২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘একটা পরিবার হয়ে খেলতে হবে’, বললেন সাফজয়ী সাজেদা

দুই বছর আগে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ছাদ খোলা বাসে চেপে সেই আনন্দভ্রমণের স্মৃতি মনে পড়লে এখনও আবেগ পেয়ে বসে সাজেদা খাতুনের।

মোহাম্মদ জুবায়ের মোহাম্মদ জুবায়ের

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Oct 2024, 11:15 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:20 PM

দুই বছর আগে উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্মৃতি আজও নাড়া দেয় সাজেদা খাতুনকে। ওই সাফল্যের পর নানা টানাপোড়েনে অবশ্য দলছুট হয়ে পড়েন এই ফরোয়ার্ড। মাত্র ২০ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বলে দেন বিদায়ও। তবে আরেকটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দুয়ারে কড়া নাড়তেই স্মৃতির ডানায় চেপে বসলেন সাজেদা। 

চোট কাটিয়ে ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলে জায়গা পেয়েছিলেন সাজেদা। কিন্তু শতভাগ ফিটনেস না থাকায় খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি। তারপরও দুই বছর আগেই সেই ঈর্ষণীয় সাফল্য আজও দোলা দেয় তার মনে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপচারিতায় বর্তমান দল, তার মতোই অবসরে যাওয়া সিরাত জাহান স্বপ্না, আঁখি খাতুনের শূন্যতাসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে সাজেদা কথা বললেন মন খুলে। বর্তমান দলের প্রতি তার বার্তা-খেলতে হবে একটা পরিবার হয়ে। 

আরেকটা সাফ চলে এসেছে, একটু কী মনে হচ্ছে, মুকুট ধরে রাখার মিশনে থাকতে পারতেন…যদি ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতেন?

সাজেদা খাতুন: থাকতে পারলে তো অবশ্যই ভালো লাগত। কিন্তু অনেক দিন খেলেছি, কিন্তু সাফ জিতে আসার পর সবাই বলল ফিটনেস ঠিক করে ফেরার জন্য। এজন্য আমিসহ আরও অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছি। তবে এবার না থাকলেও গতবার মাঠে, হোটেলে, বিমানে, দেশে ফিরে ছাদ খোলা বাসে আমরা কত মজা করেছি! মিস করব, সবাইকে মিস করব।

আপনাদের ফিটনেসের ওই ইস্যু নিয়ে অনেক ধরনের কথা শোনা যায়। আসলে বিষয়গুলো কি ছিল? 

সাজেদা খাতুন: নেপাল থেকে ফিরে আমরা এখানে ওখানে ঘুরেছি, সংবর্ধনা নিয়েছি, এর আগে এক সপ্তাহও এভাবে কাটাইনি… কিন্তু ক্যাম্পে আসার পরই বলা হলো ফিটনেস নাকি একদম নষ্ট হয়ে গেছে। ওরাও এভাবে বলছে, আমরাও চলে আসছি।

শুধু মালদ্বীপের বিপক্ষে বদলি নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। সাফে সেরা একাদশে খেলতে না পারা নিয়ে কি ক্ষোভ ছিল?

সাজেদা খাতুন: ওই টুর্নামেন্টের আগে চোটে পড়েছিলাম। এরপর ফিট হয়ে ফিরেছিলাম দলে। উদ্বোধনী ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বদলি নামলাম। কিন্তু পরে সুযোগ পেলাম না। বদলি নেমে ওই ম্যাচে মিনিট দশেক খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম, এত অল্প সময়ে কীই বা দেখানোর ছিল। এটা নিয়ে ক্ষোভ ছিল না, তবে খারাপ লাগা ছিল।

যাই হোক, বর্তমান দল কেমন মনে হচ্ছে? এবার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি সম্ভব?

সাজেদা খাতুন: একটা ম্যাচ দেখলে বুঝতে পারব, টিম কত দূর যেতে পারবে। একটা বিষয় শুধু বলব, স্বপ্না (সিরাত জাহান) আপুর শূন্যতা কেউ পূরণ করতে পারবে না। হয়তো আঁখি (খাতুন) আপুর জায়গা পূরণ করতে পারবে, কিন্তু স্বপ্না আপুর অভাব কখনই পূরণ হবে না। স্বপ্না আপু থাকলে সবসময় আমাদের মনে হতো আমরা পারব।

বর্তমান দলের আক্রমণভাগে আপনার সতীর্থ সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার তো আছে। নতুন হলেও সাগরিকা ভালো করছে…

সাজেদা খাতুন:  আসলে স্বপ্না আপু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নিচে নামিয়ে এনে ক্লান্ত করে দিত, সেই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতাম। যত তরুণ হোক, সিনিয়র দলে থাকুক, স্বপ্না আপুর অভাব অপুরণীয়। রক্ষণে আঁখি আপুর অভাব আফিদা (খন্দকার) হয়ত পূরণ করতে পারবে। মাসুরা (পারভীন) আপু ও শামসুন্নাহার যদি সাহায্য করে তাহলে হয়তো পূরণ হবে। আঁখি আপু লং পাস দিতে পারত, সেট পিচে ভালো ছিল। কিন্তু স্বপ্না আপুর অভাব থেকে যাবে। তিনি থাকলে আমাদের আক্রমণভাগ শক্তিশালী হতো আরও।

তাহলে গতবারের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে করণীয়…

সাজেদা খাতুন: আমার মনে হয়, যদি সবাই শুরু থেকে মনোযোগ দেয়, একটা দল, একটা পরিবার হিসেবে ভাবে, তাহলে আমার মনে হয় এই দল পারবে। জুনিয়র খেলোয়াড় কয়েকজন ঢুকেছে, ওদের একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে, কেননা, প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে যাওয়ার স্নায়ুর চাপ থাকবে, এগুলো সামলে নিতে পারলে আমার বিশ্বাস এই দলও ভালো করবে।