ভারোত্তোলন
Published : 12 Apr 2026, 04:37 PM
গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ডোপ পরীক্ষার জন্য মাবিয়া আক্তার সীমান্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। সে পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল এসেছে। তাতে শাস্তির খড়গও নেমে এসেছে সোনাজয়ী এই ভারোত্তোলকের উপর। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা ওয়াডা দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে মাবিয়াকে।
নিষেধাজ্ঞার চিঠি এসেছে গত বৃহস্পতিবার। গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর নেওয়া নমুনার পরীক্ষায় মাবিয়ার শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। যে ওষুধ মূলত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু এই ওষুধ ওয়াডার তালিকায় নিষিদ্ধ।
গত বছরের নভেম্বরে রিয়াদের এই টুর্নামেন্টের আগে মাবিয়ার পায়ে পানি জমতে শুরু করে। এ কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই ভারোত্তোলক তুলে ধরলেন ঘটনাপ্রবাহ।
“টুর্নামেন্টের আগে পায়ে পানি জমতে শুরু করেছিল। এমনও হয়েছে, সিরিঞ্জ দিয়ে সেই পানি বের করতে হতো। আমাদের ভারোত্তোলকদের আর্থিক অবস্থা তো সবাই জানেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায়, কিন্তু আর্থিক কারণেই আমি দেশে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি তো আর জানি না, কোন ওষুধ নিষিদ্ধ। যে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিয়েছি…সব প্রেসক্রিপসন আমার কাছে আছে। আমি বিওএ’তে (বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন) সেগুলো আগেও দিয়েছি।”
“আমাদের যে এন্টি ডোপিং সেমিনার হয়, সেখানেও আমাদের সবসময় বলা হয়, ডাক্তারের প্রেসক্রিপসনের বাইরে ওষুধ না খেতে। আমিও সেটা অনুসরণ করেছি। কেননা, আমার তো জানার কথা নয়, কোনটাতে কোন সমস্যায় পড়তে পারি। আমি লুকিয়ে কোনো ওষুধ খাইনি। অথচ, এখন আমার উপরেই নিষেধাজ্ঞা এলো।”
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা নিয়েও দোটানায় মাবিয়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশেকে দারুণ সব মুহূর্ত এনে দেওয়া এই ভারোত্তোলক এখন তাকিয়ে আছেন বিওএর দিকে।
“আপিল করার কথা ভেবেছি, কিন্তু আর্থিক দিকও ভাবতে হচ্ছে। আপিল লড়ে যাওয়া ব্যয়বহুল বলে জানি। এখন এই খরচ যদি বিওএ দেয়, তাহলে আমার পক্ষে লড়ে যাওয়া সম্ভব। আমার তো এত আর্থিক সামর্থ্য নেই। যদি আমাকে সব খরচ বহন করতে হয়, তাহলে হয়তো আপিল করতে পারব না। সেক্ষেত্রে শাস্তি বহন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না আমার।”
২০১২ সালে জাতীয় দলে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়া এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঁচবার সোনা এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে (দক্ষিণ এশিয়ান গেমস) টানা দুবার সোনা জেতেন তিনি।