Published : 25 May 2026, 11:58 AM
বিদায়ের ম্যাচে মাঠে মোহামেদ সালাহর কান্না দেখেছেন তো সবাই। চারপাশের আবহে ছিল আবেগের জোয়ার, তার চোখে অঝোরে ঝরছিল জল। লিভারপুলের কিংবদন্তির হৃদয়েও তখন চলছিল প্রবল বৃষ্টিপাত। তার নিজেরই উপলব্ধি, এই এক ম্যাচে যতটা কেঁদেছেন, সারা জীবন মিলিয়েও এত কান্না করেননি তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হয় লিভারপুলে সালাহর বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় অধ্যায়।
১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ৭৩তম মিনিটে যখন সালাহকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, গান গেয়ে তাকে অভিবাদন জানায় সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষেও সেই গান আর স্লোগানের পালা চলে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালাহ।
এই ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলকে বিদায় জানান ক্লাবের আরেক গ্রেট অ্যান্ডি রবার্টসন। বিদায় বেলায় দর্শকদের আবেগ-ভালোবাসায় ভেসেছেন তিনিও।
২০১৭ সালে একসঙ্গেই এই ক্লাবে পা রেখেছিলেন সালাহ ও রবার্টসন। ৯ বছর ধরে তারা ছিলেন ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুজনেই জিতেছেন একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ। ক্লাবকে নতুন উচ্চতায় তুলে নেওয়ায় দুজনেরই ছিল বড় অবদান।
ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টসকে সালাহ শোনালেন আবেগ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। তুলে ধরলেন তিনি রবার্টসনের কথাও।
“আমার মনে হয়, আমি আমার সারা জীবনের চেয়েও বেশি কেঁদেছি এই এক ম্যাচে। আমি আসলে খুব একটা আবেগপ্রবণ মানুষ নই। আমরা আমাদের যৌবন এখানেই কাটিয়েছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভাগ করে নিয়েছি। আমরা এই ক্লাবকে তার যোগ্য স্থানে ফিরিয়ে এনেছি। সে (রবার্টসন) সবার প্রিয় কারণ সে মাঠে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেয়। এজন্যই তারা তাকে ভালোবাসে।”
“লিভারপুল ছেড়ে যাওয়াটা বেশ ‘ট্রিকি’। সে (রবার্টসন) দলের জন্য এবং আমাদের সেই সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগ করে নিতে পারাটা আমার জন্য সত্যিই সম্মানের। দলের জন্য সে সবসময় ছিল। তার সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগ করে নিতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্য।”
বিদায় বেলায় পেছন ফিরে তাকিয়ে নিজের ও দলের অর্জন নিয়ে গর্বের কথা বললেন সালাহ।
“এটাই জীবন। আমি পেছনে ফিরে তাকাই আর ভাবি, যা অর্জন করেছি, তার চেয়ে বেশি কিছু চেয়েছিলাম কি না। আসলে তা নয়। আমরা সবকিছু জিতেছি। আমরা ভক্তদের ভালোবাসা দেখতে পাই এবং এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
“আমি এখান থেকে অনেক দূরে থাকব। প্রতিবারই আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ব। আশা করি, দল এই অবস্থানে থাকবে এবং সবকিছুর জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।”