্ডার।
তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও জেগেছে কিছুটা শঙ্কা। দলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট করে কিছু অবশ্য জানানো হয়নি। রয়টার্সের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারের অনুশীলনে ছিলেন না রোনালদো। জিমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
টানা দুই জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।
গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন পর্তুগিজ খেলোয়াড়রা। রোনালদোকে নিয়ে সতর্ক থাকতে চান দলটির কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। জানালেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড গোলদাতার খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।

ধারণা করা হচ্ছে, রোনালদো ফিট হলেও তাকে বিশ্রাম দিতে পারেন সান্তোস। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তেমন ইঙ্গিতই দিলেন পর্তুগাল কোচ।
“দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তার খেলার বিষয়টি ফিফটি-ফিফটি, দেখা যাক। আজ সে যদি অনুশীলন করতে পারে এবং সেখানে কেমন করে, তার ওপর বিষয়টা নির্ভর করছে। তার অবস্থা যদি ভালো থাকে…তাকে পাওয়া না গেলে অন্য পরিকল্পনা আছে।”
গত সোমবার উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে ঊরুতে চোট পান মেন্দেস। ৪০তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় পিএসজির এই ডিফেন্ডারের চোখ ছিল ছলছল।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সান্তোস নিশ্চিত করলেন, মেন্দেসের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে দলের সঙ্গেই থাকছেন তিনি।
“দুর্ভাগ্যবশত সে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। তবে সে চায় দলের সঙ্গে থাকতে। এটা তারই ইচ্ছা, তার ক্লাবও রাজি। সে এখানেই সেরে ওঠার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। আমাদের সঙ্গে থাকার তার প্রবল ইচ্ছা পুরো স্কোয়াডের মনের অবস্থাকে প্রতিফলিত করে।”
মেন্দেসের আগে বড় ধরনের চোট পান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো পেরেইরা। তার পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে গেছে। উরুগুয়ে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। কবে নাগাদ মাঠে ফিরবেন তা জানানো হয়নি। এছাড়া চোটে ভুগছেন দলটির মিডফিল্ডার ওতাভিও।
দলের বাকিদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ সান্তোস। তাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। যাতে শেষ ষোলোয় কিছু খেলোয়াড়কে একদম সতেজ অবস্থায় পেতে পারেন।
“খেলোয়াড়দের ওপর আমার পুরো আস্থা রয়েছে। এরই মধ্যে তিন জনকে আমি পাচ্ছি না। অন্যদের দেখা যাক। প্রতি চার দিনে ম্যাচ খেলা কঠিন। খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অবসাদ চেপে বসে। ক্লান্তি মানসিক চাপ তৈরি করে, আর মানসিক চাপের ফলে খেলোয়াড়রা চোটেও পড়ে।”
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে আগামী মঙ্গলবার নকআউট পর্বে খেলবে পর্তুগাল। আর রানার্সআপ হলে সোমবার। খেলোয়াড়দের সেরে উঠতে অতিরিক্ত একটি দিনের গুরুত্ব বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছেন সান্তোস। তাই গ্রুপ সেরা হয়েই পরের ধাপে যেতে চান তিনি।