Published : 02 Apr 2026, 06:00 PM
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে অভাবনীয় ভুলে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হলেও, সব শেষ হয়ে যায়নি এখনও। সাগরিকা-অর্পিতাদের সামনে আছে এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব পেরুনোর সুযোগ। তবে এবারের প্রতিপক্ষ আরও কঠিন, ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চীন। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে দল যেন চীন ম্যাচের জন্য সেরা প্রস্তুতি নিতে পারে, কোচিং স্টাফ সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রতিযোগিতাটিতে এবারই প্রথম খেলছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার তারা চীনের মুখোমুখি হবে। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে চীন। দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করা বাংলাদেশ আছে তৃতীয় স্থানে।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। ফলে প্রথম ম্যাচ হারলেও সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। গ্রুপের বাকি পথচলায় ঘুরে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার ব্যাংককের অ্যালপাইন ট্রেনিং সেন্টারে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় সহকারী কোচ আবুল হোসেন বলেছেন, মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়া মেয়েদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন তারা।
“এটা অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলা। মেয়েদের একটু ভুলে তাদের একটু মন খারাপ হবে। তাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আমরা বুঝিয়েছি যে, সবশেষ ম্যাচে যা হয়েছে, যে ভুলগুলি হয়েছে, ওটা বাদ। ওটা থেকে আমরা কী শিক্ষা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আমরা কী করব চীনের সাথে, সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত। বিগত ভুলগুলো শুধরে নিতে আমরা কাজ করব। ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, আমরা এভাবেই ভাবছি এবং খেলোয়াড়রাও সেভাবেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে।”
“আজকে এক দল রিকভারি করেছে এবং আরেক দলকে আমি অনুশীলন করিয়েছি। কোচ বলেছে আমরা গতকালকের ম্যাচটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, এটা নিয়ে আমাদের একটু কাজ হয়েছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করছি। সবশেষ ম্যাচে কী ভুল করেছি, সেটা নিয়ে আমরা আজকে কাজ করেছি এবং চীনের সাথে কীভাবে খেলব, সেই ভুলগুলি যেন না হয়, সেটার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।”
থাইল্যান্ড ম্যাচে জোড়া গোল করে বাংলাদেশকে জয়ের পথে রেখেছিলেন সাগরিকা। কিন্তু ডিফেন্ডাররা প্রতিপক্ষকে দুটি পেনাল্টি উপহার দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া হয়ে যায়। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস বলেন, প্রথম পেনাল্টির পর মেয়েদের ভেঙে পড়ার কথা। সাগরিকার কণ্ঠেও ফুটে উঠল একইরকম হতাশা।
“আসলে বলব না যে থাইল্যান্ড খারাপ (দল)। ওরা অনেক ভালো। আমরাও ভালো করেছিলাম প্রথমার্ধে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। তাই আমরা হেরে গেছি। দ্বিতীয়ার্ধে যখন দুই-একটা গোল খেয়ে ফেলি, তখন সবার মন-মানসিকতা একটু ডাউন হয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকেই এমন হয়েছে। আসলে সেখান থেকে আমরা চেষ্টা করছিলাম কামব্যাক করার, কিন্তু আমরা পারিনি।”
“প্রথম ম্যাচেই আমি দুইটা গোল করছি। অনেক ভালো লাগছিল। দল সমর্থন দিয়েছিল। সতীর্থরা যদি বল না দিত, তাহলে আমি গোল করতে পারতাম না...দল সমর্থন দিয়েছে বলে আমি গোল করতে পারছি। তো অনেক ভালো লাগতেছিল। কিন্তু ম্যাচটা হেরে যাওয়ার পর... (দীর্ঘশ্বাস)। তবে পরের ম্যাচের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত আছি। আমরা সবাই চেষ্টা করব ভালো কিছু করার জন্য, ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করে মাঠ থেকে ফিরব।”