Published : 01 Jan 2026, 07:04 PM
প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াতে যাচ্ছে সাফ উইমেন’স ফুটসাল। এই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলাদেশ দল গড়া হয়েছে মূল ফুটবলারদের নিয়ে, যেখানে ফুটসালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল সাবিনা খাতুনের। দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও, দুটি উইমেন’স সাফ জয়ী অধিনায়ক ফুটসাল নিয়েও শোনালেন আশার কথা।
কোচ সাইদ খোদারাহমি অবশ্য বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না। থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে এই ইরানি কোচ বরং গত দেড় মাস ধরে ফুটবলারদের ফুটসাল শেখাতে গিয়ে গলদঘর্ম দশা হওয়ার কথাই তুলে ধরলেন!
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এই সাত দল নিয়ে আগামী ১৩ জানুয়ারি ব্যাংককের নোন্থাবুরি স্টেডিয়ামে শুরু হবে আসরটি। মালদ্বীপকে এগিয়ে রেখে সাবিনা শোনালেন ভালো কিছু করার আশাবাদ।
“(প্রস্তুতি) বেশ ভালো আর ফুটসালের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা আছে। কেননা, আপনারা হয়তো জানেন যে, বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী ফুটবলার বিদেশের মাটিতে খেলেছিল, সেটা হচ্ছে আমি এবং আমি কিন্তু ফুটসাল খেলতেই গিয়েছিলাম। একারণে ফুটসাল আমার মনে অনেক স্মৃতির জায়গা তৈরি করেছে। যেহেতু নতুন ঘরানার খেলা আর দেশের স্বার্থে যাওয়া, তো থাইল্যান্ডে যদি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি, একটা ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারি, ফুটসালে পরবর্তী প্রজন্ম যারা আসবে, তাদের জন্য একটু মসৃণ হবে।”
“আসলে প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে আমাদের কোনো জানাশোনা নেই। তবে মালদ্বীপকে যদি দেখেন, আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি যে, ওরা বেশ অভিজ্ঞ এবং ওখানকার মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে। সেদিক দিয়ে আমাদের চেয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে। এবং ভারত বেশ কিছু কোয়ালিফায়ার্স খেলেছে ফুটসালে, তারা অবশ্যই সবসময় শক্তিশালী হয় এবং ওদের পরিকল্পনা সবসময় আগের থেকেই থাকে এবং বাকি টিমগুলো যারা আছে তারা আমাদের মতোই নতুন। তবে এক মাসের একটু বেশি সময় অনুশীলন করেছি, সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় যে আমরা ভালো কিছু করব।”
ফুটসালের এই প্রতিযোগিতা দিয়েই সেই আলোচিত ‘কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের’ পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন সাবিনা, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাতসুশিমা সুমাইয়া, মাসুরা পারভীনরা। ফুটসালে মনোযোগী হওয়ায় ফুটবলকে বিদায় বলার সময় হয়ে এলো কিনা, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন সাবিনা। উত্তরও তিনি দিলেন কৌশলী সুরে।
“আসলে ক্যারিয়ার কখন শেষ হবে, সেটা মনে হয় খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্ত নিলে বেটার হয় এবং এই জায়গাটাতে আমি আসলে খুবই…মানে বলতে পারেন একটু প্রফেশনাল যে, আমি আসলে কবে ফুটসাল ছাড়ব বা ফুটবল ছাড়ব, সে সিদ্ধান্ত আমি নিব। আমি যে ফুটসালে এখন কমিটেড, এরকমও কিছু না।”
“যেহেতু আমি আগে খেলেছি, অভিজ্ঞতা আছে, আমি খেললে যদি দেশের একটু ভালো হয় বা আমি যদি বাকি মেয়েদেরকে সাপোর্ট দিতে পারি তাহলে কেন যাব না? সেই জায়গা থেকে এটা বলার কিছু নাই যে, সাবিনা ফুটবল খেলবে না ফুটসালেই থাকবে বা ফুটসাল খেলবে না, আবার ফুটবলে ব্যাক করবে। আমার যেখানে আসলে প্রয়োজন মনে হবে, যেহেতু দুইটা খেলাই পারি, আমি চেষ্টা করব ওই জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার।”
কোচ সাইদ খোদারাহমি অবশ্য প্রস্তুতির কমতি, অনুশীলনের জন্য স্টেডিয়াম না থাকা, অল্প সময়ে ফুটবলারদের ফুটসালের নিয়ম-কানুন বোঝানোর সমস্যা, তুলে ধরলেন এগুলোই।
“প্রস্তুতির কথা বলতে গেলে, আপনাদের মনে থাকতে পারে, আমি দেড় মাস আগে এখানে এসেছিলাম বাংলাদেশের ফুটসালের উন্নয়নের জন্য। এটাই আমার বড় লক্ষ্য। এখন আমরা সাফে যাচ্ছি। তবে আমার একটি বড় অনুরোধ আছে-আমাদের একটি ফুটসাল স্টেডিয়াম প্রয়োজন। এখন দুটি জাতীয় দল (নারী ও পুরুষ) প্রস্তুত হচ্ছে, কিন্তু ঢাকার কিছু স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন ট্রেনিং করতে পারছি না, সেটি আমার কাছে বড় প্রশ্ন।”
“নারীদের ফুটসাল সম্পর্কে বলতে গেলে, আমাদের কোনো বিশেষ নারী ফুটসাল খেলোয়াড় নেই, সবাই ফুটবলার। তারা ফুটসালের নিয়মকানুনগুলো জানে না। আমার সহকর্মীদের জন্য সেগুলো তাদের শেখানো বেশ কঠিন হচ্ছে। বর্তমানে আমরা তাদের নিয়ম এবং ফুটসালের খুঁটিনাটিই শেখাচ্ছি।”