দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান চেপে ধরবে, জানতেন ভারত কোচ
আরও পাঁচ-ছয়টি গোল করতে না পারায় বেশ অখুশিও তিনি।
সহজ জয়ের পথে থেকে হঠাৎ খেই হারিয়ে পয়েন্ট হারাতে বসেছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ন্যূনতম ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারার স্বস্তি পেয়েছে ভারত। কিন্তু শেষ সময়ে দুটি গোল হজম করতে হওয়ায় খুশি হতে পারছেন না কোচ নওশাদ মুসা।
তবে ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বললেন, পাকিস্তান যে চেপে ধরতে চাইবে, জানতেন তিনি। দলকে এজন্য সতর্কও করেছিলেন।
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচ মুঠোয় নেয় ভারত। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও স্কোরলাইন থাকে ৩-০। এরপরই টপাটপ দুই গোল হজম করে বসে ভারত। শেষ পর্যন্ত তারা জিততে পারে ৩-২ গোলে।
কাঙ্ক্ষিত জয় মিললেও, যোগ করা চার মিনিটে দুই গোল খাওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না মুসা।
“হ্যাঁ, যেভাবে আমরা গোল দুটি হজম করেছি, তাতে আমি হতাশ। কিন্তু... দেখুন এটাই ফুটবল। আপনি গোল হজম করতে পারেন, আবার গোল করতেও পারেন। আমরা যত সুযোগ তৈরি করেছি, সেগুলো যদি গোল হতো তাহলে ম্যাচটি ৬, ৭ বা ৮টি গোল হতে পারত, তাই না? আর... আবারও বলছি, ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং পুরো ৯০ মিনিট ধরে মনোযোগী থাকা যে কতটা জরুরি, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
“আমি এটাকে একাগ্রতার অভাব বলব না। দেখুন, যখন আপনি ৩ বা ৪ গোলে এগিয়ে থাকবেন... দ্বিতীয় অর্ধে আমি যা দেখেছি... আমি জানতাম পাকিস্তান এবার আমাদের ওপর চেপে বসবে। কারণ ৩ গোলে পিছিয়ে থাকায় তারা নিশ্চিতভাবেই আমাদের চেপে ধরবে। আর এই সময়ে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, পেছনে নয়, সামনে বাড়াতে হবে।”
দুই গোল পাকিস্তান শোধ করে দেওয়ায় পয়েন্ট হারানোর শঙ্কাও কিছুটা পেয়ে বসেছিল মুসার। তবে, দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগগুলো নষ্ট না হলে এমন আশঙ্কায় পড়তে হত না, মনে করেন ভারত কোচ।
“দেখুন ম্যাচটা খারাপ ছিল না। খেলোয়াড়দের বুঝতে হবে যে পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এরপর শিথিল বা হালকা হওয়া যাবে না। যখন আপনি এত সুযোগ হাতছাড়া করবেন, আপনাকে এর মাশুল গুনতে হতে পারে। আর আমি জানি না, তাদের (পাকিস্তানের) হাতে যদি আরও ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় থাকত, তাহলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত কিনা।”
“প্রথমার্ধে আমরা যেভাবে খেলছিলাম, তাতে আমি আশা করছিলাম। আমরা যদি একই তীব্রতা বজায় রাখতাম বা একইভাবে সুযোগ তৈরি করতাম, তবে আমরা আরও বেশি গোল করতে পারতাম। ওইভাবে নির্দিষ্ট কোনো প্রত্যাশা ছিল না। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর এবং আমরা গোল পেতে শুরু করার পর, আমি অন্তত ৫ থেকে ৬টি গোল আশা করছিলাম।”
