অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
Published : 30 Jan 2026, 08:56 PM
বারবার ম্যাচের মোড় বদল হলো, পাল্টাল দৃশ্যপট; তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যচ্যুত হলেন না নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইয়ানিক সিনারের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেলেন সার্ব তারকা। মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে তার নতুন উচ্চতায় ওঠার সম্ভাবনাও আরও জোরাল হলো।
মেলবোর্ন পার্কে পুরুষ এককের প্রথম সেমি-ফাইনালের মতো দ্বিতীয়টিতেও লড়াই হলো দারুণ। আগেরটির মতো প্রতিটি সেটে অতটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই না হলেও, রোমাঞ্চ ছড়াল বেশ।
রড লেভার অ্যারেনায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে জিতে শিরোপার মঞ্চে পা রাখলেন ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ।
পেশাদার টেনিসের যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়লেন ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ।
প্রতিপক্ষ চোট পেয়ে ছিটকে পড়ায় ম্যাচ না খেলেই কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠেন রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী তারকা। শেষ আটেও ভাগ্য তার সহায় হয়। সেখানে লরেন্সো মুসেত্তির বিপক্ষে প্রথম দুই সেটে হেরে যান তিনি; তবে এরপর ওই ইতালিয়ান খেলোয়াড় চোট পেয়ে সরে দাঁড়ালে সেমি-ফাইনালে ওঠেন জোকোভিচ।
আর এবার, ৩৯তম জন্মদিনের কয়েক মাস আগে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তিনি। চার ঘণ্টা ৯ মিনিটের লড়াইয়ে আরও একবার দেখালেন, এই বয়সেও নিজের দিনে তিনি অপ্রতিরোধ্য।
২৪ বছর বয়সী সিনারের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জিতেছেন ম্যাচ, চোট শঙ্কা এড়িয়ে এই বয়সে এত সময় ধরে খেলেছেন; সবকিছু মিলে যেন বিশ্বাস হচ্ছে না এখানে রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচের।
“চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খেলেছি, পরাবাস্তব অনুভূতি হচ্ছে। ২০১২ সালের কথা মনে পড়ছে, যখন রাফায়েল নাদালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছিলাম, সেদিন ম্যাচটা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে হয়েছিল।"
“(সিনারের বিপক্ষে) লড়াইয়ের তীব্রতা ও মান ছিল অনেক উঁচুতে এবং (তার বিপক্ষে) জয়ের এটাই একমাত্র সুযোগ।”
ক্লান্তিকর লড়াই শেষে কোর্টে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের প্রশংসাও করেন জোকোভিচ। একটু মজাও করেন তিনি।
“আমার বিপক্ষে সে সবশেষ পাঁচ ম্যাচ জিতেছে। তার কাছে আমার ফোন নাম্বার আছে, আজ রাতে আমার নাম্বার পাল্টাতে হবে। কৌতুক বাদ দেই, নেটেই তাকে আমি বলেছি: আমাকে একবার জিততে দেওয়ায় ধন্যবাদ। অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা। সে আমাকে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে বাধ্য করেছে, এমন পারফরম্যান্সের জন্য তার প্রশংসা প্রাপ্য।”
২০২৩ সালের ইউএস ওপেনে সবশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় করেন জোকোভিচ। স্পর্শ করেন পুরুষ ও নারী মিলিয়ে এককে মার্গারেট কোর্টের সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড।
সেই থেকে প্রতিটা মেজর টুর্নামেন্টেই বিস্তর আলোচনা হয়, কোর্টকে তিনি ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কিনা। কিন্তু তা হয়নি, গত বছর তো চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেই তার পথচলা শেষ হয় সেমি-ফাইনালে। অবশেষে এবার উঠলেন শিরোপার মঞ্চে।
ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ কার্লোস আলকারাস। প্রথম সেমি-ফাইনালে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যাচে আলেক্সান্ডার স্ফেরেফকে ৬-৪, ৭-৬(৭-৫), ৬-৭(৩-৭), ৬-৭(৪-৭), ৭-৫ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এর ফাইনালে ওঠেন স্প্যানিশ তারকা।
বর্তমানের নাম্বার ওয়ান আলকারাসের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ৯ বারের দেখায় পাঁচবার জিতেছেন জোকোভিচ। সবশেষ দেখায় অবশ্য জয় আলকারাসের।