Published : 23 May 2026, 11:20 AM
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো মাঠে নামলেই গোল করবেন। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আয়ের খেলায় সবাইকে টেক্কা দেবেন। দুটিই বলা যায় অবধারিত। এই ৪১ বছর বয়সেও মাঠের খেলায় তার ধার যেমন কমার আভাস নেই, তেমনি আয়ের খেলাতেও তিনি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রীড়াবিদ রোনালদো। এই নিয়ে টানা চতুর্থবার এবং মোট ছয়বার এই তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
এখানে অবশ্য চমকে কিছু নেই, বরং খুবই প্রত্যাশিত। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়কর, এজেন্ট ফি এবং অন্যান্য কর্তনের আগে গত এক বছরে আনুমানিক ৩০ কোটি ডলার আয় করেছেন রোনালদো।
আয়ের সিংহভাগই এসেছে আল নাস্র থেকে। সৌদি ক্লাবটিতে তার বর্তমান চুক্তি থেকে এসেছে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি ডলার। বাকি সাড়ে ৬ কোটি ডলার এসেছে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার ও মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে।
সম্প্রতি আল নাস্রের হয়ে সৌদি প্রো লিগ জিতেছেন রোনালদো এবং সেখানে তিনি রেখেছে বড় অবদান। শিরোপা জয়ের ম্যাচে গোল করেছেন দুটি। লিগে ৩০ ম্যাচে গোল করেছেন ২৮টি, যা আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
সর্বোচ্চ ১১ বার আয়ের তালিকায় শীর্ষে থেকে সবার রেকর্ডে ধরাছোঁয়ার বাইরে টাইগার উডস। ছয়বার সেরা হয়ে বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানকে স্পর্শ করলেন রোনালদো।
এবারের আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় নামটি একটু চমকপ্রদ। পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্যানেলো আলভারেসেরে বছরটা খুব একটা ভালো যায়নি। অবিসংবাদিত সুপার মিডলওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে টেরেন্স ক্রফোর্ডের কাছে হেরে তিনি ১-১ রেকর্ডে শেষ করেন। তবে এই স্বান্তনা পেতে পারেন যে, আয়ের তালিকায় আছেন তিনি দুই নম্বরে।
মেক্সিকোর ৩৫ বছর বয়সী বক্সারের আয় ১৭ কোটি ডলার। সেখানে বক্সিং রিং থেকেই এসেছে ১৬ কোটি ডলার। বাকি ১ কোটি ডলার স্পনসরশিপসহ অন্যান্য কার্যক্রম থেকে।
মূলত সৌদি আরবের ‘রিয়াদ সিজন’-এর সঙ্গে চুক্তির থেকেই বেশির ভাগ আয় তার হয়েছে। গত দশকের সবচেয় হাই-প্রোফাইল বক্সিং ইভেন্টের একটিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে গত সেপ্টেম্বরে ক্রফোর্ডের মুখোমুখি হন তিনি। এই লড়াইটি সরাসরি দেখেছেন ৭০ হাজারের বেশি দর্শক, নেটফ্লিক্সে দেখেছেন ৪ কোট ১০ লাখ দর্শক।
আলভারেসের পরের নামটি অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। রোনালদোর মতো লিওনেল মেসিও বৈশ্বিক তারকা। তবে মেসির আয়ের কাঠামো তালিকার অন্যদের থেকে বেশ আলাদা। গত বছর তার আয় ১৪ কোটি ডলার। সেখানে মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামির চুক্তি থেকে তার আয় ৭০ কোটি ডলার। এর পাশাপাশি, অ্যাডিডাস, অ্যাপল টিভি, মাস্টারকার্ড এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্টের মাধ্যমে মাঠের বাইরে আরও ৭ কোটি ডলার উপার্জন করেন তুমুল জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন জাদুকর।
এই তালিকার চার নম্বরে রয়েছেন রোনালদোর সমবয়সী লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের মহাতারকা লেব্রন জেমস, শিগগিরই যিনি এবং শীঘ্রই ‘আনরেস্ট্রিক্টেড’ ফ্রি এজেন্ট হতে যাচ্ছেন। ৪১ বছর বয়সী বাস্কেটবল তারকা যদি আগামী মৌসুমে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেটি হবে তার ২৪তম এনবিএ মৌসুম — তার ঐতিহাসিক ক্যারিয়ারকে আরও সুদৃঢ় করবে এই মাইলফলক।
জেমস তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং কোর্টের বাইরের আয় ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছেন। ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের সাথে অংশীদারিত্ব এবং নাইকি, ড্রাফটকিংস, রিচার্ড মিল ও অন্যান্যদের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে তিনি কোর্টের বাইরে থেকে কোর্টের চেয়ে প্রায় ৩ কোটি ডলার বেশি আয় করেন।
