২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

৫-৪ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই এনরিকের কোচিং ক্যারিয়ারের ‘সেরা ম্যাচ’

এমন শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই আগে কখনও দেখেননি পিএসজি কোচ।

৫-৪ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই এনরিকের কোচিং ক্যারিয়ারের ‘সেরা ম্যাচ’
পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Apr 2026, 04:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণে রোমাঞ্চ-উত্তেজনার পারদ স্পর্শ করেছে চূড়া। এমন শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের সাক্ষী আগে কখনও হননি লুইস এনরিকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারের দ্বৈরথটিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ বলছেন পিএসজি কোচ।

প্যারিসে মঙ্গলবার সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্নকে ৫-৪ গোলে হারায় পিএসজি। গোল বন্যার ম্যাচে এক পর্যায়ে ৫-২ বলে এগিয়ে থেকে বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় শিরোপাধারীরা। কিন্তু জার্মান চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেটা হয়নি।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই হয় পাঁচটি গোল। ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকে বিরতিতে যায় পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও দুই গোল করে বড় জয়ের আশায় ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয় বায়ার্ন। দুটি গোল শোধ করে ব্যবধানটা এক গোলে নামিয়ে আনে দলটি।

পাগলাটে এই লড়াই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের এক লেগে এত গোল আর দেখা যায়নি। ইউরোপিয়ান কাপ যুগ হিসাবে নিলে ৯ গোল যৌথভাবে সর্বোচ্চ, ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রেঞ্জার্স ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ শেষ হয়েছিল ৬-৩ গোলে।

স্পেন জাতীয় দল, বার্সেলোনার কোচিং করিয়েছেন এনরিকে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেস, নেইমারকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ নিয়ে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছেন তিনি। কিন্তু তার মতে, বায়ার্ন-পিএসজির ম্যাচটির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুরই তুলনা হয় না।

“এমন তীব্রতার ম্যাচ এর আগে কখনও দেখিনি। এখন ভুল খোঁজার সময় নয়, আমাদের সবাইকে অভিনন্দন জানানো উচিত।”

“আজকে জয় যেমন আমাদের প্রাপ্য ছিল, তেমনি ড্র করা কিংবা হারারও সম্ভাবনা ছিল। অসাধারণ একটি ম্যাচ ছিল। কোনো সন্দেহ ছাড়াই এটি আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ।”

পিএসজির হয়ে দুটি করে গোল করেন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া ও উসমান দেম্বেলে। অন্যটি জোয়াও নেভেস। আর বায়ার্নের চার গোল করেন চারজন- হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে, দায়ত উপামেকানো ও লুইস দিয়াস।

পুরো ম্যাচ জুড়েই যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ছিল, তাতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন এনরিকে।

“খুব ক্লান্ত অনুভব করছি, অথচ আমি এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি। খেলোয়াড়রা কেমন অনুভব করছে জানি না।”

ফিরতি লেগেও এমন আরেকটি ম্যাচের আশা করছেন তিনি।

“স্টাফদের জিজ্ঞাস করেছিলাম, ‘এই ম্যাচ জিততে কয়টা গোল দরকার?’ তারা বলেছিল, কমপক্ষে তিনটা। নিজেদের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখ আরও বেশি শক্তিশালী, তবে আমরা সেখানেও একই মানসিকতা নিয়ে খেলার চেষ্টা করব।”

আগামী বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগে লড়বে ফরাসি ও জার্মান দল দুটি।