Published : 02 Jun 2026, 12:39 PM
দুনিয়াতে না থেকেও পর্তুগাল দলে আছেন দিয়েগো জটা। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাকে বলা হচ্ছে অদৃশ্য সঙ্গী। প্রয়াত ফুটবলার এখনও এই দলের প্রাণশক্তির উৎস হয়ে আছেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হুভেন নেভস বললেন, জটার প্রেরণাকেই বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিজ্ঞা করছেন তারা।
এমনিতে শক্তির গভীরতায় তাদের তল খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারকার ঝলকানি তাদের মতো এতটা তীব্র খুব কম দলেই। তার পরও কি বিশ্বকাপ জিততে পারবে পর্তুগাল? অতীত অভিজ্ঞতা আর নানা পারিপার্শ্বিকতায় তাদেরকে শীর্ষ ফেভারিটের তালিকায় হয়তো রাখছেন না অনেকেই।
কিন্তু নেভস দারুণ আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জটার প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ বাড়তি শক্তি জোগাবে তাদেরকে।
“আমরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলেছি এবং সবসময় আমরা একই কথা বলি।”
“মাঝে মাঝে বাড়তি শক্তি পাওয়ার জন্য কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার প্রয়োজন হয়। এটি এমনই একটি ব্যাপার হবে, যা নির্দিষ্ট মুহূর্তে আমাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে এবং আমরা যেখানে যেতে চাই, সেখানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।”
কোথায় পৌঁছতে চান, সেটিও সরাসরিই বলে দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
“আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো, জয়লাভ করা এবং বিশ্বকাপ (ট্রফি) হাতে নিয়ে ফেরা। ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য বেছে নেওয়া কঠিন, কারণ দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের সব মনোযোগ।”
বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্যটি এসেছে সেই ৬০ বছর আগে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতেই গিয়েই ১৯৬৬ আসরে তারা তৃতীয় হয়েছিল কিংবদন্তি ইউসেবিওর অসাধারণ পারফরম্যান্সে।
এরপর ২০০৬ আসরে লুইস ফিগোদের সোনালি প্রজন্ম অনেক আশা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়েই থামতে হয়। পরের ২০ বছরে আর সেমি-ফাইনালের মুখ তারা দেখতে পারেনি।
এই সময়ে ২০১৬ ইউরো জিতেছে তারা, উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছে দুই দফায়। কিন্তু বিশ্বকাপের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অধরাই রয়ে গেছে। এবার সেই ধারাই বদলাতে চান নেভসরা।
বড় মঞ্চের যে ওজন এবং প্রত্যাশার যে চাপ, সেসবকেও খুব বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না আল হিলালের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
“আমাদের জাতীয় দলের সব ফুটবলারই এই ধরনের চাপে অভ্যস্ত। সম্প্রতি আমাদের চারজন ফুটবলার (নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস এবং গন্সালো রামোস) দ্বিতীয়বারের মতো (পিএসজির হয়ে) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। আমরা তরুণ দল, কিন্তু অনেক অভিজ্ঞ দল।”
“আমরা এটাকে (চাপ) স্বাভাবিকভাবেই নিই। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের সেই যোগ্যতা আছে এবং আমরা পর্তুগালের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে পারি।”
গত বছর নেশন্স লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকারে নেভসের শটেই নিশ্চিত হয়েছিল পর্তুগালের শিরোপা। বিশ্বকাপেও এমন গোলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। যদিও জিততে চান নির্ধারিত সময়েই।
“ওই ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম, ওটা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর একটি—যদি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাও হয়।”
“এই বিশ্বকাপে যদি এমনটা আবার হয় এবং তা দলকে পরের রাউন্ডে যেতে বা এমনকি টুর্নামেন্ট জিততে সাহায্য করে, তাহলে সেটা দারুণ হবে। কিন্তু আমি ৯০ মিনিটের মধ্যেই জিততে চাইব, যাতে পেনাল্টি শুটআউটে যেতে না হয়। আমরা দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ।”