স্প্যানিশ ফুটবল
Published : 16 Jan 2026, 05:34 PM
ব্যর্থতার দায়ে মৌসুমের মাঝপথে রেয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট থেকে শাবি আলোন্সো ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। ড্রেসিং রুমে কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্কের ঘাটতি কিংবা দুরত্ব নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শোনা গেছে আগে। ক্লাবটির গ্রেট ফুটবলার ও কোচ জিনেদিন জিদানও যেন তেমন কিছুরই ইঙ্গিত করলেন।
বায়ার লেভারকুজেনে অবিশ্বাস্য সাফল্যের এক মৌসুম পর, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গত মে মাসে রেয়ালের দায়িত্ব নেন আলোন্সো। ভীষণ কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কয়েকদিন পরই দলকে নিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপে পা রাখেন তিনি, যাত্রা যদিও সুখকর হয়নি তার ও রেয়ালের জন্য; সেমি-ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা।
এরপর, লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বড় পরাজয়ের তেতো স্বাদ পান আলোন্সো। এসব ব্যর্থতার মাঝে প্রায়ই আসতে থাকে নানারকম নেতিবাচক খবর; বিশেষ করে সহ-অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দে ও উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়রসহ সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচের সংঘাতের গুঞ্জন।
এসবের প্রেক্ষিতেই গত রোববার স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারের পরদিন পারস্বপারিক সমঝোতায় আলোন্সোর সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে রেয়াল মাদ্রিদ। এরপর থেকেই চলছে ক্লাবের সাবেক এই মিডফিল্ডারকে বরখাস্ত করার পেছনের কারণ নিয়ে আলোচনা।
হামিদু এমসাইদির ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে পেছনে ফিরে তাকালেন রেয়ালের সমর্থকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় জিদান। ২০১৬ সালে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি রেয়ালের দায়িত্ব নিয়ে যিনি দলটিকে সাফল্যের শীর্ষে তুলেছিলেন; তার কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম কোনো দল হিসেবে টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিলেন রেয়াল।
“আমার মনে আছে, সেই সময় আমরা এবরোর বিপক্ষে একটা ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ওই সময় রেয়ালের মূল দলকে কোচিং করানোর সুযোগ আসে। কাস্তিয়ায় (রেয়ালের ‘বি’ দল) কাজ শুরুর সময়, মূল দলকে কোচিং করানোর স্বপ্ন দেখতাম; কিন্তু দায়িত্বের শুরুতে তিন ম্যাচ হারের পর, ভেবেছিলাম হয়তো সব শেষ।”
“শুরুতে আমরা ৯টায় মাঠে আসতাম এবং ১১টায় শেষ করতাম। আমি জানতাম যে, কীসের মধ্যে আমি যোগ হতে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বের সেরা দল ছিল। খেলোয়াড়দের দেখার পর আমার মনে হলো, আমরা ভালোমতো কাজ করলে অসাধারণ সাফল্য পেতে পারি এবং সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। আমরা চাইনি, সব অনুশীলন সেশন একরকম হোক।”
রেয়ালের কোচ হিসেবে প্রথম মেয়াদে একটি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আরও কয়েটি শিরোপা জিতেছিলেন জিদান। তবে অবিশ্বাস্য ও টানা সেই সাফল্য আপনাআপনি ধরা দেয়নি।
“সেই সময় দল একটা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। শারীরিকভাবে খেলোয়াড়রা ভালো অবস্থায় ছিল না। আমাদের প্রথম করণীয় ছিল তাদের মধ্যে একটা ধারণার জন্ম দেওয়া যে, তাদেরকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সপ্তাহজুড়েই আমরা অনুশীলন করতে পারতাম, কারণ আমাদের কেবল লিগ ম্যাচ ছিল।”
“আমি চার অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনায় তাদেরকে জানালাম যে, তাদের থেকে আমি কী চাই এবং দেখতে চাই, তারা এতে নিবেদিত কিনা। তারা (পরিকল্পনামতো) পরিশ্রম করতে রাজি হলো এবং এতেই কাজ হলো; ক্লাবে আনন্দ ফিরে এলো, আমরা তাদের মধ্যে থেকেই নতুন করে প্রেরণা জাগিয়ে তুলেছিলাম। কাজ করো এবং উচ্ছ্বসিত হও। তাদেরকে আমরা ছুটতে অনুপ্রাণিত করেছিলাম। শারীরিক অনুশীলনই মূল।”
ওই সময় রেয়াল দলের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল বলেও জানালেন জিদান।
“তাদেরকে বলেছিলাম, এখন যদি আমরা আতলেতিকো ও বার্সার বিপক্ষে খেলি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই হারব। আমরা একসঙ্গে কাজ করলেই কেবল তাদেরকে হারাতে পারব এবং পরে সেটাই হয়। জানুয়ারিতে আমরা তাদের হারাতে পারতাম না, কিন্তু মৌমুমের শেষদিকে আমরা দুই দলকেই হারিয়েছিলাম, লা লিগায় বার্সাকে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদকে।”
এরপরই কোচিংয়ের মূল বিষয়গুলোর একটি উত্থাপন করেন জিদান। জানান, তার সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্কের ধরণও।
“রেয়াল মাদ্রিদে খেলোয়াড়রাই আসল। আমার মতে, এটাই একটা দলকে শক্তিশালী করে, আপনি (কোচ) খেলোয়াড়দের জন্যই সেখানে আছেন। এটা বুঝতে না পারলে আপনি এই পেশায় স্থায়ী হতে পারবেন না।”
“আমাদের কাজ তাদেরকে সহায়তা করা। আপনাকে দেখাতে হবে, যে আপনি তাদের জন্যই এখানে আছেন। কোচ কী কৌশল, কী নিয়ম প্রয়োগ করতে চায়, ড্রেসিং রুমের সবার সেটা গ্রহণ করতে হবে, কোচকেও তাদের পছন্দ করতে হবে। খেলোয়াড়দের যেসব কিছু মানতে বলা হচ্ছে, তারা যদি তাতে একমত না হয়-অনুশীলন, এবং সবকিছু-তাহলে সবসময়ই কিছু না কিছুর ঘাটতি থাকবে। আমার মনে হয়, তারা ওই সময় আমাদের সঙ্গে সবকিছুই খুব উপভোগ করেছিল।”