১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে’, মনে করেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নারী ফুটবলের সাফল্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের ব্যর্থতা, হামজা-শোমিতের মতো প্রবাসীদের আগমন এবং তৃণমূলের খেলাধুলাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

‘খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে’, মনে করেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
আমিনুল হক। ফাইল ছবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2026, 01:13 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

ফুটবলার থেকে রাজনীতিক হয়েছিলেন আগেই, এবার আমিনুল হক পেলেন আরও বড় দায়িত্ব। নতুন সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। নতুন দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে নারী ফুটবলের সাফল্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের ব্যর্থতা, হামজা-শোমিতের মতো প্রবাসীদের আগমণ এবং তৃণমূলের খেলাধুলাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি। 

আমিনুলের বলা অনেক কথার মধ্যে উঠে এলো খেলোয়াড়দের বঞ্চিত থাকার অতীত। খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে-স্পষ্ট উচ্চারণে কথাগুলো বললেন তিনি।

সংসদ ভবন চত্বরে মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির জন্য নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন আমিনুল। প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসায় ‘ক্রীড়া শিক্ষক’ নিয়োগ এবং এক্ষেত্রে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজন নিশ্চিতের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সরকারিভাবে ‘মাসিক বেতন’ এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও আছে তার।

‘আমরা চাই আমাদের যাতে কোনো জটের ভিতরে না পড়তে হয়, খেলাধুলাটা নিয়মিত হবে, সেটা আমাদের পুরুষ ফুটবল টিম বলেন, ক্রিকেট বলেন… সবক্ষেত্রেই। আমাদের নারীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে অন্যান্য স্পোর্টসে নারীদেরকেও সমানভাবে এগিয়ে রাখতে চাই। কারণ আমরা চাই আমাদের নারী এবং পুরুষ তারা সমানভাবে এগিয়ে যাবে।”

“আমার জায়গা থেকে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে আমরা খেলোয়াড়দেরকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগে রাখতে চাই। কারণ আমরা চাই, যদি আমার খেলোয়াড়রা ভালো থাকে, তাহলে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে। খেলোয়াড়রা যদি ভালো থাকে, পরিবেশ ভালো থাকবে। অবকাঠামো নয়, আমি আমাদের খেলোয়াড়দের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাই।”

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ‘বাধ্যতামূলক’ করা, ক্রীড়াপঞ্জি অনুসরণের পরিকল্পনা জানান আমিনুল। ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি অনান্য খেলাধুলাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীতাও তুলে ধরেন তিনি।

“আমাদের যে ফেডারেশনগুলো রয়েছে, ফুটবল, ক্রিকেট আর্থিকভাবে অনেক সচ্ছ্বল, কিন্তু অন্যরা আর্থিক দৈন্যতার কারণে ঠিকমত ইভেন্ট আয়োজন করতে পারে না। যারা কর্পোরেট হাউসগুলো রয়েছে, ইতিমধ্যে আমি কথা বলেছি কয়েকজনের সাথে এবং সরকারিভাবে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়ে, তাদের সাথে বসে প্রত্যেকটি ফেডারেশনকে কর্পোরেট হাউসগুলোর আওতায় এনে বার্ষিক একটি ক্যালেন্ডার আমরা তৈরি করব।”

মেয়েরা ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। ২০০৩ সালের পর ছেলেরা সাফের শিরোপা স্বাদ পায়নি। আমিনুলের চাওয়া আসছে সাফে যেন সে খরা ঘোচে।

“আমরা সেই ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমার নিজেরও একটা আফসোস রয়েছে যে ২০১০ সালে লাস্ট সাফ গেম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এরপরে কিন্তু ফুটবলে ছেলেদের কোনো সাফল্য নেই। শুধু আমাদের মেয়েরা ভালো ফুটবল খেলেছে। মেয়েদের দ্বারা অনেক সাফল্য আমরা পেয়েছি। আগামী সাফে ভালো কিছু করার জন্য আমার সরকারের পক্ষ থেকে, আমার পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আছে, সর্বোচ্চটুকু আমরা করব।”

ক্রীড়া সামগ্রীর ক্ষেত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমাতে দেশেই ‘স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করা, ক্রীড়াঙ্গনের অতীত সময়ের অস্থিতিশীলতা দূর করে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে একটি ‘পারিবারিক সম্পর্ক’ তৈরির উপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন আমিনুল।

“আমাদের ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক কিংবা ক্রীড়া সাংবাদিক যারা রয়েছেন, সকলেই একটি পরিবারের মতো। আমাদের সকলের উদ্দেশ্য কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেটা। এটাই তো মূল লক্ষ্য । তো এখানে ভেতরের বা বাইরের কেউ যদি দুষ্টামি কিংবা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে… আশা করি, ভবিষ্যতে সে সুযোগ তারা পাবে না। আমরা সকলেই একটি পরিবারের মতো ইনশাআল্লাহ একসাথে এগিয়ে যাব।”

নিজে সাবেক ফুটবলার বলেই প্রবাসী হামজা চৌধুরী-শোমিত সোমদের আগমণের সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ বাফুফেকে দিলেন আমিনুল। ফুটবলের প্রতি ‘পক্ষপাত’ নয়, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সব খেলার উপর সমান দৃষ্টি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

“দেখুন, আমি যেহেতু ফুটবলার… তবে শুধু ফুটবল নয়, সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আগাব। যেহেতু আমাদের ফুটবল... আমরা সম্প্রতি দেখেছি শেষ ছয়-সাত মাস বা এক বছরের মধ্যে হামজা চৌধুরী বা আরও অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড়দের আগমনের কারণে কিন্তু ফুটবলে অন্যরকম একটি প্রাণ ফিরে এসেছে। এটিকে কাজে লাগাতে হবে।”