Published : 05 Jun 2026, 01:33 PM
বোর্নমাউথের মতো নিচের সারির ক্লাবকে দারুণ লড়িয়ে করে তুলেছিলেন আন্দোনি ইরাওলা। এবার তার চ্যালেঞ্জ ওপরের সারির ক্লাবকে প্রত্যাশিত শিরোপায় রাঙানো। লিভাপুলের দায়িত্ব নিয়ে সেই প্রত্যয়ই শোনালেন স্প্যানিশ এই কোচ।
আর্না স্লটকে ছাঁটাই করার পরই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল, লিভারপুলের দায়িত্ব পেতে চলেছেন ইরাওলা। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সেটিও হয়ে গেল। ৪৩ বছর বয়সী কোচের সঙ্গে লিভারপুলের চুক্তি আপাতত দুই বছরের।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইরাওলা ছিলেন রাইট-ব্যাক। আথলেতিক বিলবাওয়ের একাডেমিতে বেড়ে উঠে পরে ‘বি’ দল হয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন তিনি। এই ক্লাবের হয়েই খেলেন ১২ বছর। পরে নিউ ইয়র্ক এফসিতে এক মৌসুম খেলে ২০১৬ সালে ইতি টানেন খেলোয়াড়ি জীবনের।
তার কোচিংয়ের অধ্যায় শুরু ২০১৮ সালে। উল্লেখযোগ্য ক্লাবের দায়িত্ব প্রথম পান ২০২০ সালে। রায়ো ভাইয়েকানোর ডাগআউটে ছিলেন তিনি তিন বছর। ২০২৩ সালে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পড়ি জমান বোর্নমাউথের দায়িত্ব নিয়ে এবং কোচ হিসেবে তার খ্যাতি বেশি ছড়িয়ে পড়ে এখানেই।
প্রথম মৌসুমে তার কোচিংয়ে প্রিমিয়ার লিগে দ্বাদশ হয় বোর্নমাউথ। পয়েন্ট পায় তারা ৪৮, যা ক্লাবের ইতিহাসে রেকর্ড। সেই রেকর্ড পেছনে পড়ে যায় পরের মৌসুমেই। ৫৬ পয়েন্ট পেয়ে নবম স্থানে থেকে শেষ করে বোর্নমাউথ, দুটিই ক্লাবের ইতিহাসের সেরা।
নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সেই পালা চলেছে এবারও। ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেয়ে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে এবার তার লিগ শেষ করেছে ষষ্ঠ স্থানে থেকে। প্রথমবার জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপা লিগে।

এমন সাফল্যের পরও গত এপ্রিলে ইরাওলা জানান, মৌসুম শেষেই ক্লাব ছাড়বেন তিনি। নতুন মৌসুমে তিনি শুরু করবেন নতুন অভিযান। বিবৃতিতে তিনি জানালেন, কাজ শুরু করতে তর সইছে না তার।
“লিভারপুলের প্রতি আকৃষ্ট হতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। লিভারপুল ইজ লিভারপুল।”
“অবশ্যই এখানকার পরিবেশ, সমর্থকেরা, ক্লাব, খেলোয়াড়েরা, শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের কোচিং করানোর সুযোগ, শিরোপার জন্য লড়াই করার সুযোগ (আকর্ষণ করেছে)। আমার মনে হয়, এর চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় আর কিছু হতে পারে না। এমনটা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই, শুরু করার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।”
বোর্নমাউথে দ্রুত আক্রমণকে কেন্দ্র করে হাই-প্রেসিং এবং আগ্রাসী ফুটবল শৈলী প্রয়োগের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ইরাওলা। এটির কারণেই মূলত তাকে কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে লিভারপুল। ইয়ুর্গেন ক্লপের কোচিংয়ে এই ঘরানার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই সাফল্য পেয়েছিল। ক্লাবের কিংবদন্তি মোহামেদ সালাহ এবার বিদায় নেওয়ার আগে অনুরোধ করে গেছেন, ক্লাব যেন সেই ঘরানার ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করে।
তবে ইরাওলার কাজটি হবে খুবই কঠিন। এমন একটি দলকে পুনরুজ্জীবিত করার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে তাকে, যারা গত মৌসুমে হোঁচট খেয়ে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছিল। সালাহর অনুপস্থিতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে, যিনি বছরের পর বছর ধরে ছিলেন লিভারপুলের গোলের প্রধান উৎস।
ইরাওলার কোচিং ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ও অগ্রগতিও এই দায়িত্ব। এটিই তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ক্লাব এবং কোচ হিসেবে তার সামর্থ্যের অগ্নিপরীক্ষা হবে এখানে।