২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 02 Jun 2026, 08:30 AM
কেউ পায়ের কারিকুরিতে, কেউ বা গতিতে, কেউ আবার এই দুইয়ের মিশেলে কিংবা কেউ রক্ষণে দুর্দান্ত কার্যকারিতায় তারুণ্যেই ঝলক দেখিয়ে চলেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। ক্লাব ফুটবলে ইতোমধ্যে তারা প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে পেরেছেন, জাতীয় দলেও দিয়েছেন দুর্দান্ত কিছু করে দেখানোর আভাস। সেই সম্ভাবনাকেই এবার পূর্ণতা দেওয়ার পালা, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ- বিশ্বকাপে।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিভাধর তরুণ তারকাদের নিয়ে ফিফার বিশেষ আয়োজন বিশ্বকাপের বিস্ময়বালক। এই পর্বে আছেন স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি।
জন্ম তারিখ: ২২ জানুয়ারি, ২০০৭
দল: স্পেন ও বার্সেলোনা
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ২২ মার্চ ২০২৪, কলম্বিয়ার বিপক্ষে (১৭ বছর বয়সে)
পজিশন: সেন্টার-ব্যাক
বিশেষ দক্ষতা: টেকনিক, নিচ থেকে আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়ার সামর্থ্য ও চাপের মধ্যেও শান্ত থাকার ক্ষমতা
কেন বিশ্বকাপের সেনসেশন হয়ে উঠতে পারেন কুবার্সি?
কয়েক মাস আগে ১৯ বছরে পা দিয়েছেন কুবার্সি। বয়স খুব বেশি না হলেও, স্প্যানিশ উদীয়মান তারকা এরই মধ্যে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে উঠেছেন। বর্তমান যুগে সেন্টার-ব্যাকদের ঠিক যত গুণ থাকা প্রয়োজন, তার মধ্যে যেন সবটাই বিদ্যমান। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল, সব জায়গায়ই নিজের জাত চিনিয়ে চলেছেন কুবার্সি।
বার্সেলোনা একাডেমি লা মাসিয়ায় বেড়ে উঠেছেন কুবার্সি। তার সামর্থ্য নজর কাড়ে দলটির সাবেক কোচ শাভি এর্নান্দেসের। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তার কোচিংয়েই ১৬ বছর বয়সে স্প্যানিশ ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হয় কুবার্সির।
সেই যে শুরু, এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন তিনি দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারদের একজন। যার প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানেও। বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২৬ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। দুটি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন পাঁচটি।
টানা দুই মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কুবার্সি। গত মৌসুমে ৩৫টি লিগ ম্যাচ খেলেন তিনি এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৬ ম্যাচ খেলে করেন একটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট। আর এবার লা লিগায় ৩১টিসহ মোট ৪৮ ম্যাচ খেলেন, গোল করেন একটি।
বার্সেলোনার হয়ে কেবল লা লিগা নয়, স্প্যানিশ কাপ, স্প্যানিশ সুপারকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন কুবার্সি।
স্পেনের হয়ে বয়সভিত্তিক প্রায় সব ধাপেই খেলেন তিনি। বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের ঠিক দুই মাস চার দিন পর, তার ক্যারিয়ারে আসে আরেকটি স্মরণীয় দিন। কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে নামান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকসে সোনা জয়ী স্পেন দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
এখন পর্যন্ত স্পেনের জার্সিতে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কুবার্সি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই তাকে পুরো সময় খেলান দে লা ফুয়েন্তে। গত মার্চে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও খেলেন কুবার্সি।
এবার বিশ্ব মঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কুবার্সির সামনে। বৈশ্বিক আসরে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন তিনি, সেটা সময়ের হাতে তোলা।
কোচ ও সাবেকদের চোখে কুবার্সি
“আমার কাছে, সে অপরিহার্য। প্রতিপক্ষ যখন আক্রমণ করে, সে সবসময় সেরা সিদ্ধান্তটাই নেই। বল কখন মাঝমাঠে পাঠাতে হবে সে জানে এবং সেটা খুব ভালোভাবেই করে। সে খুব দ্রুত রিকভার করতে পারে এবং বল দখলের লড়াইয়ে জয়ী হয়। তাকে দেখে মনেই হবে না, তার বয়স কেবল ১৭।”
- শাভি এর্নান্দেস, বার্সেলোনার সাবেক কোচ
“বয়স বিবেচনায় তারা (কুবার্সি ও ইয়ামাল) ব্যতিক্রমী প্রতিভার উদাহরণ। বার্সেলোনার মতো ক্লাবে খেলার যে চাপ, সেটা সামলানোর সামর্থ্য তাদের আছে। পাশাপাশি তাদের অসাধারণ ফুটবলীয় মেধা তো আছেই। তারা এখন এমন সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলছে, যারা নিজেদের ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
- ডেকো, বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর
“কুবা (কুবার্সি) যেভাবে রক্ষণ সামলায়, তা দেখতে অসাধারণ লাগে। সে তরুণ, বয়স কেবল ১৯, কিন্তু তার মান অসাধারণ। পারফরম্যান্সের বিচারে সে লামিনে ইয়ামালের সমপর্যায়ের। তাকে পেয়ে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান। এই বয়সেই সে কতদিন ধরে এই পর্যায়ে খেলছে, খেয়াল করলে (অবাক হতে হয়)। তাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।”
- হান্সি ফ্লিক, বার্সেলোনা কোচ
“আমার মতে, পাউ অসাধারণ খেলোয়াড়, যার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। আমার বিশ্বাস, আগামী বহু বছরের জন্য আমরা একজন সেন্টার-ব্যাক পেয়ে গেছি। সে যা অর্জন করছে, তা সত্যিই চমৎকার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সে কী দারুণ পারফর্ম করছে। আমার মনে হয়, আগামী ১৫ বছরের জন্য আমরা একজন ডিফেন্ডার পেয়ে গেছি…সে সত্যি একজন পরিপূর্ণ খেলোয়াড়।”
- কার্লোস পুয়োল, বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক
কুবার্সির সম্ভাব্য বিশ্বকাপ অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে পড়েছে স্পেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে কেপ ভার্দ, সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে পেয়েছে তারা।
আটলান্টায় আগামী ১৫ জুন নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করবে স্পেন। একই মাঠে ২১ জুন সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে তারা। আর উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়বে তারা গুয়াদালাহারায়, ২৬ জুন।