তার মোট আয় ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। কোর্টের বাইরে থেকে তার আয় সাড়ে ৮ কোটি ডলার, লেকার্সের সঙ্গে তার চুক্তির পরিমাণ ৫ কোটি ২৮ লাখ ডলার।
পাঁচ নম্বরে আছেন বেসবল তারকা শোয়েই ওতানি। লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের সুপারস্টার জাপানি তারকার আয় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, যদিও তার চুক্তি কাঠামো স্বাভাবিকের চেয়ে পুরোপুরিই ভিন্ন।
ডজার্সের সঙ্গে তার ১০ বছরের চুক্তি ৭০ কোটি ডলারের। তবে বেশিরভাগ অর্থই চুক্তির শেষের দিকে পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে ৩১ বছর বয়সী এই ডেজিগনেটেড হিটার ও পিচার এবারের পারিশ্রমিক পেয়েছেন স্রেফ ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তার আয়ের বাকি অংশ মাঠের বাইরে থেকে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জুড়ে ২০টিরও বেশি এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে।
এবারের তালিকার ৫০ নম্বরে আছেন ইয়াসিক সিনার। টেনিসের শীর্ষ তারকার আয় ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা ফোর্বসের তালিকায় রেকর্ড সর্বোচ্চ ন্যূনতম সীমা। গত বছর এটি ছিল ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ৫০ জন ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত আয় ক্রমাগত বেড়ে এবার ৪২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
এই বছরের তালিকায় ১৮টি দেশ ও আটটি খেলার ক্রীড়াবিদরা রয়েছেন, যাদের মধ্যে বাস্কেটবল থেকেই এসেছেন সবচেয়ে বেশি। যেহেতু এনবিএ-এর বেতন সীমা দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে, তাই উপার্জনের তালিকায় থাকা এবারের ২০ জন খেলোয়াড়ের (গত বছরের তুলনায় চারজন বেশি) সঙ্গে আগামী বছর হয়তো যোগ হবেন আরও বেশ কয়েকজন।
২০২৬ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ:
১. ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)- বয়স ৪১- খেলা ফুটবল- আয় ৩০ কোটি ডলার
২. ক্যানেলো আলভারেস (মেক্সিকো)- বয়স ৩১- খেলা বক্সিং- আয় ১৭ কোটি ডলার
৩. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)- বয়স ৩৮- খেলা ফুটবল- আয় ১৪ কোটি ডলার
৪. লেব্রন জেমস (যুক্তরাষ্ট্র)- বয়স ৪১- খেলা বাস্কেটবল- আয় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার
৫. শোয়েও ওতানি (জাপান)- বয়স ৩১- খেলা বেসবল- আয় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার
৬. স্টেফান কারি (যুক্তরাষ্ট্র)- বয়স ৩৮- খেলা বেসবল – আয় ১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার
৭. জন রাম (স্পেন) – বয়স ৩১- খেলা গলফ- আয় ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার
৮. কারিম বেনজেমা (ফ্রান্স) – বয়স ৩৮- খেলা ফুটবল- আয় ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার
৯. কেভিন ডুরান্ট (যুক্তরাষ্ট্র)- বয়স ৩৭- খেলা বাস্কেটবল- আয় ১০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার
১০. লুইস হ্যামিল্টন (ইংল্যান্ড)- বয়স ৪১- খেলা কার রেসিং – আয় ১০ কোটি ডলার
রোনালদো প্রথমবার এই তালিকার শীর্ষে উঠেছিলেন ২০১৬ সালে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছরের সেরা যারা:
২০১৬ – ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার
২০১৭ - ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার
২০১৮ – ফ্লয়েড মেওয়েদার জুনিয়র (বক্সিং) – ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার
২০১৯ – লিওনেল মেসি (ফুটবল) - ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার
২০২০- রদার ফেদেরার (টেনিস)- ১০ কোটি ৬৩ লাখ ডলার
২০২১- কনর ম্যাকগ্রেগর (মিক্সড মার্শাল আর্ট) – ১৮ কোটি ডলার
২০২২- লিওনেল মেসি (ফুটবল)- ১৩ কোটি ডলার
২০২৩- ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার
২০২৪- ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ২৬ কোটি ডলার
২০২৫- ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার
২০২৬- ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ফুটবল) – ৩০ কোটি ডলার